ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উলিপুরে বৃদ্ধের আত্মহত্যা, লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ছাতক নৌপথে চাঁদাবাজি, নৌ শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ রামেক হাসপাতালকে ‘ফ্যাসিস্ট ও সিন্ডিকেট মুক্ত’ করার দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন জয়পুরহাট জেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন,সভাপতি রফিক-সম্পাদক রেজা বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মই নিয়ম: সরকারি ঔষধ গায়েব, চিকিৎসায় ভরসা ড্রেসার বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন নুর উন নাহার বেগম বিচার বিভাগ গুম ও দুদকসহ বাদ পড়া বিষয়গুলো নিয়ে নতুন বিল আনা হবে রাতের আঁধারে রাজপাড়ায় পুকুর ভরাট প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস রাজশাহীতে নেসকোর বিল কাগজে ‘প্রিপেইড মিটার চেঞ্জ’ সিল: জনমনে ক্ষোভ কারিগরি শিক্ষার দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষামন্ত্রীর কড়া বার্তা

বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মই নিয়ম: সরকারি ঔষধ গায়েব, চিকিৎসায় ভরসা ড্রেসার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা (রাজশাহী):
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
14 / 100 SEO Score
44

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের একক নিয়ন্ত্রণে চলছে অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম। সরকারি বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব নিয়মে দপ্তর পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সময়মতো অফিসে না আসা, সরকারি ঔষধ ও ভ্যাকসিন গোপনে বিক্রি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে ড্রেসার দিয়ে পশুর চিকিৎসা করানোর মতো গুরুতর অনিয়মে অতিষ্ঠ স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস শুরুর কথা থাকলেও ভেটেরিনারি সার্জন শরিফুল ইসলাম অফিসে আসেন বেলা ১১টার পর।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রশ্রয়েই তিনি এই স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তার পাওয়া যায় না। অথচ অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ফিল্ড ভিজিটের অজুহাত দিয়ে দায় সারেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভ্যাকসিন ও ঔষধ গোপনে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।

এই চক্রের মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন রাকিব হাসান নামে এক পল্লী চিকিৎসক (পি-আই লাইসেন্সধারী)। সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে সরকারি ওষুধসহ তাকে হাতেনাতে ধরা হলেও তিনি মালামাল ফেলে পালিয়ে যান।

অভিযোগ রয়েছে, ডা. আমিনুল ইসলামের সরাসরি যোগসাজশেই এই কালোবাজারি চলছে। হাসপাতালে আসা রোগীরা জানান, তাদের শুধু প্রেসক্রিপশন লিখে দেওয়া হয় এবং বাইরে থেকে চড়া দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হয়।

ভেটেরিনারি সার্জনের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের ত্রাতা হয়ে ওঠেন ড্রেসার রনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না হয়েও তিনি অবৈধভাবে গবাদিপশুকে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকসহ ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা প্রদান করছেন। ড্রেসারের লেখা প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার প্রমাণ এখন সংবাদকর্মীদের হাতে।

একজন ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, “একজন ড্রেসার যদি ডাক্তারের কাজ করেন, তবে আমাদের পশুর জীবন তো ঝুঁকিতে থাকবেই। আমরা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।” দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে ১১ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন।

এই জনবল সংকটকে পুঁজি করে অনিয়ম আরও জেঁকে বসেছে। এসব বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বাঘার প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে এবং খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় এই দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মই নিয়ম: সরকারি ঔষধ গায়েব, চিকিৎসায় ভরসা ড্রেসার

আপডেট সময় : ০৬:১৯:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
14 / 100 SEO Score
44

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের একক নিয়ন্ত্রণে চলছে অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম। সরকারি বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব নিয়মে দপ্তর পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সময়মতো অফিসে না আসা, সরকারি ঔষধ ও ভ্যাকসিন গোপনে বিক্রি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে ড্রেসার দিয়ে পশুর চিকিৎসা করানোর মতো গুরুতর অনিয়মে অতিষ্ঠ স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস শুরুর কথা থাকলেও ভেটেরিনারি সার্জন শরিফুল ইসলাম অফিসে আসেন বেলা ১১টার পর।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রশ্রয়েই তিনি এই স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তার পাওয়া যায় না। অথচ অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ফিল্ড ভিজিটের অজুহাত দিয়ে দায় সারেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভ্যাকসিন ও ঔষধ গোপনে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।

এই চক্রের মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন রাকিব হাসান নামে এক পল্লী চিকিৎসক (পি-আই লাইসেন্সধারী)। সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে সরকারি ওষুধসহ তাকে হাতেনাতে ধরা হলেও তিনি মালামাল ফেলে পালিয়ে যান।

অভিযোগ রয়েছে, ডা. আমিনুল ইসলামের সরাসরি যোগসাজশেই এই কালোবাজারি চলছে। হাসপাতালে আসা রোগীরা জানান, তাদের শুধু প্রেসক্রিপশন লিখে দেওয়া হয় এবং বাইরে থেকে চড়া দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হয়।

ভেটেরিনারি সার্জনের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের ত্রাতা হয়ে ওঠেন ড্রেসার রনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না হয়েও তিনি অবৈধভাবে গবাদিপশুকে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকসহ ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা প্রদান করছেন। ড্রেসারের লেখা প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার প্রমাণ এখন সংবাদকর্মীদের হাতে।

একজন ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, “একজন ড্রেসার যদি ডাক্তারের কাজ করেন, তবে আমাদের পশুর জীবন তো ঝুঁকিতে থাকবেই। আমরা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।” দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে ১১ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন।

এই জনবল সংকটকে পুঁজি করে অনিয়ম আরও জেঁকে বসেছে। এসব বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বাঘার প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে এবং খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় এই দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।