ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভার পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হতে চান খোরশেদ আলম, মানবিক ও মাদকমুক্ত পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ সাভার মডেল থানা ওসি সাইফুল সাভার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে সড়ক দুর্ঘটনার শঙ্কা দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর প্রেমের সম্পর্কের পর ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তরুণীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জমকালো আয়োজনে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত বাঘায় পাকুড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সিরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত রাসুল (সা.) এর আদর্শে সমাজ গড়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সুমন সরকার রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট প্রধানমন্ত্রী গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত আহত ১ কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন

ছেলের খুশির জন্য মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলাম সেই মোটরসাইকেলই শেষ পর্যন্ত আমার ছেলেকে কেড়ে নিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:১২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ২০৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছেলে অনেক দিন ধরেই মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য আবদার করছিল। বাবা শুরুতে রাজি হননি—সড়কের ঝুঁকির কথা ভেবেই আপত্তি ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছেলের ইচ্ছার কাছে হার মানেন তিনি। মাসখানেক আগে একটি নতুন মোটরসাইকেল কিনে দেন। আর সেই মোটরসাইকেলই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল ছেলের মৃত্যুর কারণ।

আজ সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকার ইউলুপ ব্রিজের ওপর একটি সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক মো. ফাহিম (১৭) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন, তবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উত্তর বাড্ডা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে ছেলের নিথর দেহ দেখে ভেঙে পড়েন মা–বাবা। ছেলের মাথায় হাত রেখে বিলাপ করতে করতে বাবা মো. হালিম বলেন, “আমি মোটরসাইকেল কিনতে চাইনি। পরে ছেলের খুশির জন্য কিনে দিলাম। সেই মোটরসাইকেলই আজ আমার ছেলেকে কেড়ে নিল… আমার ছেলে আর নেই।”

ফাহিমের মা সাথী বেগমও হাসপাতালে ছুটে আসেন। সন্তানের শোকে তিনি বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছিলেন। স্বজনেরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করলেও তাঁর কান্না থামছিল না।

ফাহিম বাড্ডা এলাকার সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। প্রায় এক মাস আগে তার বাবা তাকে মোটরসাইকেলটি কিনে দেন। এক বন্ধুকে নিয়ে বের হওয়ার সময়ই দুর্ঘটনার শিকার হয় সে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী মো. বাদশা জানান, হঠাৎ একটি শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, একজন রাস্তায় পড়ে ছটফট করছেন এবং পাশে একটি মোটরসাইকেল পড়ে আছে। স্থানীয় লোকজন আরেক আহত ব্যক্তিকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তিনি ওই আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি বলেন, একটি সিএনজি অটোরিকশা মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত চলে যায়। এতে মোটরসাইকেলের আরোহীরা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি বাড্ডা থানাকে জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য

ছেলের খুশির জন্য মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলাম সেই মোটরসাইকেলই শেষ পর্যন্ত আমার ছেলেকে কেড়ে নিল

আপডেট সময় : ০৬:১২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

ছেলে অনেক দিন ধরেই মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য আবদার করছিল। বাবা শুরুতে রাজি হননি—সড়কের ঝুঁকির কথা ভেবেই আপত্তি ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছেলের ইচ্ছার কাছে হার মানেন তিনি। মাসখানেক আগে একটি নতুন মোটরসাইকেল কিনে দেন। আর সেই মোটরসাইকেলই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল ছেলের মৃত্যুর কারণ।

আজ সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকার ইউলুপ ব্রিজের ওপর একটি সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক মো. ফাহিম (১৭) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন, তবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উত্তর বাড্ডা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে ছেলের নিথর দেহ দেখে ভেঙে পড়েন মা–বাবা। ছেলের মাথায় হাত রেখে বিলাপ করতে করতে বাবা মো. হালিম বলেন, “আমি মোটরসাইকেল কিনতে চাইনি। পরে ছেলের খুশির জন্য কিনে দিলাম। সেই মোটরসাইকেলই আজ আমার ছেলেকে কেড়ে নিল… আমার ছেলে আর নেই।”

ফাহিমের মা সাথী বেগমও হাসপাতালে ছুটে আসেন। সন্তানের শোকে তিনি বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছিলেন। স্বজনেরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করলেও তাঁর কান্না থামছিল না।

ফাহিম বাড্ডা এলাকার সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। প্রায় এক মাস আগে তার বাবা তাকে মোটরসাইকেলটি কিনে দেন। এক বন্ধুকে নিয়ে বের হওয়ার সময়ই দুর্ঘটনার শিকার হয় সে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী মো. বাদশা জানান, হঠাৎ একটি শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, একজন রাস্তায় পড়ে ছটফট করছেন এবং পাশে একটি মোটরসাইকেল পড়ে আছে। স্থানীয় লোকজন আরেক আহত ব্যক্তিকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তিনি ওই আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি বলেন, একটি সিএনজি অটোরিকশা মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত চলে যায়। এতে মোটরসাইকেলের আরোহীরা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি বাড্ডা থানাকে জানানো হয়েছে।