ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঘায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর পালিত সাভার থানা থেকে লুট হওয়া ৩৭ রাউন্ড গুলিসহ এক যুবক গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ সাভারের জাল সাক্ষরে মন্দিরের চাল আত্মাসাৎ ও হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ধামরাইয়ে ৪ বাড়ির সামনে কাফনের কাপড় আতঙ্কে এলাকাবাসী রয়েছেন নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ এর উদ্বোধন আদালতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ পরীমনির, মামলায় জামিন সাংবাদিক ও মালিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি বেতন বৃদ্ধি ঘিরে শ্রমিক অসন্তোষ এড়াতে চট্টগ্রামে সমন্বয় সভা বাঘার তেঁতুলিয়া বাজারে নকল ঔষধ তৈরির কারখানায় অভিযান আড়ানী রেলব্রিজ (KPI) পুলিশ প্রশাসনের বাৎসরিক পরিদর্শন

ঈদুল-আযহা’র একদিন বাকি কর্মব্যস্ততা ও সরঞ্জাম বিক্রয়ে কামার শিল্পের কারিগররা

তৌহিদুল ইসলাম সরকার
  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬ ৪২৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
358

কুরবানির ঈদের আগে দা,বটি, চাপাতি,ছুরি, সাঁকো,ডাসা তৈরির ব্যস্ততা বেড়েছে কামারদের পবিত্র ঈদুল আজহা’র বাকি আর মাত্র এক দিন। কুরবানির পশু জবেহ ও মাংস প্রস্তুত করার জন্য ছুরি,বটি দা,চাপাতি,ডাঁসা সহ দেশিয় অস্ত্র তৈরি ও পুরাতন যন্ত্রপাতি ঘষামাজার কাজ সেরে নিচ্ছেন সবাই।

তাই এই কামার শিল্পের কাজে ব্যস্ততা বেড়েছে- ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কামার শিল্পের শ্রমিকদের। সেই সাথে বেড়েছে তাদের আয় রোজগার। লোহাকে কয়লার আগুনে পুড়িয়ে লাল টকটকে করে ঠেঙ্গিয়ে-ঠেঙ্গিয়ে তৈরী করা হচ্ছে দেশীয় অস্ত্র। যেন টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে কামার পাড়া ও তাদের দোকান।

২৬ মে মঙ্গলবার সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন কামার শিল্প ও হাটবাজার ঘুরে একই দৃশ্য চোখে পড়েছে। পার্শ্ববর্তী হোসেনপুর উপজেলার আড়াইবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে ফারুক মিয়া বেশ সুপরিচিত একজন কামার।

তিনি তার বাবার হাত ধরে দীর্ঘ ৩০বছর ধরে এই কামার শিল্পের সাথে জড়িত। এখন তার একমাত্র ছেলে সাগর মিয়া কে সাথে নিয়ে-নান্দাইল উপজেলার দক্ষিণ জাহাঙ্গীরপুর বাজারে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সাথে কথা বলে জানা যায়,সারা বছরেই তারা এই কাজ করে থাকেন।

তবে কুরবানীর ঈদ আসলেই দা,বটি, চাপাতি,ছুরি,ডাঁসা তৈরি ও পুরাতন অস্ত্র ঘষামাজার কাজের চাপ পড়ে যায়। কাজের প্রচণ্ড চাপ তার ওপর বিদ্যুতের লোডশেডিং। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচন্ড গরমের মধ্যে আগুনের পাশে বসে কাজ করাটা তাদের জন্য অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

যে কাজগুলো করার অর্ডার নেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র সেই কাজগুলোই করছেন, নতুন করে কাজের অর্ডার নিচ্ছেন না। নতুন অস্ত্র তৈরির খরচ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,বর্তমান লোহার দাম অনেক বেড়ে গেছে- ১ কেজি ওজনের লোহার একটি দা বা বটি তৈরি করতে আমরা ১৫০০ টাকা নিয়ে থাকি।

