ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভয়াবহ বন্যা সাভারের ইটালি থেকে আসেন গ্রীন বাংলা হ্যান্ডিক্রাফটস প্রতিষ্ঠাতার মালিক গোলাম মোস্তফা সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন গ্রামীণ জনপদের সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান কিশোরগঞ্জে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা সাভার পৌরসভায় ডিজিটাল ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্স ব্যবস্থাপনায় চরম ভোগান্তি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নান্দাইলে শিক্ষার আলো ছড়াতে নতুন একাডেমিক ভবন উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বাঘার চকরাজাপুরে পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন: অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই ছাতকে জালালিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের কমিটি গঠন রাজশাহীতে ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ দম্পতিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে

ছাতক নৌপথে চাঁদাবাজি, নৌ শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ

ছাতক প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২১৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
255

শিল্পনগরী ছাতকের নৌপথে টোল আদায়ের নামে অবাধে চলছে চাঁদাবাজি। সুরমা নদীর ছাতক-দোয়ারাবাজার নৌপথ থেকে প্রতিদিনই ৪-৫ স্থান থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র নামে পাথর-বালু ও চুনাপাথরবাহী বার্জ-কার্গো ও নৌকা থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একাধিক সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র।

এদিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে একটি মহলকে বার বার অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী বালু,পাথর ও চুনাপাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা জানান, ছাতক ও দোয়ারাবাজার নৌপথে চলন্ত কার্গো জাহাজ বাল্কহেড নৌকা মালবাহী থেকে বেনামি চাঁদা রশিদের মাধ্যমে দীর্ঘ ৪-৫ মাস ধরে নৌ শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ছাতকের ৩টি এবং দোয়ারাবাজার অংশে ২টি স্থান থেকে চলন্ত অবস্থায় ছোট ছোট নৌকার সাহায্যে চাঁদা উত্তোলন করে আসছে সংঘবদ্ধ চক্র।

চাঁদাবাজ চক্রের কথা মতো চাঁদা না দিলে মারধর ও লুটপাটের শিকার হতে হয় নৌযানে থাকা মাঝিদের। রবিবার সরেজমিনে ছাতকের নৌপথে সংবাদ সংগ্রহকালে এ প্রতিবেদকের ক্যামেরায় ধরা পড়ে চাঁদাবাজির দৃশ্য। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন (বিআইডব্লিউটিএ) নামে ‘মালিকানাহীন’ রশিদে একাধিক নৌযান থেকে চাঁদা তুলতে দেখা যায় অন্তত ৩টি স্থানে। সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে নদী থেকে পালিয়ে যায় চাঁদাবাজ চক্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নৌযান শ্রমিক বলেন, নদীতে ৩ থেকে ৪টি স্থানে চাঁদা দিতে হয়। ছাতকে বিআইডব্লিউটিএ’র নামে একটি রশিদ দিয়ে নৌকা প্রতি ৮-৯ হাজার আদায় করা হয়। টাকা না দিলে মারধরের পাশাপাশি নৌকায় লুটপাট করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র নির্দিষ্ট ঘাটে পণ্য লোড-আনলোড হলে টোল আদায় হওয়ার কথা। নির্ধারিত ঘাট ছাড়া অবৈধভাবে চলন্ত অবস্থায় মোট অঙ্কের টাকা নিচ্ছে একটা চক্র।

এদিকে নৌপথে চাঁদাবাজির নেপথ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ঘাটে বালু পাথর লোড-আনলোড হলে টোল আদায় করার কথা থাকলেও ‘স্পট কোটেশনের’ নামে একটি মহলকে চলন্ত নৌযান থেকে অনৈতিক সুযোগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে কোন সাড়া পাওয়া যায় নি।

ছাতক নৌ পুলিশের দায়িত্বপালন নিয়েও নানান সন্দেহ রয়েছে, কেউ কেউ বলছেন নৌ পুলিশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, নদী বন্দর নিরাপত্তার জন্য সরকার আলাদা ভাবে নৌ পুলিশ গঠন করেছে কিন্তু ছাতক নৌ পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্হানীয় ব্যবসায়ী ও নৌ শ্রমিকরা। ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন বলেন, যদি কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন তা তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ছাতক নৌপথে চাঁদাবাজি, নৌ শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
255

শিল্পনগরী ছাতকের নৌপথে টোল আদায়ের নামে অবাধে চলছে চাঁদাবাজি। সুরমা নদীর ছাতক-দোয়ারাবাজার নৌপথ থেকে প্রতিদিনই ৪-৫ স্থান থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র নামে পাথর-বালু ও চুনাপাথরবাহী বার্জ-কার্গো ও নৌকা থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একাধিক সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র।

এদিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে একটি মহলকে বার বার অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী বালু,পাথর ও চুনাপাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা জানান, ছাতক ও দোয়ারাবাজার নৌপথে চলন্ত কার্গো জাহাজ বাল্কহেড নৌকা মালবাহী থেকে বেনামি চাঁদা রশিদের মাধ্যমে দীর্ঘ ৪-৫ মাস ধরে নৌ শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ছাতকের ৩টি এবং দোয়ারাবাজার অংশে ২টি স্থান থেকে চলন্ত অবস্থায় ছোট ছোট নৌকার সাহায্যে চাঁদা উত্তোলন করে আসছে সংঘবদ্ধ চক্র।

চাঁদাবাজ চক্রের কথা মতো চাঁদা না দিলে মারধর ও লুটপাটের শিকার হতে হয় নৌযানে থাকা মাঝিদের। রবিবার সরেজমিনে ছাতকের নৌপথে সংবাদ সংগ্রহকালে এ প্রতিবেদকের ক্যামেরায় ধরা পড়ে চাঁদাবাজির দৃশ্য। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন (বিআইডব্লিউটিএ) নামে ‘মালিকানাহীন’ রশিদে একাধিক নৌযান থেকে চাঁদা তুলতে দেখা যায় অন্তত ৩টি স্থানে। সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে নদী থেকে পালিয়ে যায় চাঁদাবাজ চক্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নৌযান শ্রমিক বলেন, নদীতে ৩ থেকে ৪টি স্থানে চাঁদা দিতে হয়। ছাতকে বিআইডব্লিউটিএ’র নামে একটি রশিদ দিয়ে নৌকা প্রতি ৮-৯ হাজার আদায় করা হয়। টাকা না দিলে মারধরের পাশাপাশি নৌকায় লুটপাট করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র নির্দিষ্ট ঘাটে পণ্য লোড-আনলোড হলে টোল আদায় হওয়ার কথা। নির্ধারিত ঘাট ছাড়া অবৈধভাবে চলন্ত অবস্থায় মোট অঙ্কের টাকা নিচ্ছে একটা চক্র।

এদিকে নৌপথে চাঁদাবাজির নেপথ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ঘাটে বালু পাথর লোড-আনলোড হলে টোল আদায় করার কথা থাকলেও ‘স্পট কোটেশনের’ নামে একটি মহলকে চলন্ত নৌযান থেকে অনৈতিক সুযোগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে কোন সাড়া পাওয়া যায় নি।

ছাতক নৌ পুলিশের দায়িত্বপালন নিয়েও নানান সন্দেহ রয়েছে, কেউ কেউ বলছেন নৌ পুলিশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, নদী বন্দর নিরাপত্তার জন্য সরকার আলাদা ভাবে নৌ পুলিশ গঠন করেছে কিন্তু ছাতক নৌ পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্হানীয় ব্যবসায়ী ও নৌ শ্রমিকরা। ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন বলেন, যদি কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন তা তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।