ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভার পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হতে চান খোরশেদ আলম, মানবিক ও মাদকমুক্ত পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ সাভার মডেল থানা ওসি সাইফুল সাভার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে সড়ক দুর্ঘটনার শঙ্কা দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর প্রেমের সম্পর্কের পর ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তরুণীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জমকালো আয়োজনে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত বাঘায় পাকুড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সিরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত রাসুল (সা.) এর আদর্শে সমাজ গড়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সুমন সরকার রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট প্রধানমন্ত্রী গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত আহত ১ কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন

উলিপুরে কুলির টাকায় নির্মিত সেতু ২ যুগের দুর্ভোগের অবসান

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৫২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় এক কুলি শ্রমিকের অসাধারণ উদ্যোগে নির্মিত একটি কাঠের সেতু বদলে দিয়েছে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়েছে এই মানবিক উদ্যোগ, যা ইতোমধ্যে এলাকায় প্রশংসার ঝড় তুলেছে।

উলিপুর পৌরসভা-এর জোনাইডাঙ্গা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল করিম নিজের সীমিত সামর্থ্য দিয়েই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। প্রায় ২৫ বছরের কষ্টার্জিত সঞ্চয়, একটি মোটরসাইকেল বিক্রির টাকা, একটি খাসি বিক্রি এবং কিছু ঋণ মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি বুড়ি তিস্তা নদী-এর ওপর ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করেন।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এতদিন এই এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল উলিপুর রেলস্টেশনের পাশের একটি পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু। সেটি ছিল চলাচলের জন্য অত্যন্ত অনুপযোগী এবং বিপজ্জনক। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হতো সাধারণ মানুষকে।

 

বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও দিনমজুরদের জন্য এই পথ ছিল চরম ভোগান্তির। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠত। অনেক সময় মানুষ পা পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

 

নতুন এই কাঠের সেতু নির্মাণের ফলে এখন এলাকাবাসী নিরাপদ ও সহজে চলাচল করতে পারছেন। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করছেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক করে তুলেছে।

 

গত ১৭ এপ্রিল আব্দুল করিমের মায়ের হাত দিয়ে সেতুটির উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে সেতুর নিচে একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং সবাই করিমের এই মহৎ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানান।

 

এ বিষয়ে আব্দুল করিম বলেন, “এখানকার রেল ব্রিজটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। মাঝেমধ্যে এসে দেখতাম মানুষ কত কষ্ট করে যাতায়াত করছে। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটত। অনেক জনপ্রতিনিধি আসলেও কেউ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল এখানে একটি সেতু নির্মাণ করবো। কুলির কাজের টাকা, মোটরসাইকেল বিক্রি, খাসি বিক্রি ও ঋণের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছি।”

 

স্থানীয়রা বলছেন, একজন সাধারণ শ্রমিকের এমন উদ্যোগ শুধু একটি সেতুই নয়, বরং এটি মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিয়ে স্থায়ী একটি সেতু নির্মাণে এগিয়ে আসবে।

 

এ ঘটনাটি প্রমাণ করে—ইচ্ছা ও মানবিকতা থাকলে সীমাবদ্ধতাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আব্দুল করিমের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “উলিপুরে কুলির টাকায় নির্মিত সেতু ২ যুগের দুর্ভোগের অবসান”

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

উলিপুরে কুলির টাকায় নির্মিত সেতু ২ যুগের দুর্ভোগের অবসান

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় এক কুলি শ্রমিকের অসাধারণ উদ্যোগে নির্মিত একটি কাঠের সেতু বদলে দিয়েছে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়েছে এই মানবিক উদ্যোগ, যা ইতোমধ্যে এলাকায় প্রশংসার ঝড় তুলেছে।

উলিপুর পৌরসভা-এর জোনাইডাঙ্গা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল করিম নিজের সীমিত সামর্থ্য দিয়েই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। প্রায় ২৫ বছরের কষ্টার্জিত সঞ্চয়, একটি মোটরসাইকেল বিক্রির টাকা, একটি খাসি বিক্রি এবং কিছু ঋণ মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি বুড়ি তিস্তা নদী-এর ওপর ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করেন।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এতদিন এই এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল উলিপুর রেলস্টেশনের পাশের একটি পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু। সেটি ছিল চলাচলের জন্য অত্যন্ত অনুপযোগী এবং বিপজ্জনক। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হতো সাধারণ মানুষকে।

 

বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও দিনমজুরদের জন্য এই পথ ছিল চরম ভোগান্তির। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠত। অনেক সময় মানুষ পা পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

 

নতুন এই কাঠের সেতু নির্মাণের ফলে এখন এলাকাবাসী নিরাপদ ও সহজে চলাচল করতে পারছেন। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করছেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক করে তুলেছে।

 

গত ১৭ এপ্রিল আব্দুল করিমের মায়ের হাত দিয়ে সেতুটির উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে সেতুর নিচে একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং সবাই করিমের এই মহৎ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানান।

 

এ বিষয়ে আব্দুল করিম বলেন, “এখানকার রেল ব্রিজটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। মাঝেমধ্যে এসে দেখতাম মানুষ কত কষ্ট করে যাতায়াত করছে। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটত। অনেক জনপ্রতিনিধি আসলেও কেউ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল এখানে একটি সেতু নির্মাণ করবো। কুলির কাজের টাকা, মোটরসাইকেল বিক্রি, খাসি বিক্রি ও ঋণের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছি।”

 

স্থানীয়রা বলছেন, একজন সাধারণ শ্রমিকের এমন উদ্যোগ শুধু একটি সেতুই নয়, বরং এটি মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিয়ে স্থায়ী একটি সেতু নির্মাণে এগিয়ে আসবে।

 

এ ঘটনাটি প্রমাণ করে—ইচ্ছা ও মানবিকতা থাকলে সীমাবদ্ধতাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আব্দুল করিমের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।