ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী মেট্রোপলিটন আদালতের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে সামারি ট্রায়াল কোর্টের অভিযানে ৪০ হাজার জরিমানা রাজশাহীতে গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পে অর্ধকোটি টাকার গরমিল হদিস নেই ১১১ টন চালের পাহাড়ের উন্নয়নে আপনাদের কে সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে পার্বত্য মন্ত্রী উলিপুর থানার বিশেষ অভিযানে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার ১ ধামরাইয়ে পাঁচটি অবৈধ ইটভাটায় ২৪ লাখ টাকা জরিমানা একটি ভাটার চিমনি ধ্বংস সাভার দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক খোরশেদ আলম শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ইরানে হামলায় ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা অংশগ্রহণ করছে সেন্টকম অদৃশ্য কাগজপত্রে সমবায় নিবন্ধন অফিস ও ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণে পুকুর সিন্ডিকেট চৌডালায় জমি নিয়ে উত্তেজনা: চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি সাংবাদিক ডেকে মানববন্ধনের অভিযোগ উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হুইলচেয়ার বিতরণ করলেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী

রাজশাহীতে গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পে অর্ধকোটি টাকার গরমিল হদিস নেই ১১১ টন চালের

রাজশাহী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
29

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ মিলেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রায় ৫৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৭৯ টাকার আর্থিক গরমিল এবং ১১১ মেট্রিক টন চালের হিসাব না মেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

তবে সরকারি এই অর্থ ও সম্পদের বিশাল অংকের গড়মিল নিয়ে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহীর পবা, চারঘাট, গোদাগাড়ী ও পুঠিয়া উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়াই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এছাড়া ভিজিএফ ও জিআর চাল বিতরণের ক্ষেত্রে অনেক স্থানে কোনো ভাউচার বা বৈধ নথিপত্র পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, অর্ধকোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ১১১ মেট্রিক টন চালের কোনো হদিস মিলছে না।

এই অনিয়ম সরাসরি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অব্যবস্থাপনাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ দপ্তরের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি নিয়ে কেন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে তা নিয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন।

অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত নন। পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি এবং বিস্তারিত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

 

উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এই অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহীতে গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পে অর্ধকোটি টাকার গরমিল হদিস নেই ১১১ টন চালের

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
29

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ মিলেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রায় ৫৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৭৯ টাকার আর্থিক গরমিল এবং ১১১ মেট্রিক টন চালের হিসাব না মেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

তবে সরকারি এই অর্থ ও সম্পদের বিশাল অংকের গড়মিল নিয়ে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহীর পবা, চারঘাট, গোদাগাড়ী ও পুঠিয়া উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়াই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এছাড়া ভিজিএফ ও জিআর চাল বিতরণের ক্ষেত্রে অনেক স্থানে কোনো ভাউচার বা বৈধ নথিপত্র পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, অর্ধকোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ১১১ মেট্রিক টন চালের কোনো হদিস মিলছে না।

এই অনিয়ম সরাসরি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অব্যবস্থাপনাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ দপ্তরের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি নিয়ে কেন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে তা নিয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন।

অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত নন। পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি এবং বিস্তারিত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

 

উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এই অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।