ঢাকা ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলা নববর্ষ মেলার উদ্বোধন করেন সাভার পৌরসভা মেয়র পদপ্রার্থী মোঃ খোরশেদ আলম পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ছাতকে আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত সাভারের কোটি টাকার হেরোইনসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী হৃদয়কে গ্রেফতার করেছেন র‍্যাব -৪ বাঘায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ উলিপুরে বৃদ্ধের আত্মহত্যা, লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ছাতক নৌপথে চাঁদাবাজি, নৌ শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ রামেক হাসপাতালকে ‘ফ্যাসিস্ট ও সিন্ডিকেট মুক্ত’ করার দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন জয়পুরহাট জেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন,সভাপতি রফিক-সম্পাদক রেজা বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মই নিয়ম: সরকারি ঔষধ গায়েব, চিকিৎসায় ভরসা ড্রেসার বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন নুর উন নাহার বেগম

ঈশ্বরদীতে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালীদের তাণ্ডব; অংশগ্রহণকারীকে হুমকি অর্থ লুট ও সন্ত্রাসী হামলা ওসাদ আচরণ

ঈশ্বরদী পাবনা
  • আপডেট সময় : ০৯:১২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
16 / 100 SEO Score
50

৩০ মে সোমবার উন্মুক্ত দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে। দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে এক ব্যবসায়ীকে শারীরিক নির্যাতন, ভীতি প্রদর্শন এবং তার সঙ্গীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।

প্রশাসনের উপস্থিতিতেও প্রভাবশালী চক্রটি দরপত্র প্রক্রিয়াকে নিজেদের স্বার্থে পরিচালনার চেষ্টা চালায়, যা সুশাসনের প্রশ্ন তুলেছে। গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে ঈশ্বরদী উপজেলার ঈশ্বরদী ডিগ্রী চরের ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত এক উন্মুক্ত দরপত্রের কথা ছিল।

দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবসায়ী (পায়েল হোসেন রিন্টু, আফজাল হোসেন, জাতীয় কৃষক পুরস্কার প্রাপ্ত কুল ময়েজ ) উপজেলা সদরে গেলে শুরু হয় অনিয়মের শৃঙ্খল। দরপত্রের শিডিউল দিতে অস্বীকৃতি ও ভোগান্তি আবেদনকারী প্রথমে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে শিডিউল নিতে চাইলে তাকে বাইরের একটি দোকানে যেতে বলা হয়। সেখানে গেলে দোকানের সামনে থাকা একদল লোক তাকে দোকান থেকে বের করে দেয় এবং শিডিউল দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

পরে সার্ভেয়ারের কাছেও শিডিউল না পেয়ে তিনি এসিল্যান্ডকে ফোন করলে তবেই শিডিউল পান। কিন্তু তখনও তার সমস্যার সমাধান হয়নি। শিডিউল জমা দিতে গেলে ছিনতাই ও আক্রমণ শিডিউল পূরণ করে জমা দিতে গেলে ‘জামাতের আইন বিষয়ক সম্পাদক’ হাফিজ মেম্বারসহ একদল লোক তার কাগজ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

এরপর তিনি আবার এসিল্যান্ডকে ফোন করলে অফিসের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এসিল্যান্ড তাকে ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে বললেও তিনি নিরাপত্তার আশ্বাদ চেয়ে ৩ ঘন্টা সেখানে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন এসে উপস্থিত হন এবং এসিল্যান্ডের কার্যালয়ের ভেতরেই শিডিউল পূরণ করেন।

কিন্তু তিনি শিডিউল পূরণ করামাত্র হাফিজ মেম্বার, মামুন (ঈশ্বরদী আটঘরিয়ার) এমপি তালেব মন্ডলের ভাতিজা মামুন ), সাড়া ইউনিয়ন জামাতের আমির রাজ্জাক ও তার ভাতিজা মঞ্জুর নেতৃত্বে একদল লোক আফজাল হোসেনের টেন্ডার সংক্রান্ত কাগজ ছিঁড়ে ফেলে এবং তাকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে।

এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটে। সহায়তার নামে প্রতারণা ও সংঘর্ষ পরে আফজাল হোসেন এসিল্যান্ডের কাছে অভিযোগ জানালে এসিল্যান্ড আবার তাকে শিডিউল দিয়ে অংশগ্রহণ করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে দুপুর ১২টা বেজে যায়।

