সাভার পৌরসভায় ডিজিটাল ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্স ব্যবস্থাপনায় চরম ভোগান্তি
- আপডেট সময় : ০৯:২৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
সাভার পৌরসভায় ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করার উদ্যোগে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো সেবাগ্রহীতা। নতুন সফটওয়্যার চালুর পর পুরোনো গ্রাহকদের তথ্য খুঁজে না পাওয়া, লাইসেন্স নম্বর পরিবর্তন, ভাষাগত ত্রুটি, দীর্ঘসূত্রতা এবং সেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগে দিন দিন বাড়ছে পৌরবাসীর ক্ষোভ। একই সঙ্গে সফটওয়্যার নির্বাচন প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এবং নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
সরেজমিনে সাভার পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায়, ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্স শাখায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন সেবাপ্রার্থীরা। কিন্তু অপেক্ষার পরও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। পুরোনো ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে এসে অনেকেই জানতে পারছেন, নতুন সফটওয়্যারে তাদের আগের কোনো তথ্য সংরক্ষিত নেই। আবার অনেকের লাইসেন্স নম্বর পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ইংরেজিতে আবেদন করলেও লাইসেন্স ইস্যু হচ্ছে বাংলায়।
পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক ব্যবসায়ী বলেন, “গত ১০ বছর ধরে নিয়মিত ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করছি। এখন এসে শুনছি আমার কোনো রেকর্ড নেই। সব তথ্য আবার নতুন করে দিতে হবে। এটি ডিজিটাল সেবা নয়, বরং হয়রানির নতুন একটি ব্যবস্থা।”
অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ‘নিমেক্স সফটওয়্যার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে পৌরসভার সাবেক কর নির্ধারক নাজমুল আলমের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল আলম সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “পরে কথা বলব।”
পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছামসুদ্দিন বলেন, সফটওয়্যার পরিবর্তনের বিষয়ে মাসিক সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত। তিনি আরও জানান, সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মীর বেতনও পৌরসভা থেকে পরিশোধ করা হয়। তবে তথ্য নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, নতুন সফটওয়্যারটি আগের ডাটাবেজের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারছে না। ফলে যেমন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে, তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করছেন।
ট্রেড লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব বলেন, “এই সফটওয়্যারের কারণে আমরাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আছি। পুরো বিষয়টি পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে হয়েছে।”
ট্যাক্স আদায়কারী মিজানুর রহমানও বলেন, “নিমেক্স সফটওয়্যার নিয়ে আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি।”
এদিকে নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র, সম্পত্তির তথ্য, কর সংক্রান্ত তথ্য এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ডেটা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যাওয়ায় তথ্য নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংবেদনশীল সিস্টেম পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক মানের তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
সাভার উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন খান নঈম বলেন, “ডিজিটালাইজেশনের মূল উদ্দেশ্য হয়রানি কমানো। কিন্তু অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের কারণে যদি জনগণের দুর্ভোগই বাড়ে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।”
অভিযোগের বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক ভালো বলতে পারবেন।”
অন্যদিকে সাভার পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “নিমেক্স সফটওয়্যার দেশের আরও অনেক পৌরসভায় ব্যবহৃত হচ্ছে। নতুন সিস্টেমে কিছু ত্রুটি রয়েছে। সেগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে, যাতে জনগণকে আর ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।”
তবে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ডেটার নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।



















