ঢাকা ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংগ্রামী মায়ের পাশে জেলা প্রশাসন, গণশুনানিতে মানবিক দৃষ্টান্ত সাভারের লিঙ্গ বৈচিত্র্য জনগোষ্ঠীর উদ্যোক্তা ও চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয় বাঘায় একই বিছানায় স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ নান্দাইলের গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে ডিজিটাল পরিকল্পনার উদ্যোগ সেবা সহজ করতে অনলাইনে গণশুনানির আয়োজন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনে’র প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার পরদিনই গোদাগাড়ীর শীর্ষ ব্যবসায়ী আজাদ আটক শাপলার হাসি বাঘায় পদ্মার শাখা নদীতে ডুবে যুবকের মৃত্যু মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশনের বিবৃতি বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আবেগঘন বার্তা, শৈশবের ছবি শেয়ার করলেন লামিনে ইয়ামাল

ফাঁকা চেকের অপব্যবহার করে একাধিক মামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৭:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ১৭১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
193

ধার নেওয়া টাকাকে সুদে বাড়িয়ে এবং স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পের অপব্যবহার করে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়েরের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দুইবারের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ ফাতেমা খাতুন লতা।

একই সঙ্গে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষুণ্ণ করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে চরিত্র হনন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ​শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১ টায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি এসব অভিযোগ জানান। ​

​লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা খাতুন লতা জানান, পারিবারিক ও আর্থিক সম্পর্কের সূত্র ধরে তার ভাজতি জামাই নুরুজ্জামানের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে তিনি কিছু টাকা ধার নিয়েছিলেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের উপনির্বাচনের সময় নেওয়া ধারের টাকা ভোট শেষ হওয়ার পর সুদে-আসলে পরিশোধও করেন। ​”টাকা পরিশোধ করলেও নুরুজ্জামানের অনেক অনৈতিক চাওয়া-পাওয়া ছিল। আমি তার অনৈতিক কোনো কাজে রাজি না হওয়ায় তিনি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন।

পূর্বের ধারের বিপরীতে তার কাছে জমা থাকা আমার স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেকের পাতা ও স্ট্যাম্পের অপব্যবহার করে তিনি বিপুল অঙ্কের চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেছেন।” ​ ​সংবাদ সম্মেলনে লতা দাবি করেন, নুরুজ্জামান নিজ হাতে চেকের পাতায় ইচ্ছেমতো টাকার অঙ্ক লিখে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ব্যবহার করে মামলা করিয়েছেন। তিনি জানান, ২০২১ সালে বাঘা পৌরসভায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে নিলুফা ইয়াসমিন ও মামুন হোসেন নামের দুই ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেন নুরুজ্জামান।

চাকরি দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২৩ সালে লতা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে নুরুজ্জামান কৌশলে তাদের লতার অফিসে নিয়ে আসেন। ​পরবর্তীতে ‘আশার আলো’ এনজিও থেকে ৫ লক্ষ টাকা লোন নেওয়ার কথা বলে কৌশলে ওই দুইজনকে দিয়ে লতার অগ্রণী ব্যাংকের তিনটি ফাঁকা চেক ও একটি স্ট্যাম্প হাতিয়ে নেওয়া হয়। লতার দাবি, মামুন বা নিলুফা কখনোই তাকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো টাকা দেননি।

অথচ বর্তমানে মামুন হোসেনের নামে ১৫ লাখ টাকা (মামলা নং- ১৬১৩/২৫) এবং নিলুফা ইয়াসমিনের নামে ২০ লাখ টাকার (মামলা নং- ৫২৮/সি) দুটি চেক ডিজঅনার মামলা করা হয়েছে। এমনকি নুরুজ্জামান নিজেও বাদী হয়ে ২৫ লাখ টাকার আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন।

নিলুফার মামলায় লতাকে বিগত ১১ মার্চ ছয় দিন জেলহাজতেও থাকতে হয়েছিল। ​ ​লতা বলেন, বিগত ২৬ বছর ধরে নুরুজ্জামানের পরিবারের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি একা ও অসহায় হয়ে পড়েছেন বুঝতে পেরে নুরুজ্জামান ও তার ছেলে স্বদেশ তাকে নিঃশেষ করার ষড়যন্ত্র শুরু করেন।

রাস্তা-ঘাট ও চায়ের দোকানে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে। ​বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য বাঘা উপজেলার রঞ্জু চেয়ারম্যান এবং বাঘা প্রেসক্লাবের সভাপতি আঃ লতিফ, সাংবাদিক আমানুল্লাহ আমান ও লালন উদ্দিন একাধিকবার চেষ্টা করলেও নুরুজ্জামান অতিরিক্ত টাকার দাবি করায় তা ব্যর্থ হয়।

​ ​সংবাদ সম্মেলনে লতা উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাঁদাবাজির অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন হয়েছিল। এছাড়াও বাঘা বাজারস্থ প্রেসক্লাবের বারান্দায় এক নারীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে জুতোপেটার শিকার হওয়ার মতো স্থানীয়ভাবে বিতর্কিত একাধিক ঘটনা রয়েছে তার।

