চৌডালায় জমি নিয়ে উত্তেজনা: চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি সাংবাদিক ডেকে মানববন্ধনের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৯:০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ১৬১ বার পড়া হয়েছে
গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নে একটি জমিকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং তা ঘিরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সাংবাদিকদের ডেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানববন্ধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌডালা ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত জমিটি মার্চেন্ট নেভি ক্যাপ্টেন মেরিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন শাহ আলম নামে এক ব্যক্তি ২০১৫ সালে বৈধভাবে ক্রয় করেন।
ক্রয়ের পর থেকেই তিনি জমিটির ভোগদখলে করে আসছে। দীর্ঘদিন কোনো ধরনের বিরোধ না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হঠাৎ করেই জমিটি নিয়ে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, মতিন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি এবং তার সহযোগীরা জমিটিকে কেন্দ্র করে মার্চেন্ট নেভি ক্যাপ্টেন মেরিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন শাহ আলমের কাছে চাঁদা দাবি করেন।
নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ না দিলে জমি নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। তবে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা সাংবাদিকদের ডেকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন বলে দাবি করেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “জমিটি ২০১৫ সাল থেকে ক্যাপ্টেন শাহ আলম ভোগদখলে আছেন। হঠাৎ নির্বাচনের পর মতিনসহ কয়েকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তারা বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে সাংবাদিক ডেকে মানববন্ধন করেন।
এ বিষয়ে ক্যাপ্টেন শাহ আলম বলেন, “আমি ২০১৫ সালে জমিটি ক্রয় করি এবং তখন থেকেই নিয়মিতভাবে ভোগদখলে আসছি। আমার সব কাগজপত্র বৈধ ও হালনাগাদ রয়েছে। কোনো প্রকার অবৈধ দখল বা অনিয়মের প্রশ্নই ওঠে না। অথচ হঠাৎ করে একদল ভূমিদস্যু আমার কাছে চাঁদা দাবি করে।
আমি চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।” তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিক ডেকে মানববন্ধন করে আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আমি ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছি। যারা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রচার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভাবছি।” এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
কেউ কেউ বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই বলছেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত প্রশাসনিকভাবে নিষ্পত্তি না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মতিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এদিকে ছোট ভাই বদিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমরা দুই মাস আগে জমিটি ক্রয় করেছি, সে ক্রয় করেছে ১৫ সালে আপনি ক্রয় করেছেন দুই মাস আগে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ,সে অন্য দাগা মাটি বিক্রয় করেছি, আমি অন্য দাগে মাটি ক্রয় করেছি। এ বলে ফোন রেখে দেন।
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল বারিক বলেন দাতা ২০১৫ সালে ক্যাপ্টেন শাহ আলমে এক ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করে।এবং ক্যাপ্টেন শাহ আলম ভোগ দখল করে আসছে, জমির দাগে ভুল থাকায় জমির দাগের উপরে মামলা করেন, ক্যাপ্টেন শাহ আলম, কোট একটি আদেশ দেন দাগ সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত দাতা অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করিতে পারবেনা, বর্তমানে চলমান রয়েছে, এদিকে দাতা অন্য পক্ষের কাছে ২০ লক্ষ টাকার জমি আড়াই লক্ষ টাকা দিয়ে বিক্রি করেছে।
এ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তবে এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়।




















