ঢাকা ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুয়াকাটায় ফিস ফ্রাই রাস্তা নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ সরকারি বালু ব্যবহারে চাঞ্চল্য ঠিকাদারের মালমা দেয়ার হুমকিতে আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। অনিশ্চয়তা কাটিয়ে হাসিমুখে পরীক্ষার টেবিলে ৩৩ শিক্ষার্থী রাজশাহী চেম্বার নির্বাচনে ইমাম মেহেদীর বিশাল জয় ব্যবসায়ীদের আস্থার প্রতিফলন রাজশাহীর পদ্মা পাড়ে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য আতঙ্কে স্থানীয়রা আমিনবাজারে গ্যাস সংযোগ চালুর দাবিতে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে ভোগান্তিতে যাত্রীরা সাভার ও আশুলিয়ায় ডিবির বিশেষ অভিযানে বিপুল ইয়াবা ও হেরোইনসহ সাতজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার করে মানিকগঞ্জে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ শেষে হত্যা অভিযুক্ত পলাতক গণপিটুনিতে বাবা-চাচা নিহত হয়েছে আমিনবাজারে গ্যাস সংযোগ চালুর দাবিতে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে ভোগান্তিতে যাত্রীরা চট্টগ্রামে মামলার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রাইভেট কার উদ্ধার, চাকরিচ্যুত চালক গ্রেপ্তার মতিহারে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রূপা-১৬ পরিবারের মিলনমেলা

রাজশাহীতে গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পে অর্ধকোটি টাকার গরমিল হদিস নেই ১১১ টন চালের

রাজশাহী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ১৩৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
14 / 100 SEO Score
154

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ মিলেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রায় ৫৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৭৯ টাকার আর্থিক গরমিল এবং ১১১ মেট্রিক টন চালের হিসাব না মেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

তবে সরকারি এই অর্থ ও সম্পদের বিশাল অংকের গড়মিল নিয়ে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহীর পবা, চারঘাট, গোদাগাড়ী ও পুঠিয়া উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়াই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এছাড়া ভিজিএফ ও জিআর চাল বিতরণের ক্ষেত্রে অনেক স্থানে কোনো ভাউচার বা বৈধ নথিপত্র পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, অর্ধকোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ১১১ মেট্রিক টন চালের কোনো হদিস মিলছে না।

এই অনিয়ম সরাসরি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অব্যবস্থাপনাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ দপ্তরের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি নিয়ে কেন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে তা নিয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন।

অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত নন। পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি এবং বিস্তারিত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

 

উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এই অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহীতে গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পে অর্ধকোটি টাকার গরমিল হদিস নেই ১১১ টন চালের

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
14 / 100 SEO Score
154

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ মিলেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রায় ৫৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৭৯ টাকার আর্থিক গরমিল এবং ১১১ মেট্রিক টন চালের হিসাব না মেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

তবে সরকারি এই অর্থ ও সম্পদের বিশাল অংকের গড়মিল নিয়ে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহীর পবা, চারঘাট, গোদাগাড়ী ও পুঠিয়া উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়াই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এছাড়া ভিজিএফ ও জিআর চাল বিতরণের ক্ষেত্রে অনেক স্থানে কোনো ভাউচার বা বৈধ নথিপত্র পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, অর্ধকোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ১১১ মেট্রিক টন চালের কোনো হদিস মিলছে না।

এই অনিয়ম সরাসরি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অব্যবস্থাপনাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ দপ্তরের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি নিয়ে কেন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে তা নিয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন।

অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত নন। পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি এবং বিস্তারিত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

 

উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এই অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।