অভিযোগকারীর অভিযোগ, জামাত ও আক্কাস মেম্বার এবং মেহেদী লোকজন ছাড়া আর কাউকে দরপত্রে সুযোগ দেওয়া হয়নি। দুপুর ১২টার পরেও আক্কাস মেম্বার জামানতের টাকা জমা দেন। পরে ইউএনও অফিসের হলরুমের দিকে যাওয়ার সময় পিছন থেকে জামাতের লোকজন পায়েল হোসেন রিন্টু, আফজাল হোসেনকে আটকানোর চেষ্টা করে তখন রিন্টু চিৎকার করলে এসিল্যান্ড তাকে উদ্ধার করেন।

এ সময় পিছন থেকে আফজাল হোসেনকে টেনে মসজিদের পেছনে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। রিন্টু বিষয়টি ইউএনও-কে জানালে পুলিশ আফজাল হোসেনকে জামাকাপড় ছেঁড়া ও অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক ঈশ্বরদী মেডিকেল ভর্তি করে।

কারসাজিতে দরপত্র ও অর্থ ছিনতাই পায়েল হোসেন রিন্টু কে দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলেও তাকে ‘২ নম্বর সিরিয়ালে’ এবং তাদের পছন্দের প্রার্থী মেহেদিকে ‘৭ নম্বর সিরিয়ালে’ রাখা হয়। অভিযোগকারীর অভিযোগ, তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা বেশি দরপত্র ডাকলেও তাদের চক্রের সদস্যরা মাত্র ৫ হাজার টাকা বেশি দিয়ে ইজারা নিয়ে নিচ্ছিল ।

তাদের উদ্দেশ্য ছিল গতবারের ২৩ লাখ টাকার তুলনায় অল্প কিছু বেশি দিয়ে ইজারা পুনরায় নেওয়া। অভিযোগকারীর উপস্থিতিতে তাদের সেই ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ পূরণ না হওয়ায় পরে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। বলা হয়, “তোর কারণে ২৩ লাখ টাকার জিনিস আমরা ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা দিয়ে নিতে হবে ” একইসঙ্গে অভিযোগকারীর সঙ্গে থাকা রাব্বানী (পিতা: রফিকুল ইসলাম, পালিদহ, লালপুর) নামের এক যুবকের কাছ থেকে দরপত্রে জমা দেওয়ার জন্য রাখা ৩৮ লাখ টাকা থাকা একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

অভিযোগকারী জানান, দরপত্র শেষে বেরিয়ে তিনি ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে তিনি ওসি, এসিল্যান্ড ও ইউএনও-কে বিষয়টি জানান। নিজস্ব সূত্রে জানতে পারেন, হাফিজ মেম্বারের লোকজন ও জামাতের নেতাকর্মীরা সকাল ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে তাকে ধরে নিয়ে গেছে।

পরের দিন। মঙ্গলবার সকালে জানা যায়, ওই যুবককে জামাতের লোকজন পাবনা ডিবি পুলিশের কাছে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে হস্তান্তর করেছে। তবে ঘটনার সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সকাল নয়টার ঘটনা দেখিয়ে ডিবি পুলিশ বিকেল সাড়ে চারটার সময় দেখিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আবেদনকারী অভিযোগ করেন, “এসিল্যান্ড, ইউএনও ও পুলিশের উপস্থিতিতেই বারবার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হয়েছে। তাঁরা আমাকে আশ্বস্ত করলেও মূল ঘটনাগুলো প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। টাকাসহ যুবকটিকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পরও তাৎক্ষণিক তদন্ত ও উদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হয়নি।

এভাবে প্রশাসনের চোখের সামনে সন্ত্রাসীরা দরপত্র প্রক্রিয়া বাগিয়ে নিতে চাইলে সাধারণ মানুষ কীভাবে সুশাসন পাবে?” তিনি আরও বলেন, দরপত্র শেষে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাকে সহকারী পুলিশ সুপার নিজ বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন।

কিন্তু তিনি এখনও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। সুশাসন ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে সংশয় এই ঘটনা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সাধারণ নাগরিকের জীবন-সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

উন্মুক্ত দরপত্রের নামে যেখানে প্রভাবশালীদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ, সেখানে আইনের শাসন ও সুশাসন কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে—এটাই এখন বড় প্রশ্ন। ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

