ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঘায় মাদক মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার পুত্রবধূর সঙ্গে বিরোধের জেরে নান্দাইলে বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার রামেক হাসপাতালে রিপোর্ট-ডাক্তারের সমন্বয়হীনতায় ভোগান্তির শিকার রোগীরা, চিকিৎসা শুরু হতেই ৪ দিন আশুলিয়ায় সাড়ে তিন বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয় উলিপুরে কারেন্ট জালসহ আটক ১ জরিমানা জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংসউলিপুর নান্দাইলে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস র‍্যালি, আলোচনা ও উন্নয়নের প্রত্যয় নান্দাইলে পরিবেশ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই হ্যাচারি মালিককে জরিমানা বাঘায় জমি বিরোধে বাড়িতে হামলা লুটপাট জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের অভিযোগ সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা,বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিতআনোয়ার উলিপুরে জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও নতুন সদস্যদের যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন এনসিপি’র

রামেক হাসপাতালে রিপোর্ট-ডাক্তারের সমন্বয়হীনতায় ভোগান্তির শিকার রোগীরা, চিকিৎসা শুরু হতেই ৪ দিন

আবুল হাশেম রাজশাহী ব্যুরোঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২৫:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
19

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ লাইন এবং চিকিৎসকদের রাউন্ডের সময়ের সাথে রিপোর্ট ডেলিভারির সমন্বয় না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা। ফলে বৃহস্পতিবার ভর্তি হওয়া রোগীর মূল চিকিৎসা শুরু হতেই চার দিন পার হয়ে যাচ্ছে।

রবিবার সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে এবং ভুক্তভোগী রোগীদের সাথে কথা বলে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। ২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে রিপোর্ট, ডাক্তার অলরেডি রাউন্ড শেষ। হাসপাতালের বর্হিবিভাগের স্যাম্পল কালেকশন ও রিপোর্ট ডেলিভারি বিভাগের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সইবুর রহমান সাবু।

১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি স্ত্রী আনোয়ারা খাতুনের রিপোর্ট নিতে তিনি সকাল ১০টার আগেই এসে লাইনে দাঁড়ান। তার আগে আরও ৫০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন। দুপুর ১২টায় রিপোর্ট দেওয়া শুরু হলেও সাবু স্ত্রীর রিপোর্ট হাতে পান প্রায় ৩০ মিনিট পর। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘এখন রিপোর্ট পেয়ে কি হবে।

বড় ডাক্তাররা তো ওয়ার্ডে রাউন্ড দিয়ে চলে গেছে। আবার কাল সকালে আসবে। তাহলে আমার স্ত্রীর মূল চিকিৎসা শুরু হবে কখন? রিপোর্ট না পেলে ডাক্তাররা বুঝবেন কি করে রোগ কোন পর্যায়ে আছে?’ সাবু জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্ত্রীকে ভর্তি করান। শুক্রবার ছুটির দিনে ডাক্তার আসেননি।

শনিবার সকালে ডাক্তার দেখে রক্ত ও এক্সরে দেন। সেগুলো করানো হয় শনিবার দুপুরের মধ্যেই। কিন্তু সেই রিপোর্ট হাতে পান গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায়। ততক্ষণে ডাক্তারদের রাউন্ড শেষ। এখন আবার সোমবার সকাল ৯টার রাউন্ড পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

অর্থাৎ ভর্তির ৪ দিন পর মূল চিকিৎসা শুরু হবে। এমআরআই’র জন্য ২০০ টাকা দিয়েও মেলেনি সিরিয়াল। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি স্ট্রোক রোগী রইচ উদ্দিনের অবস্থাও একই। শুক্রবার ভর্তির পর শনিবার ডাক্তার এমআরআই দেন।

রক্ত পরীক্ষা হলেও সেদিন এমআরআই হয়নি। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় মেয়ে ফাতেমা খাতুন বাবাকে ট্রলিতে করে রেডিওলোজি বিভাগে আনেন। এসে জানতে পারেন সেদিন আর এমআরআই হবে না। ফাতেমা বলেন, ‘একদিনে ২০ জনের বেশি এমআরআই করা হয় না।

