উলিপুরে কুলির টাকায় নির্মিত সেতু ২ যুগের দুর্ভোগের অবসান
- আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় এক কুলি শ্রমিকের অসাধারণ উদ্যোগে নির্মিত একটি কাঠের সেতু বদলে দিয়েছে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়েছে এই মানবিক উদ্যোগ, যা ইতোমধ্যে এলাকায় প্রশংসার ঝড় তুলেছে।
উলিপুর পৌরসভা-এর জোনাইডাঙ্গা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল করিম নিজের সীমিত সামর্থ্য দিয়েই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। প্রায় ২৫ বছরের কষ্টার্জিত সঞ্চয়, একটি মোটরসাইকেল বিক্রির টাকা, একটি খাসি বিক্রি এবং কিছু ঋণ মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি বুড়ি তিস্তা নদী-এর ওপর ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এতদিন এই এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল উলিপুর রেলস্টেশনের পাশের একটি পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু। সেটি ছিল চলাচলের জন্য অত্যন্ত অনুপযোগী এবং বিপজ্জনক। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হতো সাধারণ মানুষকে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও দিনমজুরদের জন্য এই পথ ছিল চরম ভোগান্তির। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠত। অনেক সময় মানুষ পা পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
নতুন এই কাঠের সেতু নির্মাণের ফলে এখন এলাকাবাসী নিরাপদ ও সহজে চলাচল করতে পারছেন। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করছেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক করে তুলেছে।
গত ১৭ এপ্রিল আব্দুল করিমের মায়ের হাত দিয়ে সেতুটির উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে সেতুর নিচে একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং সবাই করিমের এই মহৎ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানান।
এ বিষয়ে আব্দুল করিম বলেন, “এখানকার রেল ব্রিজটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। মাঝেমধ্যে এসে দেখতাম মানুষ কত কষ্ট করে যাতায়াত করছে। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটত। অনেক জনপ্রতিনিধি আসলেও কেউ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল এখানে একটি সেতু নির্মাণ করবো। কুলির কাজের টাকা, মোটরসাইকেল বিক্রি, খাসি বিক্রি ও ঋণের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছি।”
স্থানীয়রা বলছেন, একজন সাধারণ শ্রমিকের এমন উদ্যোগ শুধু একটি সেতুই নয়, বরং এটি মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিয়ে স্থায়ী একটি সেতু নির্মাণে এগিয়ে আসবে।
এ ঘটনাটি প্রমাণ করে—ইচ্ছা ও মানবিকতা থাকলে সীমাবদ্ধতাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আব্দুল করিমের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।



















