জামালপুরে এমপি সুলতান মাহমুদ ও বিএনপি নেতা নুরুল ইসলামের গাড়ি ভাঙচুর
- আপডেট সময় : ০৩:০১:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
ইসলামপুরে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে এমপি ও বিএনপি নেতার গাড়ি ভাঙচুর, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ (বাবু) এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা থানা মোড়সংলগ্ন জেলা পরিষদ ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদের দুই মেয়ের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম (নবাব)-এর চলমান বিরোধের জেরেই এই ঘটনার সূত্রপাত। তবে গাড়ি ভাঙচুরের জন্য উভয় পক্ষই একে অপরের সমর্থকদের দায়ী করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যার পর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ ও বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম একসঙ্গে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বাংলোর প্রাঙ্গণে রাখা তাঁদের দুটি ব্যক্তিগত গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে গাড়ি দুটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
‘গাড়ি ভাঙচুরের নির্দেশ দিয়েছিলেন এমপির মেয়ে’—নুরুল ইসলামের অভিযোগ
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মলমগঞ্জ এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে তিনি ও সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে সংসদ সদস্যের বড় মেয়ের অনুসারী ছাত্রদল নেতা মো. হাসমত ও মো. হাসানের সঙ্গে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাকিলের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির মীমাংসা করেন।
নুরুল ইসলামের দাবি, শাকিল তাঁর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ওই ঘটনার বিষয়টি হাসমত ও হাসান সংসদ সদস্যের বড় মেয়েকে জানান। এরপর তিনি তাঁদের নুরুল ইসলামের গাড়ি ভাঙচুর এবং তাঁকে হেনস্তা করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ পেয়ে কয়েকজন জেলা পরিষদ ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে যান। সেখানে প্রথমে নুরুল ইসলামের গাড়ি ভেবে ভুল করে সংসদ সদস্যের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে ভুল বুঝতে পেরে নুরুল ইসলামের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
এমপির মেয়ে কেন এমন নির্দেশ দেবেন—এ প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম বলেন, সংসদ সদস্য শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তিনি ঠিকমতো চলাফেরা বা কথা বলতে পারেন না। এই সুযোগে তাঁর বড় মেয়ে উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন। বর্তমানে ছোট মেয়েও তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যের বরাদ্দে টিআর, জিআরসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় তিন কোটি টাকার কাজ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। তাঁর দাবি, এসব বরাদ্দ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়েছে এবং শুরু থেকেই তিনি এর প্রতিবাদ করে আসছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করলেন সংসদ সদস্য
নুরুল ইসলামের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ।
তিনি বলেন, তাঁর মেয়েরা সবসময় তাঁর সঙ্গে থাকেন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ তদারকিতে সহযোগিতা করেন। একজন ব্যক্তি যেন একাধিকবার সুবিধা না পান এবং প্রকল্পের উপকারভোগীদের তালিকা সঠিক থাকে, সেসব বিষয়েই তাঁরা নজর রাখেন। এর বাইরে তাঁদের কোনো ভূমিকা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, ওই সময় তিনি ডাকবাংলোতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং তাঁর মেয়েকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় বাইরে রাখা তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে জানতে পারেন, নুরুল ইসলামের গাড়িও ভাঙচুর হয়েছে।
তিনি বলেন, ডাকবাংলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তিনি ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতার গাড়ির রং একই হওয়ায় দুষ্কৃতকারীরা ভুলবশত নুরুল ইসলামের গাড়ি মনে করে প্রথমে সংসদ সদস্যের গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরে নুরুল ইসলামের গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















