ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উলিপুরে বৃদ্ধের আত্মহত্যা, লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ছাতক নৌপথে চাঁদাবাজি, নৌ শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ রামেক হাসপাতালকে ‘ফ্যাসিস্ট ও সিন্ডিকেট মুক্ত’ করার দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন জয়পুরহাট জেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন,সভাপতি রফিক-সম্পাদক রেজা বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মই নিয়ম: সরকারি ঔষধ গায়েব, চিকিৎসায় ভরসা ড্রেসার বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন নুর উন নাহার বেগম বিচার বিভাগ গুম ও দুদকসহ বাদ পড়া বিষয়গুলো নিয়ে নতুন বিল আনা হবে রাতের আঁধারে রাজপাড়ায় পুকুর ভরাট প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস রাজশাহীতে নেসকোর বিল কাগজে ‘প্রিপেইড মিটার চেঞ্জ’ সিল: জনমনে ক্ষোভ কারিগরি শিক্ষার দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষামন্ত্রীর কড়া বার্তা

কারিগরি শিক্ষার দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষামন্ত্রীর কড়া বার্তা

আবুল হাশেম রাজশাহী ব্যুরো
  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
14 / 100 SEO Score
44

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সামনে পরীক্ষা। তাতে শিক্ষার্থীরা ফেল করলে ছয় মাস পর তিনিও ফেল করবেন—এ অবস্থায় কারও বাঁচার উপায় নেই। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’ সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।

তারা অভিযোগ করেন, নিয়মিত ক্লাস হয় না, হাতে-কলমে শেখার জন্য প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ নেই এবং ল্যাবের যন্ত্রপাতিও অনেক পুরোনো। এ সময় এক শিক্ষক জানান, পলিটেকনিকের প্রায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। এ ঝরে পড়া ঠেকাতে সরকারি উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

পাশাপাশি সাত বছর ধরে চাকরি করেও বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেন ১৯ জন শিক্ষক। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে আত্তীকরণের আশ্বাস দেন। আরেক শিক্ষক জানান, ১৯৬৩ সালে নির্মিত পুরোনো ভবনে ক্লাস ও ল্যাব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিষয়গুলো সঠিকভাবে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন।

তবে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সে অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সময় অপচয়ের সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি অভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বৈষম্যহীন একক শিক্ষা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হাতে-কলমে শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো দেশগুলো কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমেই উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে।

এ ধরনের শিক্ষা মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলূর রশীদ।

পরে শিক্ষামন্ত্রীসহ অতিথিরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল পরিদর্শন করেন। আয়োজক সূত্র জানায়, প্রতিযোগিতায় ২৮টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় এবং শিক্ষার্থীরা মোট ৮৪টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। এর মধ্যে থেকে ছয়টি প্রকল্প আগামী ২৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কারিগরি শিক্ষার দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষামন্ত্রীর কড়া বার্তা

আপডেট সময় : ০৫:৪০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
14 / 100 SEO Score
44

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সামনে পরীক্ষা। তাতে শিক্ষার্থীরা ফেল করলে ছয় মাস পর তিনিও ফেল করবেন—এ অবস্থায় কারও বাঁচার উপায় নেই। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’ সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।

তারা অভিযোগ করেন, নিয়মিত ক্লাস হয় না, হাতে-কলমে শেখার জন্য প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ নেই এবং ল্যাবের যন্ত্রপাতিও অনেক পুরোনো। এ সময় এক শিক্ষক জানান, পলিটেকনিকের প্রায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। এ ঝরে পড়া ঠেকাতে সরকারি উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

পাশাপাশি সাত বছর ধরে চাকরি করেও বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেন ১৯ জন শিক্ষক। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে আত্তীকরণের আশ্বাস দেন। আরেক শিক্ষক জানান, ১৯৬৩ সালে নির্মিত পুরোনো ভবনে ক্লাস ও ল্যাব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিষয়গুলো সঠিকভাবে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন।

তবে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সে অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সময় অপচয়ের সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি অভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বৈষম্যহীন একক শিক্ষা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হাতে-কলমে শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো দেশগুলো কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমেই উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে।

এ ধরনের শিক্ষা মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলূর রশীদ।

পরে শিক্ষামন্ত্রীসহ অতিথিরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল পরিদর্শন করেন। আয়োজক সূত্র জানায়, প্রতিযোগিতায় ২৮টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় এবং শিক্ষার্থীরা মোট ৮৪টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। এর মধ্যে থেকে ছয়টি প্রকল্প আগামী ২৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।