ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গবেষণায় সাফল্য অর্জনকারীদের স্বর্ণপদক ও পদোন্নতিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, দুদকের মামলা থাকা সত্ত্বেও পদে বহাল আরডিএ প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান উলিপুরে কৃষি কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত আধুনিক কৃষির প্রসারে গুরুত্বারোপ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব বেঞ্চ স্থাপন, খুশি শিক্ষার্থীরা ঈশ্বরদীতে ক্লাস চলাকালীন প্লাস্টিকের ডোপ থেকে ছড়ানো গন্ধে শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ, এলাকায় চাঞ্চল্য রাজশাহীকে ঢেলে সাজাতে চাই বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে রাসিক প্রশাসক জেন্ডার পরিবর্তন করে আসা নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগে প্রেমিক গ্রেফতার পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কর্তৃক কুয়াকাটা হতে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক বাঘায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এমপি চাঁদের নগদ অর্থ প্রদান ও সরকারি সহায়তার আশ্বাস হারানো বিজ্ঞাপ্তি

গবেষণায় সাফল্য অর্জনকারীদের স্বর্ণপদক ও পদোন্নতিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ

আনোয়ার হোসেন আন্নু বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৩২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
14 / 100 SEO Score
83

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, গবেষণায় নতুন উদ্ভাবন ও সফলতা অর্জনকারীদের স্বর্ণপদক দেওয়ার পাশাপাশি পদোন্নতিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে এবং সরকারি পর্যায়েও আমি গবেষণাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই। যারা গবেষণায় সাফল্য দেখাবে, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে এবং সবদিক বিবেচনায় বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে।”

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকার সাভার-এ অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-এ আয়োজিত ‘বিএলআরআইয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ ও মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী গবেষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “লাল কার্পেট নয়, আপনাদের গবেষণার সফলতাই আমাকে আনন্দ দেয়।” তিনি প্রশ্ন রাখেন, বছরে ১২ মাস ফসল উৎপাদন হওয়ার পরও দেশ কেন দরিদ্র থাকবে? এ বিষয়ে সবাইকে নতুনভাবে চিন্তা করার আহ্বান জানান তিনি।

সরকার নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে শাকসবজি ও খাদ্যপণ্য আমদানিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে উৎপাদন ও গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, “কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।”

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে অতীতে খাল খনন কর্মসূচি, কৃষিঋণ মওকুফসহ কৃষকবান্ধব নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারও কৃষক কার্ড চালু করা, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফসহ কৃষকের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

গবেষণায় বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গবেষণায় অর্থায়নে সরকারের কোনো কার্পণ্য নেই, বরং আরও উদার হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের পতিত জমি ও দ্বীপাঞ্চলে ঘাস চাষ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখা বিজ্ঞানীদের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বর্ণপদক দিয়ে সম্মানিত করার কথাও জানান মন্ত্রী।

দেশীয় প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। ব্ল্যাক বেঙ্গল বাংলাদেশের নিজস্ব ও অত্যন্ত মূল্যবান জাত। এ জাতের উন্নয়ন ও সংরক্ষণে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসা মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম জাত নিয়ে পরিচালিত গবেষণারও প্রশংসা করেন তিনি।

দেশি মুরগির জাত উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের আবহাওয়ার উপযোগী উন্নত দেশি মুরগির জাত তৈরি করে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করতে হবে। পাশাপাশি এসব মুরগির মাংস ও ডিম উৎপাদন বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

ড. শাকিলা ফারুক-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন মো. দেলোয়ার হোসেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন ড. মো. জিল্লুর রহমান। এছাড়া ইনস্টিটিউটের পরিচিতি, সক্ষমতা, অবকাঠামো, চলমান গবেষণা কার্যক্রম এবং উদ্ভাবিত প্রযুক্তি নিয়ে উপস্থাপনা করেন ড. সরদার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

সভা শেষে মন্ত্রী ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন গবেষণাগার ও খামার পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে ছিল দেশি মুরগির খামার, ক্যাটেল গবেষণা খামার, মহিষ গবেষণা খামার, বিএলআরআই ফডার জার্মপ্লাজম ব্যাংক এবং ট্রান্সবাউন্ডারি অ্যানিমেল ডিজিজ রিসার্চ সেন্টারের ল্যাবরেটরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গবেষণায় সাফল্য অর্জনকারীদের স্বর্ণপদক ও পদোন্নতিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ

আপডেট সময় : ০৬:৩২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
14 / 100 SEO Score
83

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, গবেষণায় নতুন উদ্ভাবন ও সফলতা অর্জনকারীদের স্বর্ণপদক দেওয়ার পাশাপাশি পদোন্নতিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে এবং সরকারি পর্যায়েও আমি গবেষণাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই। যারা গবেষণায় সাফল্য দেখাবে, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে এবং সবদিক বিবেচনায় বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে।”

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকার সাভার-এ অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-এ আয়োজিত ‘বিএলআরআইয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ ও মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী গবেষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “লাল কার্পেট নয়, আপনাদের গবেষণার সফলতাই আমাকে আনন্দ দেয়।” তিনি প্রশ্ন রাখেন, বছরে ১২ মাস ফসল উৎপাদন হওয়ার পরও দেশ কেন দরিদ্র থাকবে? এ বিষয়ে সবাইকে নতুনভাবে চিন্তা করার আহ্বান জানান তিনি।

সরকার নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে শাকসবজি ও খাদ্যপণ্য আমদানিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে উৎপাদন ও গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, “কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।”

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে অতীতে খাল খনন কর্মসূচি, কৃষিঋণ মওকুফসহ কৃষকবান্ধব নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারও কৃষক কার্ড চালু করা, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফসহ কৃষকের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

গবেষণায় বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গবেষণায় অর্থায়নে সরকারের কোনো কার্পণ্য নেই, বরং আরও উদার হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের পতিত জমি ও দ্বীপাঞ্চলে ঘাস চাষ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখা বিজ্ঞানীদের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বর্ণপদক দিয়ে সম্মানিত করার কথাও জানান মন্ত্রী।

দেশীয় প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। ব্ল্যাক বেঙ্গল বাংলাদেশের নিজস্ব ও অত্যন্ত মূল্যবান জাত। এ জাতের উন্নয়ন ও সংরক্ষণে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসা মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম জাত নিয়ে পরিচালিত গবেষণারও প্রশংসা করেন তিনি।

দেশি মুরগির জাত উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের আবহাওয়ার উপযোগী উন্নত দেশি মুরগির জাত তৈরি করে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করতে হবে। পাশাপাশি এসব মুরগির মাংস ও ডিম উৎপাদন বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

ড. শাকিলা ফারুক-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন মো. দেলোয়ার হোসেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন ড. মো. জিল্লুর রহমান। এছাড়া ইনস্টিটিউটের পরিচিতি, সক্ষমতা, অবকাঠামো, চলমান গবেষণা কার্যক্রম এবং উদ্ভাবিত প্রযুক্তি নিয়ে উপস্থাপনা করেন ড. সরদার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

সভা শেষে মন্ত্রী ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন গবেষণাগার ও খামার পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে ছিল দেশি মুরগির খামার, ক্যাটেল গবেষণা খামার, মহিষ গবেষণা খামার, বিএলআরআই ফডার জার্মপ্লাজম ব্যাংক এবং ট্রান্সবাউন্ডারি অ্যানিমেল ডিজিজ রিসার্চ সেন্টারের ল্যাবরেটরি।