গ্রামীণ জনপদের সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান
- আপডেট সময় : ০৫:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহীতে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ জনপদের নানাবিধ সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে এক কার্যকর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী মহানগরীর একটি কনভেনশন সেন্টারে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট এ্যান্ড কোঅপারেশন (এসডিসি), গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক এবং ‘নাগরিকত্ব জিপিএ’-র কারিগরি সহযোগিতায় এই সভার আয়োজন করা হয়। ‘খান ফাউন্ডেশন’-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটির স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় ছিল ‘সমতা নারী কল্যাণ সংস্থা’ ও ‘লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার (লফস)’।
সভায় রাজশাহী জেলার চারটি উপজেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ৪০ জন সাংবাদিক অংশ নেন। মতবিনিময় সভায় বক্তারা সমাজের, বিশেষ করে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের নানামুখী সংকট ও প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন।
আলোচনা ও বক্তব্য থেকে সমাজের ৪টি প্রধান সমস্যা এবং তা সমাধানের সুপারিশ উঠে আসে। সভায় চিহ্নিত প্রথম সমস্যাটি ছিল শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন আসক্তি। স্কুলপড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের অনিয়ন্ত্রিত স্মার্টফোন ব্যবহার বর্তমান সমাজের অন্যতম প্রধান ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীরা ছাত্র-ছাত্রীদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও বন্ধে কঠোর সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা গড়ে তোলার তাগিদ দেন। দ্বিতীয়ত, সড়ক ও মহাসড়কের পাশে নিয়মবহির্ভূতভাবে জীবন্ত গাছের বুকে পেরেক পুঁতে ব্যানার-সাইনবোর্ড লাগানো বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, “উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে।” এভাবে পেরেক মেরে গাছের ক্ষতি করা যেমন পরিবেশবিরোধী, তেমনি এসব সাইনবোর্ডের কারণে চালকদের দৃষ্টির ব্যাঘাত ঘটে সড়ক দুর্ঘটনাও বাড়ছে। তাই অবিলম্বে এসব অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ড উচ্ছেদ এবং এ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।
তৃতীয় সমস্যা হিসেবে গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা গর্ভবতী নারীদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তির বিষয়টি উঠে আসে। এই ভোগান্তি কমাতে ক্লিনিকে পর্যাপ্ত বসার সুব্যবস্থা করার জোর দাবি উত্থাপিত হয়।
এ ছাড়া গ্রামের সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন সহজে আইনি অধিকার পায়, সে লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে বিনামূল্যে আইনি সহায়তামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার ব্যাপারে বক্তারা একমত পোষণ করেন। সভায় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা ও সংকট দূরীকরণে সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে গ্রামীণ সমস্যাগুলো নীতি-নির্ধারকদের নজরে আসবে এবং সুশীল সমাজ তা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। ‘লফস’-এর নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক মহিলা কমিশনার মোসাঃ শাহানাজ পারভীন লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খান ফাউন্ডেশন রাজশাহীর জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম।


