একইসঙ্গে নিখোঁজ যুবক ও তার কাছ থেকে নেওয়া অর্থ উদ্ধার এবং হামলাকারী ও দরপত্র কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারী মূল দাবি নিখোঁজ যুবক রাব্বানী ও তার কাছ থেকে নেওয়া ৩৮ লাখ টাকা উদ্ধার। আফজাল হোসেনের ওপর হামলাকারী ও অর্থ ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার। দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও কারসাজির তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঈশ্বরদীতে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালীদের তাণ্ডব; অংশগ্রহণকারীকে হুমকি অর্থ লুট ও সন্ত্রাসী হামলা ওসাদ আচরণ

আপডেট সময় : ০৯:১২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
16 / 100 SEO Score
50

৩০ মে সোমবার উন্মুক্ত দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে। দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে এক ব্যবসায়ীকে শারীরিক নির্যাতন, ভীতি প্রদর্শন এবং তার সঙ্গীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।

প্রশাসনের উপস্থিতিতেও প্রভাবশালী চক্রটি দরপত্র প্রক্রিয়াকে নিজেদের স্বার্থে পরিচালনার চেষ্টা চালায়, যা সুশাসনের প্রশ্ন তুলেছে। গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে ঈশ্বরদী উপজেলার ঈশ্বরদী ডিগ্রী চরের ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত এক উন্মুক্ত দরপত্রের কথা ছিল।

দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবসায়ী (পায়েল হোসেন রিন্টু, আফজাল হোসেন, জাতীয় কৃষক পুরস্কার প্রাপ্ত কুল ময়েজ ) উপজেলা সদরে গেলে শুরু হয় অনিয়মের শৃঙ্খল। দরপত্রের শিডিউল দিতে অস্বীকৃতি ও ভোগান্তি আবেদনকারী প্রথমে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে শিডিউল নিতে চাইলে তাকে বাইরের একটি দোকানে যেতে বলা হয়। সেখানে গেলে দোকানের সামনে থাকা একদল লোক তাকে দোকান থেকে বের করে দেয় এবং শিডিউল দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

পরে সার্ভেয়ারের কাছেও শিডিউল না পেয়ে তিনি এসিল্যান্ডকে ফোন করলে তবেই শিডিউল পান। কিন্তু তখনও তার সমস্যার সমাধান হয়নি। শিডিউল জমা দিতে গেলে ছিনতাই ও আক্রমণ শিডিউল পূরণ করে জমা দিতে গেলে ‘জামাতের আইন বিষয়ক সম্পাদক’ হাফিজ মেম্বারসহ একদল লোক তার কাগজ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

এরপর তিনি আবার এসিল্যান্ডকে ফোন করলে অফিসের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এসিল্যান্ড তাকে ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে বললেও তিনি নিরাপত্তার আশ্বাদ চেয়ে ৩ ঘন্টা সেখানে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন এসে উপস্থিত হন এবং এসিল্যান্ডের কার্যালয়ের ভেতরেই শিডিউল পূরণ করেন।

কিন্তু তিনি শিডিউল পূরণ করামাত্র হাফিজ মেম্বার, মামুন (ঈশ্বরদী আটঘরিয়ার) এমপি তালেব মন্ডলের ভাতিজা মামুন ), সাড়া ইউনিয়ন জামাতের আমির রাজ্জাক ও তার ভাতিজা মঞ্জুর নেতৃত্বে একদল লোক আফজাল হোসেনের টেন্ডার সংক্রান্ত কাগজ ছিঁড়ে ফেলে এবং তাকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে।

এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটে। সহায়তার নামে প্রতারণা ও সংঘর্ষ পরে আফজাল হোসেন এসিল্যান্ডের কাছে অভিযোগ জানালে এসিল্যান্ড আবার তাকে শিডিউল দিয়ে অংশগ্রহণ করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে দুপুর ১২টা বেজে যায়।

অভিযোগকারীর অভিযোগ, জামাত ও আক্কাস মেম্বার এবং মেহেদী লোকজন ছাড়া আর কাউকে দরপত্রে সুযোগ দেওয়া হয়নি। দুপুর ১২টার পরেও আক্কাস মেম্বার জামানতের টাকা জমা দেন। পরে ইউএনও অফিসের হলরুমের দিকে যাওয়ার সময় পিছন থেকে জামাতের লোকজন পায়েল হোসেন রিন্টু, আফজাল হোসেনকে আটকানোর চেষ্টা করে তখন রিন্টু চিৎকার করলে এসিল্যান্ড তাকে উদ্ধার করেন।

