ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভারের মোফাজ্জল মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত বাঘার চকরাজাপুরে ২০০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ সাভারে নারী মাদক সিন্ডিকেটে আঘাত: ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ও ফেনসিডিলসহ দুই নারী কারবারি গ্রেপ্তার নান্দাইলে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন সভাপতির দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী আসন্ন বাঘা পৌর নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী মো কামাল হোসেন বাঘায় ফ্রি ফায়ার গেম ঘিরে সংঘর্ষে কুপিয়ে জখম ১ গ্রেপ্তার ফরিদ রাজশাহীতে দুই সাংবাদিকের ওপর নৃশংস হামলা সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি সাভার পৌরসভা ২ নং ওয়ার্ডে ঢাকা জেলা যুবদলের উদ্যোগে বংশী নদীতে মৎস্য অবমুক্তকরণ করে নান্দাইলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রথমবার এক টেবিলে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা জুলাই শহীদ জুবাইদের পরিবারের পাশে ছাত্রদল, পৌঁছে দিল তারেক রহমানের উপহার

গোদাগাড়ীতে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানির অভিযোগ

আবুল হাশেম রাজশাহী ব্যুরোঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ১২২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
150

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জুয়েল রানা ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর জামাতা।

৬ মে (বুধবার) দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে গোদাগাড়ী পৌরসভার রামনগর মহল্লার বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান উল্লেখ করেন, গত ৩ মে রোববার বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে সাদা পোশাকে এসআই জুয়েল রানা ও এএসআই মজনু মিয়া পৌরসভার বেলতলা মহল্লায় তার শ্বশুর বাবুল আখতারের বাড়িতে যান।

এসময় দুই পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আখতারকে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে উল্লেখ করে জাতীয় পরিচয়পত্র দাবি করেন। এনআইডি না দিলে তারা জোরপূর্বক মোবাইলে ছবি তোলেন এবং জরুরি ভিত্তিতে থানায় গিয়ে ওসির সাথে দেখা করতে বলেন।

এ সময় তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে চরম আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন বলে দাবি করা হয়। কামরুজ্জামানের দাবি, তার শ্বশুর বাবুল আখতার একজন শ্রমজীবী মানুষ। তিনি ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিক সরবরাহের ঠিকাদারি করেন এবং এলাকায় থাকেন না।

তিনি কখনোই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো জিডি বা মামলাও নেই। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা থানার ওসি আতিকুর রহমানের অনুমতি না নিয়ে বাড়িতে গিয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে এসআই জুয়েল রানার সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ‘থানায় গিয়ে সরাসরি কথা বলতে’ বলেন। সেই কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী কামরুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনার পর থেকে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।

যেকোনো সময় মাদক উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হতে পারে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা চাই।” এএসআই মজনু বলেন, আমাকে সেকেন্ড স্যার (এসআই জুয়েল) নিয়ে গেছে।আপনারা তার সাথে কথা বলেন এবং ওসির সাথে কথা বলেন। আমি কারও কাছে টাকা পয়সা চাইনি।

যা বলার সেকেন্ড স্যারকে ( এসআই জুয়েল) বলেন। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, আইডি কার্ড নিয়ে আমার সাথে দেখা করার জন্য আমি কাউকে কোনো নির্দেশ দেইনি।

এসআই জুয়েল কেন এমনটি করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে। তালিকাভুক্ত কারবারিদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে প্রচলিত নিয়মের বাইরে কাউকে থানায় ডাকার বিষয়ে আমার কোনো নির্দেশনা নেই।

পরে এসআই জুয়েলের সাথে থাকা এএসআই মজনুকে ডেকে শাষিয়েছেন ওসি।তিনি বলেন, যে কাজ দিয়েছি সেই কাজ করেন। আপনাদের বলেছি আমি যে, আমার সাথে দেখা করার কথা। যা বলেছি তাই করেন। বেশি কিছু কইরেন না। এসআই জুয়েল রানা বলেন, ওসি স্যারের নির্দেশ মাদক কারবারি থানায় ডাকা হয়েছিলো। আমি কারো নিকট অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গোদাগাড়ীতে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
150

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জুয়েল রানা ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর জামাতা।

৬ মে (বুধবার) দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে গোদাগাড়ী পৌরসভার রামনগর মহল্লার বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান উল্লেখ করেন, গত ৩ মে রোববার বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে সাদা পোশাকে এসআই জুয়েল রানা ও এএসআই মজনু মিয়া পৌরসভার বেলতলা মহল্লায় তার শ্বশুর বাবুল আখতারের বাড়িতে যান।

এসময় দুই পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আখতারকে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে উল্লেখ করে জাতীয় পরিচয়পত্র দাবি করেন। এনআইডি না দিলে তারা জোরপূর্বক মোবাইলে ছবি তোলেন এবং জরুরি ভিত্তিতে থানায় গিয়ে ওসির সাথে দেখা করতে বলেন।

এ সময় তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে চরম আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন বলে দাবি করা হয়। কামরুজ্জামানের দাবি, তার শ্বশুর বাবুল আখতার একজন শ্রমজীবী মানুষ। তিনি ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিক সরবরাহের ঠিকাদারি করেন এবং এলাকায় থাকেন না।

তিনি কখনোই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো জিডি বা মামলাও নেই। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা থানার ওসি আতিকুর রহমানের অনুমতি না নিয়ে বাড়িতে গিয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে এসআই জুয়েল রানার সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ‘থানায় গিয়ে সরাসরি কথা বলতে’ বলেন। সেই কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী কামরুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনার পর থেকে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।

যেকোনো সময় মাদক উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হতে পারে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা চাই।” এএসআই মজনু বলেন, আমাকে সেকেন্ড স্যার (এসআই জুয়েল) নিয়ে গেছে।আপনারা তার সাথে কথা বলেন এবং ওসির সাথে কথা বলেন। আমি কারও কাছে টাকা পয়সা চাইনি।

যা বলার সেকেন্ড স্যারকে ( এসআই জুয়েল) বলেন। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, আইডি কার্ড নিয়ে আমার সাথে দেখা করার জন্য আমি কাউকে কোনো নির্দেশ দেইনি।

এসআই জুয়েল কেন এমনটি করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে। তালিকাভুক্ত কারবারিদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে প্রচলিত নিয়মের বাইরে কাউকে থানায় ডাকার বিষয়ে আমার কোনো নির্দেশনা নেই।

পরে এসআই জুয়েলের সাথে থাকা এএসআই মজনুকে ডেকে শাষিয়েছেন ওসি।তিনি বলেন, যে কাজ দিয়েছি সেই কাজ করেন। আপনাদের বলেছি আমি যে, আমার সাথে দেখা করার কথা। যা বলেছি তাই করেন। বেশি কিছু কইরেন না। এসআই জুয়েল রানা বলেন, ওসি স্যারের নির্দেশ মাদক কারবারি থানায় ডাকা হয়েছিলো। আমি কারো নিকট অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করিনি।