সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে ভুয়া কর্মকর্তা কবিরের দাপট

- আপডেট সময় : ০৫:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, তিনি সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, কবির নামের ওই ব্যক্তি সরকারি কোনো কর্মকর্তা নন, এমনকি কার্যালয়ের মাস্টাররোলভুক্ত কর্মচারীও নন।
অথচ একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে পেশকারের দায়িত্ব পালন, নথি পরিচালনা ও মামলার শুনানিতে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় ভুক্তভোগী জমির মালিকদের অভিযোগ, সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের বড় বরদেশী আদালতের সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা সেলিনা পারভীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন কবির।
তার ছত্রছায়ায় থেকেই সরকারি পদে না থেকেও তিনি আদালতের পেশকারের মতো দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নথিপত্র পরিচালনা থেকে শুরু করে মামলার শুনানিসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমেও সম্পৃক্ত থাকেন কবির।
এমনকি শুনানির কথা বলে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায়, আর্থিক লেনদেন তদারকি এবং জমির নথি সংশোধনের নামে অর্থ দাবি করার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফাইল আটকে রাখা এবং মামলার রায় বা সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আলমনগর হাউজিং এলাকায় কবিরের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয় রয়েছে। সেটেলমেন্ট অফিসে সেবা নিতে আসা জমির মালিকদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখানে ডেকে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।
এরপর জমির নথি সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজের কথা বলে চলে দরকষাকষি ও অর্থ লেনদেন। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রথমে সাধারণ জমির মালিকদের আইনি জটিলতার কথা বলে চাপে ফেলা হয়। পরে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নেয়া হয়।
সেখানে জমিসংক্রান্ত কাজ করে দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। একটি সরকারি কার্যালয়ে সরকারি পদে না থাকা কোনো ব্যক্তির এভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।
তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির ঘাটতির সুযোগে এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে জমিসংক্রান্ত সেবা নিতে আসা মানুষ হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে পারেন। এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, কবিরের পরিচয় ও সরকারি কার্যালয়ে তাঁর দায়িত্ব পালনের বৈধতা যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকরা। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কবিরের সাথে মুঠোফোন যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।














