ঢাকা ০১:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঘায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর পালিত সাভার থানা থেকে লুট হওয়া ৩৭ রাউন্ড গুলিসহ এক যুবক গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ সাভারের জাল সাক্ষরে মন্দিরের চাল আত্মাসাৎ ও হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ধামরাইয়ে ৪ বাড়ির সামনে কাফনের কাপড় আতঙ্কে এলাকাবাসী রয়েছেন নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ এর উদ্বোধন আদালতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ পরীমনির, মামলায় জামিন সাংবাদিক ও মালিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি বেতন বৃদ্ধি ঘিরে শ্রমিক অসন্তোষ এড়াতে চট্টগ্রামে সমন্বয় সভা বাঘার তেঁতুলিয়া বাজারে নকল ঔষধ তৈরির কারখানায় অভিযান আড়ানী রেলব্রিজ (KPI) পুলিশ প্রশাসনের বাৎসরিক পরিদর্শন

সাভার ও আশুলিয়ায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট অতিষ্ঠ জনজীবন মানুষের

আনোয়ার হোসেন আন্নু বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:০২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৩২২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
309

সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। দিন-রাতের অধিকাংশ সময় জুড়ে লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে গরমের এই সময়ে বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং কখন আসবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন ৮-১০ বার বিদ্যুৎ যায়। অনেক সময় আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে না।

গরমে ঘরে থাকা যায় না, বাচ্চারা কষ্ট পায়।” একই ধরনের অভিযোগ করেন সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার গৃহিণী রোকেয়া বেগম। তিনি বলেন, “রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎ চলে গেলে খুব সমস্যা হয়। ফ্রিজের খাবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শিক্ষার্থীরাও এই পরিস্থিতিতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কলেজপড়ুয়া ছাত্র রিয়াদ হোসেন বলেন, “পরীক্ষার সময় পড়াশোনা করতে পারছি না। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে মোবাইলের আলোয় পড়তে হয়, যা খুব কষ্টকর।

অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানের পড়াশোনার ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শুধু বাসাবাড়িই নয়, শিল্পকারখানাও বিদ্যুৎ সংকটে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের একটি গার্মেন্টস কারখানার সুপারভাইজার কামাল হোসেন জানান, “ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে, যা আমাদের জন্য বড় চাপ।” ছোট ব্যবসায়ীরাও একই সমস্যায় পড়েছেন। স্থানীয় এক দোকানদার হাসান মিয়া বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানে ক্রেতা আসে না। ফ্রিজের ঠান্ডা পানীয় গরম হয়ে যায়, বিক্রি কমে গেছে।” এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় এবং লাইনে কারিগরি সমস্যার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়েছে। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছি, তবে কিছুটা সময় লাগবে।” স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সাভারের এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।” বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোর উন্নয়ন না হওয়ায় এই ধরনের সংকট বারবার দেখা দিচ্ছে।

তারা টেকসই সমাধানের জন্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সঞ্চালন লাইনের উন্নয়ন এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সব মিলিয়ে, সাভার ও আশুলিয়ার বিদ্যুৎ সংকট একটি বড় জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সাভার ও আশুলিয়ায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট অতিষ্ঠ জনজীবন মানুষের

আপডেট সময় : ০৬:০২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
309

সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। দিন-রাতের অধিকাংশ সময় জুড়ে লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে গরমের এই সময়ে বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং কখন আসবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন ৮-১০ বার বিদ্যুৎ যায়। অনেক সময় আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে না।

গরমে ঘরে থাকা যায় না, বাচ্চারা কষ্ট পায়।” একই ধরনের অভিযোগ করেন সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার গৃহিণী রোকেয়া বেগম। তিনি বলেন, “রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎ চলে গেলে খুব সমস্যা হয়। ফ্রিজের খাবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শিক্ষার্থীরাও এই পরিস্থিতিতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কলেজপড়ুয়া ছাত্র রিয়াদ হোসেন বলেন, “পরীক্ষার সময় পড়াশোনা করতে পারছি না। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে মোবাইলের আলোয় পড়তে হয়, যা খুব কষ্টকর।

অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানের পড়াশোনার ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শুধু বাসাবাড়িই নয়, শিল্পকারখানাও বিদ্যুৎ সংকটে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের একটি গার্মেন্টস কারখানার সুপারভাইজার কামাল হোসেন জানান, “ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে, যা আমাদের জন্য বড় চাপ।” ছোট ব্যবসায়ীরাও একই সমস্যায় পড়েছেন। স্থানীয় এক দোকানদার হাসান মিয়া বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানে ক্রেতা আসে না। ফ্রিজের ঠান্ডা পানীয় গরম হয়ে যায়, বিক্রি কমে গেছে।” এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় এবং লাইনে কারিগরি সমস্যার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়েছে। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছি, তবে কিছুটা সময় লাগবে।” স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সাভারের এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।” বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোর উন্নয়ন না হওয়ায় এই ধরনের সংকট বারবার দেখা দিচ্ছে।

তারা টেকসই সমাধানের জন্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সঞ্চালন লাইনের উন্নয়ন এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সব মিলিয়ে, সাভার ও আশুলিয়ার বিদ্যুৎ সংকট একটি বড় জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।