ঢাকা ১১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন করে বরেন্দ্র প্রেস ক্লাব সভাপতিকে ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টা: আসামী সুরুজ আলী কারাগারে জননিরাপত্তা নিশ্চিতে নান্দাইলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক বৈঠক সংগ্রামী মায়ের পাশে জেলা প্রশাসন, গণশুনানিতে মানবিক দৃষ্টান্ত সাভারের লিঙ্গ বৈচিত্র্য জনগোষ্ঠীর উদ্যোক্তা ও চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয় বাঘায় একই বিছানায় স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ নান্দাইলের গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে ডিজিটাল পরিকল্পনার উদ্যোগ সেবা সহজ করতে অনলাইনে গণশুনানির আয়োজন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনে’র প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার পরদিনই গোদাগাড়ীর শীর্ষ ব্যবসায়ী আজাদ আটক শাপলার হাসি

রাজশাহীতে গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পে অর্ধকোটি টাকার গরমিল হদিস নেই ১১১ টন চালের

রাজশাহী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ৩২৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ মিলেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রায় ৫৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৭৯ টাকার আর্থিক গরমিল এবং ১১১ মেট্রিক টন চালের হিসাব না মেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

তবে সরকারি এই অর্থ ও সম্পদের বিশাল অংকের গড়মিল নিয়ে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহীর পবা, চারঘাট, গোদাগাড়ী ও পুঠিয়া উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়াই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এছাড়া ভিজিএফ ও জিআর চাল বিতরণের ক্ষেত্রে অনেক স্থানে কোনো ভাউচার বা বৈধ নথিপত্র পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, অর্ধকোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ১১১ মেট্রিক টন চালের কোনো হদিস মিলছে না।

এই অনিয়ম সরাসরি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অব্যবস্থাপনাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ দপ্তরের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি নিয়ে কেন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে তা নিয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন।

অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত নন। পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি এবং বিস্তারিত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

 

উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এই অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহীতে গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পে অর্ধকোটি টাকার গরমিল হদিস নেই ১১১ টন চালের

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ মিলেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রায় ৫৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৭৯ টাকার আর্থিক গরমিল এবং ১১১ মেট্রিক টন চালের হিসাব না মেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

তবে সরকারি এই অর্থ ও সম্পদের বিশাল অংকের গড়মিল নিয়ে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহীর পবা, চারঘাট, গোদাগাড়ী ও পুঠিয়া উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়াই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এছাড়া ভিজিএফ ও জিআর চাল বিতরণের ক্ষেত্রে অনেক স্থানে কোনো ভাউচার বা বৈধ নথিপত্র পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, অর্ধকোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ১১১ মেট্রিক টন চালের কোনো হদিস মিলছে না।

এই অনিয়ম সরাসরি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অব্যবস্থাপনাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ দপ্তরের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি নিয়ে কেন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে তা নিয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন।

অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত নন। পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি এবং বিস্তারিত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

 

উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এই অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।