উলিপুরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তালা, সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
- আপডেট সময় : ০৮:১০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা-এর ধামশ্রেণী ইউনিয়ন ভূমি অফিস বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সকাল থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকায় সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সরকার ঘোষিত তিন দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলার কার্যক্রম চলমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কোনো সেবা কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, অফিস কক্ষের মূল ফটকে তালা ঝুলছে। বিভিন্ন ধরনের ভূমি সেবা গ্রহণের জন্য আসা মানুষজন অফিসের সামনে অপেক্ষা করলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে কেউ সেবা পাননি।
দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যান। সেবা নিতে আসা ধামশ্রেণী ইউনিয়নের ছোবান বাজার এলাকার বাসিন্দা মুকুল মিয়া বলেন, “জমির দলিল সংক্রান্ত কাজ ও খাজনা দেওয়ার জন্য কয়েকদিন ধরে অফিসে আসছি।
আজ এসে দেখি অফিসে তালা ঝুলছে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় কাজ করতে পারলাম না।” অপর সেবাগ্রহীতা মো. মহুবর রহমান জানান, “গত রবিবার খারিজের প্রতিবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়েছি।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী খোঁজ নিতে এসে দেখি অফিস বন্ধ। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।” অফিসের বাইরে অবস্থানরত অফিস সহায়ক হারুন রশীদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “স্যার এখনো আসেননি। তিনি উলিপুর অফিসে আছেন।
” এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, খারিজ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রদানের ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। নির্ধারিত অর্থের বাইরে টাকা না দিলে কাজ বিলম্বিত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া খাজনা পরিশোধের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ দাবি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ধামশ্রেণী ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলীর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে এস এম মেহেদী হাসান বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। অফিস বন্ধ থাকার কারণ এবং অনিয়মের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” স্থানীয়দের দাবি, ভূমি সংক্রান্ত সেবা মানুষের মৌলিক প্রশাসনিক প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িত।
তাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নিয়মিত কর্মকর্তা উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সেবার মান উন্নয়ন এবং অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।



















