বিচার বিভাগ গুম ও দুদকসহ বাদ পড়া বিষয়গুলো নিয়ে নতুন বিল আনা হবে
- আপডেট সময় : ০৭:২৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করা হলেও, এ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন করে সংসদে বিল আনার কথা জানিয়েছে সরকার।
একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ যে ১৬টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে অনুমোদনের জন্য তোলা হয়নি, সেগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করে নতুন বিল হিসেবে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এসব বিল কবে আনা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি দেওয়া হয়নি।
রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সেগুলো উপস্থাপন করা হয়। এসব অধ্যাদেশ অনুমোদন বা বাতিল করার শেষ সময় ছিল ১০ এপ্রিল। এর মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ সময়মতো বিল আকারে সংসদে আনা হয়নি, ফলে সেগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে। এছাড়া ৭টি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে এবং বাকি ১১০টি সংসদে অনুমোদন পেয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনসহ।
অধ্যাদেশগুলো যাচাইয়ের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হলেও, তাদের সব সুপারিশ পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি। যেমন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ অধ্যাদেশটি হুবহু পাস করার সুপারিশ থাকলেও পরে সংশোধনী আনা হলে তা নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্ক হয়। গুম, পুলিশ কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ বিল আকারে না আনায় বিরোধী দল ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ তুলে ওয়াকআউট করে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বিরোধী দল ওয়াকআউট করতে পারে, তবে তাদের কিছু বক্তব্য সঠিক ছিল না এবং তারা বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের ওপর দায় চাপিয়েছে।
তিনি জানান, কোনো বিলে বেসরকারি সদস্য সংশোধনী আনলে সেটি যৌক্তিক মনে হলে ভোটের মাধ্যমে গৃহীত হয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবুও বিরোধী দলকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতে সংশোধিত বিল আনার সুযোগ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ–সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো আরও পর্যালোচনা করে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী অধিবেশনে আনা হবে। এতে আইনগুলো আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হবে।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, যে ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে তোলা হয়নি, সেগুলো আরও গভীরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলেই আপাতত উপস্থাপন করা হয়নি। কিছু মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে সরকার এগুলো বাতিল করেছে—এমন অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচারকার্যে বিচারকদের স্বাধীনতা রয়েছে, তবে রাষ্ট্রের সব অঙ্গের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। তিনি ‘হারমোনিয়াস কো-অপারেশন’-এর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ভারসাম্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন প্রয়োজন।
গণভোট অধ্যাদেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি এখন কার্যকারিতা হারালেও ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা রয়েছে। ভবিষ্যতে গণভোট করতে হলে নতুন আইন বা সংবিধান অনুযায়ী করতে হবে।
গুম অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান রূপে এটি পাস হলে ভুক্তভোগীরাই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই আরও কার্যকর ও স্পষ্ট আইন প্রণয়নের জন্য সময় নেওয়া হচ্ছে। আইনমন্ত্রীও জানান, গুমের সংজ্ঞা ও বিচারপ্রক্রিয়ায় কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ বিষয়ে তিনি বলেন, এটি বাস্তবায়নের জন্য কোনো পদ সৃষ্টি বা অর্থ ব্যয় হয়নি, তাই তাৎক্ষণিকভাবে পাস না হলেও সমস্যা নেই। ভবিষ্যতে সংশোধন করে আনা হবে।
কার্যকারিতা হারানো ১৬টি অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে গণভোট, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন), পুলিশ কমিশন, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন), ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক, শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্ট, রাজস্বনীতি, ভ্যাট, কাস্টমস, আয়কর এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন।



