ট্রলিম্যানকে ২০০ টাকা দিয়েও লাভ হলো না। ডাক্তার এমআরআই ছাড়া চিকিৎসা দিতে পারছেন না। কাল সকাল ৬টায় এসে লাইন ধরতে হবে। সিরিয়াল না পেলে আরও একদিন নষ্ট। তাহলে বাবার চিকিৎসা শুরু হবে কবে?’ রিপোর্ট পেয়েও ডাক্তার নেই, টিকিটের মেয়াদও শেষ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আব্দুল কাদের শনিবার বহির্বিভাগে টিকিট কেটে ডাক্তার দেখান। ডাক্তার আল্ট্রাস্নোগ্রাম দেন। রিপোর্ট হাতে পান গতকাল দুপুর ১টায়। দৌড়ে ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে দেখেন দেড়শ রোগীর লাইন। ডাক্তার সাইদ সাতিল মুজতাহিদ ২টার পর চলে যান।

চিকিৎসা না নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয় আব্দুল কাদের সহ আরও ৫০ জনকে। বলা হয় সোমবার আবার লাইন ধরতে। পবার আব্দুল মজিদ শনিবার ডা. মোক্তার আলীকে দেখিয়ে রক্ত পরীক্ষা দেন। রবিবার দুপুরে রিপোর্ট পেয়ে গিয়ে জানেন ডাক্তার ছুটিতে। বুধবার আসতে বলা হয়েছে।

নাহলে নতুন টিকিট কাটতে হবে। রোগী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসার নামে পদে পদে হয়রানি। রিপোর্ট পেতে দেরি, ডাক্তার পেতে দেরি, টিকিটের মেয়াদও শেষ। আমরা যাবো কোথায়?’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যা বলছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর কে বিশ্বাস বলেন, ‘রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় রিপোর্ট দিতে একদিন সময় লাগছে।

এজন্য চিকিৎসাও কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। রিপোর্ট ডেলিভারির জন্য আলাদা কাউন্টার ও কাউন্টার বাড়ানো হয়েছে। চিকিৎসকদের আন্তরিকতার অভাব নেই।’ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ভর্তি রোগীদের রিপোর্ট পেতে পেতে শনি-রবি চলে যায়। আবার শনি-রবির রিপোর্ট পেতে সোম-মঙ্গল। ফলে প্রতি সপ্তাহেই ৩-৪ দিন চিকিৎসা বিলম্ব হচ্ছে শত শত রোগীর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রামেক হাসপাতালে রিপোর্ট-ডাক্তারের সমন্বয়হীনতায় ভোগান্তির শিকার রোগীরা, চিকিৎসা শুরু হতেই ৪ দিন

আপডেট সময় : ১১:২৫:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
19

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ লাইন এবং চিকিৎসকদের রাউন্ডের সময়ের সাথে রিপোর্ট ডেলিভারির সমন্বয় না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা। ফলে বৃহস্পতিবার ভর্তি হওয়া রোগীর মূল চিকিৎসা শুরু হতেই চার দিন পার হয়ে যাচ্ছে।

রবিবার সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে এবং ভুক্তভোগী রোগীদের সাথে কথা বলে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। ২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে রিপোর্ট, ডাক্তার অলরেডি রাউন্ড শেষ। হাসপাতালের বর্হিবিভাগের স্যাম্পল কালেকশন ও রিপোর্ট ডেলিভারি বিভাগের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সইবুর রহমান সাবু।

১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি স্ত্রী আনোয়ারা খাতুনের রিপোর্ট নিতে তিনি সকাল ১০টার আগেই এসে লাইনে দাঁড়ান। তার আগে আরও ৫০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন। দুপুর ১২টায় রিপোর্ট দেওয়া শুরু হলেও সাবু স্ত্রীর রিপোর্ট হাতে পান প্রায় ৩০ মিনিট পর। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘এখন রিপোর্ট পেয়ে কি হবে।

