বাঘায় ৭ম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী নিখোঁজ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০২:১২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের নিচ পলাশী ফতেপুর গ্রাম থেকে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) রাতে অপহৃত হওয়ার পর দীর্ঘ ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও কিশোরীর কোনো খোঁজ পাওয়া জায়নি ।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা গত ১৬ জুন (মঙ্গলবার ) বাঘা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অপহৃত কিশোরীর (১৪)। সে স্থানীয় চকরাজাপুর হাই স্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী এবং নিচ পলাশী ফতেপুর গ্রামের মোঃ বদর উদ্দিন মোল্লার (৬৫) মেয়ে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী মৃত আনছার দেওয়ানের ছেলে মোঃ বাক্কার দেওয়ান (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে ঝর্ণাকে উত্ত্যক্ত করাসহ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ঝর্ণা সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাক্কার তাকে অপহরণের হুমকি দেয়। বিষয়টি ঝর্ণা তার পরিবারকে জানালে তার বাবা বাক্কারের পরিবারকে অবগত করেন, কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ০৪ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে (ভিকটিম) নিজ বাড়ির সামনে অবস্থান করার সময় বিবাদী মোঃ বাক্কার দেওয়ান ও তার অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন সহযোগী জোরপূর্বক তাকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় মোঃ মিষ্টার (৪০) নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। নিখোঁজের পর পরিবার সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে বিবাদীর বাড়িতে খোঁজ নিতে গেলে বাক্কার দেওয়ানের দুই ছেলে ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর চড়াও হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৫ জুন বিকাল আনুমানিক ৪:০০ টার দিকে অভিযুক্ত বাক্কার দেওয়ান ভুক্তভোগীর বাবাকে ফোন করে জানায় যে, ভিকটিম তার কাছেই আছে এবং তাকে যেন আর খোঁজাখুঁজি না করা হয়। ভুক্তভোগী পিতা মোঃ বদর উদ্দিন মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আজ ১৭ দিন ধরে আমার মেয়ের কোনো খোঁজ নেই।
বাক্কার দেওয়ান ফোন করে মেয়ে তার কাছে আছে জানালেও এখন আমরা চরম আশঙ্কার মধ্যে আছি। সে আমার নাবালিকা মেয়ের বড় কোনো ক্ষতি করে ফেলতে পারে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার মেয়েকে দ্রুত সুস্থ শরীরে উদ্ধারের আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
এই বিষয়ে কিশোরীর পিতা আরও জানান, স্থানীয় আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সাথে আলোচনা শেষে নিরুপায় হয়ে বাঘা থানায় হাজির হয়ে মোঃ বাক্কার দেওয়ানসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
উক্ত বিষয়ে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ সেরাজুল হক জানান, বর্তমানে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে, মেয়েটির পরিবাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। আমরা ইতিমধ্যে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।



















