সাভারের স্ত্রীকে নির্যাতনের পর রাস্তায় ফেলে গেলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক
- আপডেট সময় : ০৭:০৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
টাকার জন্য স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতনের পর রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার প্রাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দত্তের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর স্ত্রী শিউলি রানী রায় (৩২) বর্তমানে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। শনিবার দুপুরে হাসপাতালে ভুক্তভোগী শিউলি ও তার পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন।
শিউলি রানী রায় কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার নিরোধ কুমার রায়ের মেয়ে। অপরদিকে তার স্বামী বিদ্যুৎ কুমার দত্ত (৪০) কুষ্টিয়ার আমলাপাড়ার বাসিন্দা। পরিবারের ভাষ্য, সাত বছর আগে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাঁরা রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোড এলাকায় বসবাস করছেন।
শিউলি রায় সাংবাদিকদের বলেন, বিয়ের পর থেকেই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে শাশুড়ি ও ননদেরা তাকে দোষারোপ করতেন। সম্প্রতি স্বামী বিদ্যুৎ কুমার দত্তের বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক অশান্তি আরও বেড়ে যায়। বিদেশে যাওয়ার জন্য স্বামী তার কাছে কাছে টাকা চাইতেন।
আমি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে কথা কাটাকাটি হয়। গত ১২ জুলাই রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শিউলিকে রুটি বেলার বেলন দিয়ে মারধর করে বিদ্যুৎ। এতে তার মাথা, মুখমণ্ডল, হাত, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম সহ ডান চোখে আঘাত লাগে। শিউলি আরও বলেন, মারধরের পর বাবার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।
পথে আশুলিয়ার নবীনগর গলফ ক্লাব এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে তাকে ফেলে রেখে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। শিউলির ভাই শুভ রায় বলেন, আমার বোনকে মারধরের পর মোটরসাইকেলে করে নিয়ে এসে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে আমরা আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দিয়েছি। এছাড়াও আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদ্যুৎ কুমার দত্তের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।



