এ সময় পিছন থেকে আফজাল হোসেনকে টেনে মসজিদের পেছনে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। রিন্টু বিষয়টি ইউএনও-কে জানালে পুলিশ আফজাল হোসেনকে জামাকাপড় ছেঁড়া ও অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক ঈশ্বরদী মেডিকেল ভর্তি করে।

কারসাজিতে দরপত্র ও অর্থ ছিনতাই পায়েল হোসেন রিন্টু কে দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলেও তাকে ‘২ নম্বর সিরিয়ালে’ এবং তাদের পছন্দের প্রার্থী মেহেদিকে ‘৭ নম্বর সিরিয়ালে’ রাখা হয়। অভিযোগকারীর অভিযোগ, তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা বেশি দরপত্র ডাকলেও তাদের চক্রের সদস্যরা মাত্র ৫ হাজার টাকা বেশি দিয়ে ইজারা নিয়ে নিচ্ছিল ।

তাদের উদ্দেশ্য ছিল গতবারের ২৩ লাখ টাকার তুলনায় অল্প কিছু বেশি দিয়ে ইজারা পুনরায় নেওয়া। অভিযোগকারীর উপস্থিতিতে তাদের সেই ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ পূরণ না হওয়ায় পরে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। বলা হয়, “তোর কারণে ২৩ লাখ টাকার জিনিস আমরা ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা দিয়ে নিতে হবে ” একইসঙ্গে অভিযোগকারীর সঙ্গে থাকা রাব্বানী (পিতা: রফিকুল ইসলাম, পালিদহ, লালপুর) নামের এক যুবকের কাছ থেকে দরপত্রে জমা দেওয়ার জন্য রাখা ৩৮ লাখ টাকা থাকা একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

অভিযোগকারী জানান, দরপত্র শেষে বেরিয়ে তিনি ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে তিনি ওসি, এসিল্যান্ড ও ইউএনও-কে বিষয়টি জানান। নিজস্ব সূত্রে জানতে পারেন, হাফিজ মেম্বারের লোকজন ও জামাতের নেতাকর্মীরা সকাল ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে তাকে ধরে নিয়ে গেছে।

পরের দিন। মঙ্গলবার সকালে জানা যায়, ওই যুবককে জামাতের লোকজন পাবনা ডিবি পুলিশের কাছে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে হস্তান্তর করেছে। তবে ঘটনার সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সকাল নয়টার ঘটনা দেখিয়ে ডিবি পুলিশ বিকেল সাড়ে চারটার সময় দেখিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আবেদনকারী অভিযোগ করেন, “এসিল্যান্ড, ইউএনও ও পুলিশের উপস্থিতিতেই বারবার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হয়েছে। তাঁরা আমাকে আশ্বস্ত করলেও মূল ঘটনাগুলো প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। টাকাসহ যুবকটিকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পরও তাৎক্ষণিক তদন্ত ও উদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হয়নি।

এভাবে প্রশাসনের চোখের সামনে সন্ত্রাসীরা দরপত্র প্রক্রিয়া বাগিয়ে নিতে চাইলে সাধারণ মানুষ কীভাবে সুশাসন পাবে?” তিনি আরও বলেন, দরপত্র শেষে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাকে সহকারী পুলিশ সুপার নিজ বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন।

কিন্তু তিনি এখনও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। সুশাসন ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে সংশয় এই ঘটনা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সাধারণ নাগরিকের জীবন-সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

উন্মুক্ত দরপত্রের নামে যেখানে প্রভাবশালীদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ, সেখানে আইনের শাসন ও সুশাসন কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে—এটাই এখন বড় প্রশ্ন। ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

একইসঙ্গে নিখোঁজ যুবক ও তার কাছ থেকে নেওয়া অর্থ উদ্ধার এবং হামলাকারী ও দরপত্র কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারী মূল দাবি নিখোঁজ যুবক রাব্বানী ও তার কাছ থেকে নেওয়া ৩৮ লাখ টাকা উদ্ধার। আফজাল হোসেনের ওপর হামলাকারী ও অর্থ ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার। দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও কারসাজির তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।