ধামরাইয়ে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ৫ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে পুলিশ
- আপডেট সময় : ১১:৪১:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার ধামরাইয়ে গৃহবধূ রূপা আক্তারের (২৫) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাটি দীর্ঘ পাঁচ মাস পর এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। দাফনের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আদালতের নির্দেশে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) বিকেলে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের রাঙ্গাপাড়া এলাকা থেকে এই মরদেহটি উত্তোলন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র ধামরাই ও আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য এবং কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত রূপা আক্তার ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের আমড়াইল রাঙ্গাপাড়া এলাকার মো. জাকির হোসেনের স্ত্রী ছিলেন।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৮ নভেম্বর রাতে ধামরাই উপজেলার ইসমাইল হোসেনের মালিকানাধীন একটি ভাড়া নেওয়া টিনশেড বাসা থেকে রূপা আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ। ঘটনার প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ এটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে ধারণা করলেও, শুরু থেকেই তা মানতে নারাজ ছিল নিহতের পরিবার।
নিহত রূপার পরিবারের দাবি, এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, রূপাকে শ্বাসরোধ করে বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
থানা পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও আত্মহত্যার তত্ত্বে সন্তুষ্ট হতে না পেরে রূপা আক্তারের পরিবার সুবিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে রূপাকে হত্যার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের আসামি করে আদালতে একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
আদালত মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মামলাটি বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা ‘পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন’ (পিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করেন। একই সাথে মৃত্যুর সঠিক কারণ (Cause of Death) নিশ্চিত করার জন্য লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের (Autopsy) নির্দেশ দেন বিজ্ঞ আদালত।
ম্যাজিস্ট্রেট ও চিকিৎসকের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন
আদালতের সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, রোববার বিকেলে ধামরাইয়ের যাদবপুর ইউনিয়নের রাঙ্গাপাড়া কবরস্থানে পৌঁছায় পিবিআই-এর একটি বিশেষ দল। সেখানে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শতভাগ নিশ্চিত করতে উপস্থিত ছিলেন,ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিদওয়ান আহমেদ রাফি
ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আকিব হোসাইন,মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই-এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. খালেদ তাদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কবর খুঁড়ে রূপা আক্তারের মরদেহটি উত্তোলন করা হয় এবং সুরতহাল শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই-এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. খালেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন,
“আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও আইনি প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করেই আমরা আজ রূপা আক্তারের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করেছি। নিহতের পরিবারের দাবি এবং আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর সঠিক রহস্য উদঘাটন করতেই এই পুনরায় ময়নাতদন্তের উদ্যোগ। ল্যাব ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে দীর্ঘ ৫ মাস পর লাশ উত্তোলনের খবর ছড়িয়ে পড়লে কবরস্থানের চারপাশে স্থানীয় শত শত উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। এলাকাবাসীও এই রহস্যজনক মৃত্যুর সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


















