ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভারের স্ত্রী হত্যা মামলায় রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করে ছাত্রদলের নেতা রনিকে বাঘায় টিআর কর্মসূচির আওতায় কারিগরি ল্যাব উদ্বোধন করলেন ইউএনও শাম্মী আক্তার সাংবাদিক পরিচয়ে অটোচালকের ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ, প্রতারণা মামলার আসামি মিমুল গ্রেফতার তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিতেই সমৃদ্ধ হবে আগামী: বাঘায় স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রদর্শনী উলিপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা সাভারের লাশবাহী গাড়ি নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ও ঘাতক রনির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন লালপুরে পদ্মা নদীতে স্পিডবোটে যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার, বালুমহল নিয়ে সংঘর্ষের জের বাঘায় স্বপ্নসারথি কিশোরীদের আত্মনির্ভরশীল করতে হাঁস-মুরগি পালন ও টিকাদান প্রশিক্ষণ বাঘায় ১০ বিদ্যালয়ে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন কিশোরী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উদ্যোগ বাঘার নওটিকায় কৃষি জমিতে অবৈধ পুকুর খনন ইউএনও’র অভিযানে ভেকু অকেজো যন্ত্রাংশ জব্দ

রাজশাহীতে গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পে অর্ধকোটি টাকার গরমিল হদিস নেই ১১১ টন চালের

রাজশাহী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ২৭২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
296

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ মিলেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রায় ৫৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৭৯ টাকার আর্থিক গরমিল এবং ১১১ মেট্রিক টন চালের হিসাব না মেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

তবে সরকারি এই অর্থ ও সম্পদের বিশাল অংকের গড়মিল নিয়ে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহীর পবা, চারঘাট, গোদাগাড়ী ও পুঠিয়া উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়াই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এছাড়া ভিজিএফ ও জিআর চাল বিতরণের ক্ষেত্রে অনেক স্থানে কোনো ভাউচার বা বৈধ নথিপত্র পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, অর্ধকোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ১১১ মেট্রিক টন চালের কোনো হদিস মিলছে না।

এই অনিয়ম সরাসরি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অব্যবস্থাপনাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ দপ্তরের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি নিয়ে কেন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে তা নিয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন।

অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত নন। পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি এবং বিস্তারিত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

 

উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এই অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহীতে গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পে অর্ধকোটি টাকার গরমিল হদিস নেই ১১১ টন চালের

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
296

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ মিলেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রায় ৫৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৭৯ টাকার আর্থিক গরমিল এবং ১১১ মেট্রিক টন চালের হিসাব না মেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

তবে সরকারি এই অর্থ ও সম্পদের বিশাল অংকের গড়মিল নিয়ে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহীর পবা, চারঘাট, গোদাগাড়ী ও পুঠিয়া উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়াই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এছাড়া ভিজিএফ ও জিআর চাল বিতরণের ক্ষেত্রে অনেক স্থানে কোনো ভাউচার বা বৈধ নথিপত্র পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, অর্ধকোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ১১১ মেট্রিক টন চালের কোনো হদিস মিলছে না।

এই অনিয়ম সরাসরি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অব্যবস্থাপনাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ দপ্তরের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি নিয়ে কেন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে তা নিয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন।

অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত নন। পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি এবং বিস্তারিত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

 

উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এই অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।