বাঘায় পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই যুবককে ২ লাখ টাকা জরিমানা
- আপডেট সময় : ০২:৩৬:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ১১৯ বার পড়া হয়েছে
বাঘায় পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই যুবককে ২ লাখ টাকা জরিমানা
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার শিমুলতলা ঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে দুই যুবককে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরিবেশ ও নদী রক্ষায় পরিচালিত এ অভিযানে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাম্মী আক্তারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র প্রশাসনের নজর এড়িয়ে শিমুলতলা ঘাটের নিচে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। অনুমোদন ছাড়াই নদী থেকে বালু তোলার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তীরবর্তী এলাকা ও আশপাশের কৃষিজমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলে ঘটনাস্থলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় দুই যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের মোট ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাম্মী আক্তার বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ক্ষয়, কৃষিজমির ক্ষতি এবং পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নদী, পরিবেশ এবং জনস্বার্থ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, সরকারি অনুমতি ছাড়া কোথাও বালু বা মাটি উত্তোলন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন ও কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সময়োপযোগী এই অভিযানের ফলে অবৈধ বালু উত্তোলন অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা আশা করছেন। একই সঙ্গে পরিবেশ ও নদী রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।














