ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভারের মোফাজ্জল মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত বাঘার চকরাজাপুরে ২০০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ সাভারে নারী মাদক সিন্ডিকেটে আঘাত: ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ও ফেনসিডিলসহ দুই নারী কারবারি গ্রেপ্তার নান্দাইলে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন সভাপতির দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী আসন্ন বাঘা পৌর নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী মো কামাল হোসেন বাঘায় ফ্রি ফায়ার গেম ঘিরে সংঘর্ষে কুপিয়ে জখম ১ গ্রেপ্তার ফরিদ রাজশাহীতে দুই সাংবাদিকের ওপর নৃশংস হামলা সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি সাভার পৌরসভা ২ নং ওয়ার্ডে ঢাকা জেলা যুবদলের উদ্যোগে বংশী নদীতে মৎস্য অবমুক্তকরণ করে নান্দাইলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রথমবার এক টেবিলে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা জুলাই শহীদ জুবাইদের পরিবারের পাশে ছাত্রদল, পৌঁছে দিল তারেক রহমানের উপহার

ফুটবলার ও ক্রীড়াসংগঠক রণজিত দাস আর নেই

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৫৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
245

ফুটবল খেলোয়াড় ও ক্রীড়াসংগঠক রণজিত দাস আর নেই। আজ সোমবার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে সিলেটের তালতল এলাকার পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর সন্তান, নাট্যকার রীমা দাস প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রণজিত দাসের বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। রীমা দাস জানালেন, দীর্ঘদিন ধরেই রণজিত দাস বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি সর্দি-কাশি দেখা দিলে তাঁকে গত শনিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। মরদেহ নগরের করেরপাড়া এলাকার বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে এবং রাতের দিকে চালিবন্দর এলাকার শশ্মানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। এর আগে, শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মরদেহ চৌহাট্টা এলাকার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে।

সিলেটের এই গুণী খেলোয়াড় স্বাধীনতা-উত্তর এ উপমহাদেশে ক্রীড়াবিশ্বে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ফুটবলার হিসেবে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন। এছাড়া হকি ও ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসেবেও তাঁর সুনাম ছিল। ১৯৩২ সালের ২৯ অক্টোবর সিলেট শহরের জিন্দাবাজার কুড়িটুলা এলাকায় তাঁর জন্ম। পেশায় তিনি ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন।

রণজিত দাস ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান ফুটবল দলের গোলকিপার হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন। এই সময় তিনি দুবার জাতীয় দলের অধিনায়কও ছিলেন। ঢাকায় প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৫৭ সালে কলকাতার মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলেছেন।

২০০৭ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়া ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০০৬ সালে প্রথম আলো-গ্রামীণফোন আজীবন সম্মাননা এবং ২০০২ সালে ‘৫০-৬০ দশকের কৃতী ফুটবলার’ হিসেবে প্রথম আলো-স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের উদ্যোগে গুণীজন সংবর্ধনা পান।

ফুটবলের পাশাপাশি হকি খেলোয়াড় হিসেবেও রণজিত দাসের নাম সুপরিচিত। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান হকি দল ও প্রথম বিভাগ হকি লিগসহ নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।

ক্রীড়াবিশ্বে সংগঠক হিসেবে তাঁর অবদানও অমূল্য। তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সভাপতি, পূর্ব পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশনের ঢাকার নির্বাহী কমিটির সদস্য, ঢাকার আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল সম্পাদক ও কোচ, পূর্ব পাকিস্তান যুব ফুটবল দলের কোচসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

রণজিত দাসের জীবনের স্মৃতিচারণমূলক বই ‘ক্রীড়াঙ্গনের ফেলে আসা দিনগুলো’ (২০২৫) প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য পদক ও সম্মাননাও তিনি অর্জন করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফুটবলার ও ক্রীড়াসংগঠক রণজিত দাস আর নেই

আপডেট সময় : ০৮:০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
245

ফুটবল খেলোয়াড় ও ক্রীড়াসংগঠক রণজিত দাস আর নেই। আজ সোমবার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে সিলেটের তালতল এলাকার পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর সন্তান, নাট্যকার রীমা দাস প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রণজিত দাসের বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। রীমা দাস জানালেন, দীর্ঘদিন ধরেই রণজিত দাস বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি সর্দি-কাশি দেখা দিলে তাঁকে গত শনিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। মরদেহ নগরের করেরপাড়া এলাকার বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে এবং রাতের দিকে চালিবন্দর এলাকার শশ্মানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। এর আগে, শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মরদেহ চৌহাট্টা এলাকার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে।

সিলেটের এই গুণী খেলোয়াড় স্বাধীনতা-উত্তর এ উপমহাদেশে ক্রীড়াবিশ্বে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ফুটবলার হিসেবে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন। এছাড়া হকি ও ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসেবেও তাঁর সুনাম ছিল। ১৯৩২ সালের ২৯ অক্টোবর সিলেট শহরের জিন্দাবাজার কুড়িটুলা এলাকায় তাঁর জন্ম। পেশায় তিনি ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন।

রণজিত দাস ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান ফুটবল দলের গোলকিপার হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন। এই সময় তিনি দুবার জাতীয় দলের অধিনায়কও ছিলেন। ঢাকায় প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৫৭ সালে কলকাতার মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলেছেন।

২০০৭ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়া ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০০৬ সালে প্রথম আলো-গ্রামীণফোন আজীবন সম্মাননা এবং ২০০২ সালে ‘৫০-৬০ দশকের কৃতী ফুটবলার’ হিসেবে প্রথম আলো-স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের উদ্যোগে গুণীজন সংবর্ধনা পান।

ফুটবলের পাশাপাশি হকি খেলোয়াড় হিসেবেও রণজিত দাসের নাম সুপরিচিত। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান হকি দল ও প্রথম বিভাগ হকি লিগসহ নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।

ক্রীড়াবিশ্বে সংগঠক হিসেবে তাঁর অবদানও অমূল্য। তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সভাপতি, পূর্ব পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশনের ঢাকার নির্বাহী কমিটির সদস্য, ঢাকার আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল সম্পাদক ও কোচ, পূর্ব পাকিস্তান যুব ফুটবল দলের কোচসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

রণজিত দাসের জীবনের স্মৃতিচারণমূলক বই ‘ক্রীড়াঙ্গনের ফেলে আসা দিনগুলো’ (২০২৫) প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য পদক ও সম্মাননাও তিনি অর্জন করেছেন।