উলিপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারীদের পিছনে রেখেই দিবস পালন জনমনে ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৯:৫১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারীর অধিকার, মর্যাদা ও ক্ষমতায়নের বার্তা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। তবে কুড়িগ্রামের উলিপুরে দিবসটি পালনের একটি আয়োজনে নারীদের তুলনায় পুরুষদের উপস্থিতি বেশি থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার ৮ র্মাচ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে উলিপুরে আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন আবৃত্তি প্রশিক্ষক (KKCP) জিয়ন রায়হান। এতে সভাপতিত্ব করেন উলিপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার নার্গিস তোকদার, উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান বুলবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ, তথ্যসেবা কর্মকর্তা মনিরা খাতুন, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার মোঃ শরিফুল ইসলাম মোহাম্মদ, ব্র্যাক উলিপুরের এরিয়া ম্যানেজার মোঃ ফখরুল আলম ভূঁইয়া এবং ল্যাম্প হাসপাতালের টেকনিক্যাল অফিসার মোহাম্মদ ইলিয়াস আলী।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় মহিলা সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শংকর কুমার দেব শর্মা। সাধারণত আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কর্মসূচিতে নারী নেত্রী, জনপ্রতিনিধি, নারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নারী উদ্যোক্তা, কর্মজীবী নারী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নারী সদস্য, গৃহিণী ও শ্রমজীবী নারীদের অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে সফল নারীদের সম্মাননা প্রদান, আলোচনা সভা, র্যালি ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়ে থাকে। পুরুষরাও এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন, তবে নেতৃত্ব ও মূল গুরুত্বে নারীদের রাখাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
কিন্তু উলিপুরের এই আয়োজনে নারীদের তুলনায় পুরুষ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উপস্থিতি বেশি থাকায় অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নারী দিবসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে নারীদের সামনে এনে তাদের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও সাফল্যের কথা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত ছিল।
এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মহিম আল মোস্তাকুর বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানে নারীদের তুলনায় পুরুষদের উপস্থিতি বেশি ছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠানে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আয়োজন করা হয়েছিল। আমি শুধু সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলাম।” এদিকে সচেতন মহল ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নারী দিবসসহ নারীদের নিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।




















