ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভার পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হতে চান খোরশেদ আলম, মানবিক ও মাদকমুক্ত পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ সাভার মডেল থানা ওসি সাইফুল সাভার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে সড়ক দুর্ঘটনার শঙ্কা দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর প্রেমের সম্পর্কের পর ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তরুণীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জমকালো আয়োজনে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত বাঘায় পাকুড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সিরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত রাসুল (সা.) এর আদর্শে সমাজ গড়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সুমন সরকার রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট প্রধানমন্ত্রী গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত আহত ১ কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন

পুলিশের সামনেই আরডিএ কার্যালয়ে টেন্ডার বাক্স ছিনতাই

আবুল হাশেম রাজশাহী ব্যুরোঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬ ১৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীতে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের উপস্থিতিতেই টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। আরডিএ অফিস সুত্রে জানা যায়, বিভিন্ন পুরনো ও অচল মালামাল বিক্রির জন্য সম্প্রতি একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

এসব মালামালের মধ্যে ছিল বিলবোর্ড, গাছ, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি এবং লিফটের ভাঙা যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন উপকরণ। গত ২৭ এপ্রিল থেকে দরপত্র গ্রহণ শুরু হয় এবং মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারিত ছিল। শেষ দিনে টেন্ডার বাক্সের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন ছিল।পুলিশ এর উপস্থিতে কিছু সময়ের জন্য টেন্ডার বক্স নিয়ে যায় এবং ফেরত দেয়।

কিন্ত এদের সাথে কারা জরিত আমরা জানি না পুলিশ ভাল বলতে পারবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী দরপত্র জমা দিতে এসে আপত্তি তোলেন। তাদের দাবি ছিল, আগেই জমা পড়া দরপত্র বাতিল করতে হবে এবং শুধুমাত্র ওই দিনের দরপত্র গ্রহণযোগ্য হবে।

আরডিএ কর্মকর্তারা বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেও তারা তা মানেননি। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পুরো সময়জুড়ে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যত কোনো বাধা দেননি। এ সময় ঘটনাস্থলে কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীকেও দেখা যায়।

পরবর্তীতে দুপুর আড়াইটার দিকে টেন্ডার বাক্স খোলা হলে চারটি গ্রুপের বিপরীতে মোট নয়টি দরপত্র পাওয়া যায়। জানা গেছে, প্রায় আড়াই লাখ টাকার এসব মালামাল ক্রয়ের জন্য প্রায় ৪৫০ জন শিডিউল সংগ্রহ করেছিলেন।

এ বিষয়ে আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী কাজী আসাদুজ্জামান বলেন, পুলিশের সামনেই এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। জোরপূর্বক বাক্স খুলে দরপত্র বের করা হলেও সেগুলো সঠিকভাবে পুনরায় সংরক্ষণ করা হয়েছে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে বাক্সটি নেওয়া হয়েছিল এবং পরে তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরডিএ কর্তৃপক্ষ মামলা না করলে পুলিশ নিজ উদ্যোগেও ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পুলিশের সামনেই আরডিএ কার্যালয়ে টেন্ডার বাক্স ছিনতাই

আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

রাজশাহীতে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের উপস্থিতিতেই টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। আরডিএ অফিস সুত্রে জানা যায়, বিভিন্ন পুরনো ও অচল মালামাল বিক্রির জন্য সম্প্রতি একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

এসব মালামালের মধ্যে ছিল বিলবোর্ড, গাছ, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি এবং লিফটের ভাঙা যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন উপকরণ। গত ২৭ এপ্রিল থেকে দরপত্র গ্রহণ শুরু হয় এবং মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারিত ছিল। শেষ দিনে টেন্ডার বাক্সের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন ছিল।পুলিশ এর উপস্থিতে কিছু সময়ের জন্য টেন্ডার বক্স নিয়ে যায় এবং ফেরত দেয়।

কিন্ত এদের সাথে কারা জরিত আমরা জানি না পুলিশ ভাল বলতে পারবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী দরপত্র জমা দিতে এসে আপত্তি তোলেন। তাদের দাবি ছিল, আগেই জমা পড়া দরপত্র বাতিল করতে হবে এবং শুধুমাত্র ওই দিনের দরপত্র গ্রহণযোগ্য হবে।

আরডিএ কর্মকর্তারা বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেও তারা তা মানেননি। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পুরো সময়জুড়ে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যত কোনো বাধা দেননি। এ সময় ঘটনাস্থলে কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীকেও দেখা যায়।

পরবর্তীতে দুপুর আড়াইটার দিকে টেন্ডার বাক্স খোলা হলে চারটি গ্রুপের বিপরীতে মোট নয়টি দরপত্র পাওয়া যায়। জানা গেছে, প্রায় আড়াই লাখ টাকার এসব মালামাল ক্রয়ের জন্য প্রায় ৪৫০ জন শিডিউল সংগ্রহ করেছিলেন।

এ বিষয়ে আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী কাজী আসাদুজ্জামান বলেন, পুলিশের সামনেই এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। জোরপূর্বক বাক্স খুলে দরপত্র বের করা হলেও সেগুলো সঠিকভাবে পুনরায় সংরক্ষণ করা হয়েছে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে বাক্সটি নেওয়া হয়েছিল এবং পরে তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরডিএ কর্তৃপক্ষ মামলা না করলে পুলিশ নিজ উদ্যোগেও ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।