এছাড়াও ছুরি তৈরি করতে ছুরির সাইজ অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়। পুরাতন অস্ত্র ঘষামাজা করতে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা নিয়ে থাকি। ফারুক কামারের মত কামার পাড়ায় বা কামার দোকানে অন্যান্য কামরেরাও এখন ব্যাস্ততম সময় পার করছেন। কামার ফারুক মিয়া জানান, সারাবছর তেমন কাজের চাপ থাকেনা। কুরবানির ঈদ আসলেই প্রচুর কাজের চাপ পড়ে যায়। দিনে রাতে সবসময় কাজ করছি তারপরও কাজ শেষ হচ্ছে না। নতুন কাজের অনেক অর্ডার আসছে। ঈদের পর আবার কাজের ব্যস্ততা কমে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঈদুল-আযহা’র একদিন বাকি কর্মব্যস্ততা ও সরঞ্জাম বিক্রয়ে কামার শিল্পের কারিগররা

আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
358

কুরবানির ঈদের আগে দা,বটি, চাপাতি,ছুরি, সাঁকো,ডাসা তৈরির ব্যস্ততা বেড়েছে কামারদের পবিত্র ঈদুল আজহা’র বাকি আর মাত্র এক দিন। কুরবানির পশু জবেহ ও মাংস প্রস্তুত করার জন্য ছুরি,বটি দা,চাপাতি,ডাঁসা সহ দেশিয় অস্ত্র তৈরি ও পুরাতন যন্ত্রপাতি ঘষামাজার কাজ সেরে নিচ্ছেন সবাই।

তাই এই কামার শিল্পের কাজে ব্যস্ততা বেড়েছে- ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কামার শিল্পের শ্রমিকদের। সেই সাথে বেড়েছে তাদের আয় রোজগার। লোহাকে কয়লার আগুনে পুড়িয়ে লাল টকটকে করে ঠেঙ্গিয়ে-ঠেঙ্গিয়ে তৈরী করা হচ্ছে দেশীয় অস্ত্র। যেন টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে কামার পাড়া ও তাদের দোকান।

২৬ মে মঙ্গলবার সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন কামার শিল্প ও হাটবাজার ঘুরে একই দৃশ্য চোখে পড়েছে। পার্শ্ববর্তী হোসেনপুর উপজেলার আড়াইবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে ফারুক মিয়া বেশ সুপরিচিত একজন কামার।

তিনি তার বাবার হাত ধরে দীর্ঘ ৩০বছর ধরে এই কামার শিল্পের সাথে জড়িত। এখন তার একমাত্র ছেলে সাগর মিয়া কে সাথে নিয়ে-নান্দাইল উপজেলার দক্ষিণ জাহাঙ্গীরপুর বাজারে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সাথে কথা বলে জানা যায়,সারা বছরেই তারা এই কাজ করে থাকেন।

তবে কুরবানীর ঈদ আসলেই দা,বটি, চাপাতি,ছুরি,ডাঁসা তৈরি ও পুরাতন অস্ত্র ঘষামাজার কাজের চাপ পড়ে যায়। কাজের প্রচণ্ড চাপ তার ওপর বিদ্যুতের লোডশেডিং। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচন্ড গরমের মধ্যে আগুনের পাশে বসে কাজ করাটা তাদের জন্য অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

যে কাজগুলো করার অর্ডার নেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র সেই কাজগুলোই করছেন, নতুন করে কাজের অর্ডার নিচ্ছেন না। নতুন অস্ত্র তৈরির খরচ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,বর্তমান লোহার দাম অনেক বেড়ে গেছে- ১ কেজি ওজনের লোহার একটি দা বা বটি তৈরি করতে আমরা ১৫০০ টাকা নিয়ে থাকি।

এছাড়াও ছুরি তৈরি করতে ছুরির সাইজ অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়। পুরাতন অস্ত্র ঘষামাজা করতে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা নিয়ে থাকি। ফারুক কামারের মত কামার পাড়ায় বা কামার দোকানে অন্যান্য কামরেরাও এখন ব্যাস্ততম সময় পার করছেন। কামার ফারুক মিয়া জানান, সারাবছর তেমন কাজের চাপ থাকেনা। কুরবানির ঈদ আসলেই প্রচুর কাজের চাপ পড়ে যায়। দিনে রাতে সবসময় কাজ করছি তারপরও কাজ শেষ হচ্ছে না। নতুন কাজের অনেক অর্ডার আসছে। ঈদের পর আবার কাজের ব্যস্ততা কমে যাবে।