ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভার পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হতে চান খোরশেদ আলম, মানবিক ও মাদকমুক্ত পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ সাভার মডেল থানা ওসি সাইফুল সাভার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে সড়ক দুর্ঘটনার শঙ্কা দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর প্রেমের সম্পর্কের পর ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তরুণীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জমকালো আয়োজনে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত বাঘায় পাকুড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সিরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত রাসুল (সা.) এর আদর্শে সমাজ গড়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সুমন সরকার রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট প্রধানমন্ত্রী গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত আহত ১ কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন

সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক, গাজীপুরে গ্রেপ্তার ৫

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:১৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ ২৪৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার মালেকের বাড়ি এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এস-এর জেলা প্রতিনিধি (মাল্টিমিডিয়া) জাকারিয়া সিকদার। এ ঘটনায় সাংবাদিককে মারধর, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, ব্ল্যাকমেইল এবং মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩৫ মিনিটে জাকারিয়া সিকদার গাজীপুর জেলা কারাগার এলাকা থেকে বোর্ডবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে তিনি জানতে পারেন, মালেকের বাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত কথিত ‘কবির আবাসিক হোটেল’-এ অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই ও সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, হোটেলে প্রবেশের পর সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে নিয়ে যায়। পরে তাকে আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় অভিযুক্তরা মামলা করলে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় বলে এজাহারে বলা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জাকারিয়া সিকদারকে উদ্ধার করেন এবং শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর গাছা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবদুল আউয়াল সরদারের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মিলন (১৮), কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ওমর ফারুক (২৯), বগুড়ার নন্দিগ্রাম উপজেলার মধু (২০), কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার শাহ আলম মীর (৪৬) এবং গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কবির ওরফে আব্দুল কাদের (৩৮)। গাছা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবদুল আউয়াল সরদার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তারা বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের ওপর এমন হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা ঘটনার দ্রুত বিচার এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক, গাজীপুরে গ্রেপ্তার ৫

আপডেট সময় : ০৯:১৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার মালেকের বাড়ি এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এস-এর জেলা প্রতিনিধি (মাল্টিমিডিয়া) জাকারিয়া সিকদার। এ ঘটনায় সাংবাদিককে মারধর, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, ব্ল্যাকমেইল এবং মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩৫ মিনিটে জাকারিয়া সিকদার গাজীপুর জেলা কারাগার এলাকা থেকে বোর্ডবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে তিনি জানতে পারেন, মালেকের বাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত কথিত ‘কবির আবাসিক হোটেল’-এ অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই ও সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, হোটেলে প্রবেশের পর সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে নিয়ে যায়। পরে তাকে আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় অভিযুক্তরা মামলা করলে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় বলে এজাহারে বলা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জাকারিয়া সিকদারকে উদ্ধার করেন এবং শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর গাছা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবদুল আউয়াল সরদারের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মিলন (১৮), কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ওমর ফারুক (২৯), বগুড়ার নন্দিগ্রাম উপজেলার মধু (২০), কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার শাহ আলম মীর (৪৬) এবং গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কবির ওরফে আব্দুল কাদের (৩৮)। গাছা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবদুল আউয়াল সরদার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তারা বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের ওপর এমন হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা ঘটনার দ্রুত বিচার এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।