বড় ডাক্তাররা তো ওয়ার্ডে রাউন্ড দিয়ে চলে গেছে। আবার কাল সকালে আসবে। তাহলে আমার স্ত্রীর মূল চিকিৎসা শুরু হবে কখন? রিপোর্ট না পেলে ডাক্তাররা বুঝবেন কি করে রোগ কোন পর্যায়ে আছে?’ সাবু জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্ত্রীকে ভর্তি করান। শুক্রবার ছুটির দিনে ডাক্তার আসেননি।

শনিবার সকালে ডাক্তার দেখে রক্ত ও এক্সরে দেন। সেগুলো করানো হয় শনিবার দুপুরের মধ্যেই। কিন্তু সেই রিপোর্ট হাতে পান গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায়। ততক্ষণে ডাক্তারদের রাউন্ড শেষ। এখন আবার সোমবার সকাল ৯টার রাউন্ড পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

অর্থাৎ ভর্তির ৪ দিন পর মূল চিকিৎসা শুরু হবে। এমআরআই’র জন্য ২০০ টাকা দিয়েও মেলেনি সিরিয়াল। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি স্ট্রোক রোগী রইচ উদ্দিনের অবস্থাও একই। শুক্রবার ভর্তির পর শনিবার ডাক্তার এমআরআই দেন।

রক্ত পরীক্ষা হলেও সেদিন এমআরআই হয়নি। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় মেয়ে ফাতেমা খাতুন বাবাকে ট্রলিতে করে রেডিওলোজি বিভাগে আনেন। এসে জানতে পারেন সেদিন আর এমআরআই হবে না। ফাতেমা বলেন, ‘একদিনে ২০ জনের বেশি এমআরআই করা হয় না।

ট্রলিম্যানকে ২০০ টাকা দিয়েও লাভ হলো না। ডাক্তার এমআরআই ছাড়া চিকিৎসা দিতে পারছেন না। কাল সকাল ৬টায় এসে লাইন ধরতে হবে। সিরিয়াল না পেলে আরও একদিন নষ্ট। তাহলে বাবার চিকিৎসা শুরু হবে কবে?’ রিপোর্ট পেয়েও ডাক্তার নেই, টিকিটের মেয়াদও শেষ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আব্দুল কাদের শনিবার বহির্বিভাগে টিকিট কেটে ডাক্তার দেখান। ডাক্তার আল্ট্রাস্নোগ্রাম দেন। রিপোর্ট হাতে পান গতকাল দুপুর ১টায়। দৌড়ে ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে দেখেন দেড়শ রোগীর লাইন। ডাক্তার সাইদ সাতিল মুজতাহিদ ২টার পর চলে যান।

চিকিৎসা না নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয় আব্দুল কাদের সহ আরও ৫০ জনকে। বলা হয় সোমবার আবার লাইন ধরতে। পবার আব্দুল মজিদ শনিবার ডা. মোক্তার আলীকে দেখিয়ে রক্ত পরীক্ষা দেন। রবিবার দুপুরে রিপোর্ট পেয়ে গিয়ে জানেন ডাক্তার ছুটিতে। বুধবার আসতে বলা হয়েছে।

নাহলে নতুন টিকিট কাটতে হবে। রোগী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসার নামে পদে পদে হয়রানি। রিপোর্ট পেতে দেরি, ডাক্তার পেতে দেরি, টিকিটের মেয়াদও শেষ। আমরা যাবো কোথায়?’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যা বলছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর কে বিশ্বাস বলেন, ‘রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় রিপোর্ট দিতে একদিন সময় লাগছে।

এজন্য চিকিৎসাও কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। রিপোর্ট ডেলিভারির জন্য আলাদা কাউন্টার ও কাউন্টার বাড়ানো হয়েছে। চিকিৎসকদের আন্তরিকতার অভাব নেই।’ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ভর্তি রোগীদের রিপোর্ট পেতে পেতে শনি-রবি চলে যায়। আবার শনি-রবির রিপোর্ট পেতে সোম-মঙ্গল। ফলে প্রতি সপ্তাহেই ৩-৪ দিন চিকিৎসা বিলম্ব হচ্ছে শত শত রোগীর।