​ ​দীর্ঘদিন তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের পাশে থাকা এই সাবেক জনপ্রতিনিধি বাঘাবাসী ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমার চরিত্র ও রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে এলাকার মানুষ অবগত। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।” তিনি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং এই জঘন্য ব্ল্যাকমেইলের সাথে জড়িত নুরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফাঁকা চেকের অপব্যবহার করে একাধিক মামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ১২:০৭:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
193

ধার নেওয়া টাকাকে সুদে বাড়িয়ে এবং স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পের অপব্যবহার করে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়েরের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দুইবারের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ ফাতেমা খাতুন লতা।

একই সঙ্গে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষুণ্ণ করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে চরিত্র হনন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ​শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১ টায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি এসব অভিযোগ জানান। ​

​লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা খাতুন লতা জানান, পারিবারিক ও আর্থিক সম্পর্কের সূত্র ধরে তার ভাজতি জামাই নুরুজ্জামানের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে তিনি কিছু টাকা ধার নিয়েছিলেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের উপনির্বাচনের সময় নেওয়া ধারের টাকা ভোট শেষ হওয়ার পর সুদে-আসলে পরিশোধও করেন। ​”টাকা পরিশোধ করলেও নুরুজ্জামানের অনেক অনৈতিক চাওয়া-পাওয়া ছিল। আমি তার অনৈতিক কোনো কাজে রাজি না হওয়ায় তিনি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন।

পূর্বের ধারের বিপরীতে তার কাছে জমা থাকা আমার স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেকের পাতা ও স্ট্যাম্পের অপব্যবহার করে তিনি বিপুল অঙ্কের চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেছেন।” ​ ​সংবাদ সম্মেলনে লতা দাবি করেন, নুরুজ্জামান নিজ হাতে চেকের পাতায় ইচ্ছেমতো টাকার অঙ্ক লিখে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ব্যবহার করে মামলা করিয়েছেন। তিনি জানান, ২০২১ সালে বাঘা পৌরসভায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে নিলুফা ইয়াসমিন ও মামুন হোসেন নামের দুই ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেন নুরুজ্জামান।

চাকরি দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২৩ সালে লতা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে নুরুজ্জামান কৌশলে তাদের লতার অফিসে নিয়ে আসেন। ​পরবর্তীতে ‘আশার আলো’ এনজিও থেকে ৫ লক্ষ টাকা লোন নেওয়ার কথা বলে কৌশলে ওই দুইজনকে দিয়ে লতার অগ্রণী ব্যাংকের তিনটি ফাঁকা চেক ও একটি স্ট্যাম্প হাতিয়ে নেওয়া হয়। লতার দাবি, মামুন বা নিলুফা কখনোই তাকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো টাকা দেননি।

অথচ বর্তমানে মামুন হোসেনের নামে ১৫ লাখ টাকা (মামলা নং- ১৬১৩/২৫) এবং নিলুফা ইয়াসমিনের নামে ২০ লাখ টাকার (মামলা নং- ৫২৮/সি) দুটি চেক ডিজঅনার মামলা করা হয়েছে। এমনকি নুরুজ্জামান নিজেও বাদী হয়ে ২৫ লাখ টাকার আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন।

নিলুফার মামলায় লতাকে বিগত ১১ মার্চ ছয় দিন জেলহাজতেও থাকতে হয়েছিল। ​ ​লতা বলেন, বিগত ২৬ বছর ধরে নুরুজ্জামানের পরিবারের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি একা ও অসহায় হয়ে পড়েছেন বুঝতে পেরে নুরুজ্জামান ও তার ছেলে স্বদেশ তাকে নিঃশেষ করার ষড়যন্ত্র শুরু করেন।

রাস্তা-ঘাট ও চায়ের দোকানে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে। ​বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য বাঘা উপজেলার রঞ্জু চেয়ারম্যান এবং বাঘা প্রেসক্লাবের সভাপতি আঃ লতিফ, সাংবাদিক আমানুল্লাহ আমান ও লালন উদ্দিন একাধিকবার চেষ্টা করলেও নুরুজ্জামান অতিরিক্ত টাকার দাবি করায় তা ব্যর্থ হয়।

​ ​সংবাদ সম্মেলনে লতা উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাঁদাবাজির অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন হয়েছিল। এছাড়াও বাঘা বাজারস্থ প্রেসক্লাবের বারান্দায় এক নারীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে জুতোপেটার শিকার হওয়ার মতো স্থানীয়ভাবে বিতর্কিত একাধিক ঘটনা রয়েছে তার।

​ ​দীর্ঘদিন তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের পাশে থাকা এই সাবেক জনপ্রতিনিধি বাঘাবাসী ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমার চরিত্র ও রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে এলাকার মানুষ অবগত। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।” তিনি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং এই জঘন্য ব্ল্যাকমেইলের সাথে জড়িত নুরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।