ঢাকা ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভার পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হতে চান খোরশেদ আলম, মানবিক ও মাদকমুক্ত পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ সাভার মডেল থানা ওসি সাইফুল সাভার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে সড়ক দুর্ঘটনার শঙ্কা দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর প্রেমের সম্পর্কের পর ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তরুণীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জমকালো আয়োজনে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত বাঘায় পাকুড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সিরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত রাসুল (সা.) এর আদর্শে সমাজ গড়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সুমন সরকার রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট প্রধানমন্ত্রী গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত আহত ১ কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন

২০৩৪ সালের মধ্যে ভারতের চিপ শিল্পের বাজারমূল্য পৌঁছাবে ২০৫ বিলিয়ন ডলারে।

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ২৩৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার ওপর ভর করে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর খাত এক অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২০ সালে যেখানে এই খাতের মূল্যায়ন ছিল মাত্র ২০ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০৩৪ সালের মধ্যে তা ২০৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও এখন পর্যন্ত এর বার্ষিক বৃদ্ধির হার কিছুটা ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছে, তবে ২০৩৪ সাল নাগাদ এই প্রবৃদ্ধির হার ১৫ থেকে ১৯ শতাংশের ঘরে স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই শিল্পের ব্যাপক প্রসারণ ক্ষমতা সামগ্রিক অর্থনীতিতে আরও গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
ভারতের এই জাতীয় অর্থনৈতিক গতিশীলতার পেছনে রয়েছে ভৌগোলিকভাবে বৈচিত্র্যময় উৎপাদন ব্যবস্থা এবং চাহিদার একটি মজবুত ভিত্তি।
বৈশ্বিক ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং ফার্ম ‘আইএমএআরসি’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমে ৩৬.২ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে আঞ্চলিক বণ্টনে শীর্ষস্থানে রয়েছে দক্ষিণ ভারত। এরপরই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ২৭.৮ শতাংশ শেয়ার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উত্তর ভারত। অন্যদিকে পশ্চিম ও মধ্য ভারতের অংশীদারিত্ব ২২.৫ শতাংশ এবং পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের অবদান মোট আঞ্চলিক পদচিহ্নের ১৩.৫ শতাংশ।
এই প্রবৃদ্ধির ধারাকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোগত বিবর্তনের ক্ষেত্রে ‘ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই মিশনের প্রথম ধাপটি মূলত চিপ তৈরি এবং সংযোগস্থাপনের (ফ্যাব্রিকেশন ও অ্যাসেম্বলি) জন্য মৌলিক অবকাঠামো তৈরিতে সফল হয়েছিল। তবে বর্তমানের আইএসএম ২.০ মিশনটির মূল কৌশলগত লক্ষ্য হচ্ছে দেশীয় চিপ ডিজাইন, বিশেষায়িত কাঁচামাল উৎপাদন এবং শিল্প-নেতৃত্বাধীন গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতাকে আরও সুদৃঢ় করা।
সরকারের এই নীতিগত উদ্যোগগুলো বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারে প্রবেশের পথকে সহজ করে তুলেছে। একই সাথে প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ এবং একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক পরিবেশ নিশ্চিত করার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ অ্যাসেম্বলি থেকে জটিল চিপ উৎপাদন প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ২০২৫ সালে অভ্যন্তরীণ বাজারের মূল্যায়ন যেখানে প্রায় ৫২ বিলিয়ন ডলার ছিল, সেখান থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ২০৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগিয়ে যাওয়া—এই খাতের দ্রুতগতির অগ্রযাত্রাকেই নিশ্চিত করে।
আঞ্চলিক সক্ষমতাকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগিয়ে ভারত পদ্ধতিগতভাবে তার অভ্যন্তরীণ শিল্প ব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রস্তুত করছে, যা ২০২০ সাল থেকে শুরু করে আগামী দশকের শেষ নাগাদ সেমিকন্ডাক্টরের মোট বাজার চাহিদাকে দশ গুণেরও বেশি বাড়িয়ে তুলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

২০৩৪ সালের মধ্যে ভারতের চিপ শিল্পের বাজারমূল্য পৌঁছাবে ২০৫ বিলিয়ন ডলারে।

আপডেট সময় : ০৬:২৭:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার ওপর ভর করে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর খাত এক অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২০ সালে যেখানে এই খাতের মূল্যায়ন ছিল মাত্র ২০ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০৩৪ সালের মধ্যে তা ২০৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও এখন পর্যন্ত এর বার্ষিক বৃদ্ধির হার কিছুটা ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছে, তবে ২০৩৪ সাল নাগাদ এই প্রবৃদ্ধির হার ১৫ থেকে ১৯ শতাংশের ঘরে স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই শিল্পের ব্যাপক প্রসারণ ক্ষমতা সামগ্রিক অর্থনীতিতে আরও গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
ভারতের এই জাতীয় অর্থনৈতিক গতিশীলতার পেছনে রয়েছে ভৌগোলিকভাবে বৈচিত্র্যময় উৎপাদন ব্যবস্থা এবং চাহিদার একটি মজবুত ভিত্তি।
বৈশ্বিক ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং ফার্ম ‘আইএমএআরসি’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমে ৩৬.২ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে আঞ্চলিক বণ্টনে শীর্ষস্থানে রয়েছে দক্ষিণ ভারত। এরপরই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ২৭.৮ শতাংশ শেয়ার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উত্তর ভারত। অন্যদিকে পশ্চিম ও মধ্য ভারতের অংশীদারিত্ব ২২.৫ শতাংশ এবং পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের অবদান মোট আঞ্চলিক পদচিহ্নের ১৩.৫ শতাংশ।
এই প্রবৃদ্ধির ধারাকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোগত বিবর্তনের ক্ষেত্রে ‘ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই মিশনের প্রথম ধাপটি মূলত চিপ তৈরি এবং সংযোগস্থাপনের (ফ্যাব্রিকেশন ও অ্যাসেম্বলি) জন্য মৌলিক অবকাঠামো তৈরিতে সফল হয়েছিল। তবে বর্তমানের আইএসএম ২.০ মিশনটির মূল কৌশলগত লক্ষ্য হচ্ছে দেশীয় চিপ ডিজাইন, বিশেষায়িত কাঁচামাল উৎপাদন এবং শিল্প-নেতৃত্বাধীন গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতাকে আরও সুদৃঢ় করা।
সরকারের এই নীতিগত উদ্যোগগুলো বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারে প্রবেশের পথকে সহজ করে তুলেছে। একই সাথে প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ এবং একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক পরিবেশ নিশ্চিত করার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ অ্যাসেম্বলি থেকে জটিল চিপ উৎপাদন প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ২০২৫ সালে অভ্যন্তরীণ বাজারের মূল্যায়ন যেখানে প্রায় ৫২ বিলিয়ন ডলার ছিল, সেখান থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ২০৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগিয়ে যাওয়া—এই খাতের দ্রুতগতির অগ্রযাত্রাকেই নিশ্চিত করে।
আঞ্চলিক সক্ষমতাকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগিয়ে ভারত পদ্ধতিগতভাবে তার অভ্যন্তরীণ শিল্প ব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রস্তুত করছে, যা ২০২০ সাল থেকে শুরু করে আগামী দশকের শেষ নাগাদ সেমিকন্ডাক্টরের মোট বাজার চাহিদাকে দশ গুণেরও বেশি বাড়িয়ে তুলবে।