ঢাকা ০৩:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৩১ বার তোপধ্বনিতে বাঘায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হোসেনপুরে পাপমুক্তির আশায় ব্রহ্মপুত্র নদে অষ্টমী স্নানে লাখো পূণ্যার্থীর ঢল ‎ সাভার ও আশুলিয়া ও ধামরাই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে  উলিপুরে গণহত্যা দিবস পালন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, ইতিহাস স্মরণে আলোচনা সভা বাঘায় জ্বালানি সংকট  মুহুর্তে পাম্পে তালা ডিপোতে রাতের আঁধারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে মিজান চৌধুরী আগামী ৭৫ দিনের মধ্যে পরিবর্তনশীল উলিপুর গড়ার প্রতিশ্রুতি ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সাভারের আলোচিত সিরিয়াল কিলার সম্রাট মারা গেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পুত্রের হাতে পিতা খুন

সাভার ও আশুলিয়া ও ধামরাই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে 

আনোয়ার হোসেন আন্নু বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
51

সাভার ও আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে এসব এলাকায় পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক গ্রাহক কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাম্পগুলোতে লম্বা সারি। মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার এবং পণ্যবাহী ট্রাক—সব ধরনের যানবাহনই জ্বালানির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্পগুলো ‘স্টক নাই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিচ্ছে, ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।

আশুলিয়ার একটি পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “সকাল ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখন দুপুর ১টা বাজে। এখনো তেল পাইনি। মাঝে মাঝে বলা হচ্ছে তেল শেষ, আবার কখন আসবে তাও নিশ্চিত না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এটা খুব কষ্টকর হয়ে গেছে।

একই পাম্পে প্রাইভেট কার চালক মাহবুব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আমরা গাড়ি চালানোই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব। অফিসে যাওয়া, বাচ্চাদের স্কুলে আনা-নেওয়া—সবকিছুতেই সমস্যা হচ্ছে। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

ধামরাইয়ের একটি ডিজেল পাম্পে দেখা যায়, পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ লাইন। ট্রাক চালক সোহেল রানা বলেন, আমরা দূরপাল্লার মালামাল পরিবহন করি। তেল না পেলে গাড়ি চলবে না, আর গাড়ি না চললে আমাদের আয় বন্ধ। গতকাল রাতেও তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল নিতে হয়েছে।

এদিকে, পেট্রোল পাম্প মালিকরাও সংকটের পেছনে বিভিন্ন কারণ তুলে ধরছেন। সাভারের এক পাম্প মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমাদের কাছে আগের মতো তেল সরবরাহ আসছে না। চাহিদা বেশি কিন্তু সরবরাহ কম। আমরা নিজেরাও বিপাকে পড়েছি। গ্রাহকদের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

আশুলিয়ার আরেক পাম্প মালিক আব্দুল করিম বলেন, “আমরা ইচ্ছা করে তেল দিচ্ছি না এমনটা নয়। সরবরাহকারী কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত তেল না আসায় এই সমস্যা হচ্ছে। দিনে একবার যে পরিমাণ তেল আসার কথা, এখন তার অর্ধেকও আসছে না। ফলে দ্রুত স্টক শেষ হয়ে যাচ্ছে।

পাম্প মালিকদের দাবি, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট কাটবে না। তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যদিকে, যানবাহন মালিকরা বলছেন, এই সংকটের কারণে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক হাসান আলী বলেন, “দিনে ৮-১০ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যা আয় করি, এখন তার অর্ধেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে আয় কমে গেছে, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”

একজন বাস মালিক শহিদুল ইসলাম জানান, “আমাদের বাসগুলো নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়তে পারছে না। যাত্রীরা বিরক্ত হচ্ছে, আবার আমাদেরও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। জ্বালানি সংকট যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে পরিবহন খাত বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই সংকটের প্রভাব অনুভব করছেন। ধামরাইয়ের এক ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বলেন, পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে যাচ্ছে। এতে দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন, পরিবহন সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছি। কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তারা চান, যেন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে না হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতেও এমন সংকট দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এই খাতকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের বর্তমান জ্বালানি সংকট সাধারণ মানুষের জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সাভার ও আশুলিয়া ও ধামরাই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে 

আপডেট সময় : ১১:০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
51

সাভার ও আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে এসব এলাকায় পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক গ্রাহক কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাম্পগুলোতে লম্বা সারি। মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার এবং পণ্যবাহী ট্রাক—সব ধরনের যানবাহনই জ্বালানির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্পগুলো ‘স্টক নাই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিচ্ছে, ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।

আশুলিয়ার একটি পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “সকাল ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখন দুপুর ১টা বাজে। এখনো তেল পাইনি। মাঝে মাঝে বলা হচ্ছে তেল শেষ, আবার কখন আসবে তাও নিশ্চিত না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এটা খুব কষ্টকর হয়ে গেছে।

একই পাম্পে প্রাইভেট কার চালক মাহবুব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আমরা গাড়ি চালানোই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব। অফিসে যাওয়া, বাচ্চাদের স্কুলে আনা-নেওয়া—সবকিছুতেই সমস্যা হচ্ছে। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

ধামরাইয়ের একটি ডিজেল পাম্পে দেখা যায়, পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ লাইন। ট্রাক চালক সোহেল রানা বলেন, আমরা দূরপাল্লার মালামাল পরিবহন করি। তেল না পেলে গাড়ি চলবে না, আর গাড়ি না চললে আমাদের আয় বন্ধ। গতকাল রাতেও তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল নিতে হয়েছে।

এদিকে, পেট্রোল পাম্প মালিকরাও সংকটের পেছনে বিভিন্ন কারণ তুলে ধরছেন। সাভারের এক পাম্প মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমাদের কাছে আগের মতো তেল সরবরাহ আসছে না। চাহিদা বেশি কিন্তু সরবরাহ কম। আমরা নিজেরাও বিপাকে পড়েছি। গ্রাহকদের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

আশুলিয়ার আরেক পাম্প মালিক আব্দুল করিম বলেন, “আমরা ইচ্ছা করে তেল দিচ্ছি না এমনটা নয়। সরবরাহকারী কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত তেল না আসায় এই সমস্যা হচ্ছে। দিনে একবার যে পরিমাণ তেল আসার কথা, এখন তার অর্ধেকও আসছে না। ফলে দ্রুত স্টক শেষ হয়ে যাচ্ছে।

পাম্প মালিকদের দাবি, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট কাটবে না। তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যদিকে, যানবাহন মালিকরা বলছেন, এই সংকটের কারণে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক হাসান আলী বলেন, “দিনে ৮-১০ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যা আয় করি, এখন তার অর্ধেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে আয় কমে গেছে, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”

একজন বাস মালিক শহিদুল ইসলাম জানান, “আমাদের বাসগুলো নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়তে পারছে না। যাত্রীরা বিরক্ত হচ্ছে, আবার আমাদেরও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। জ্বালানি সংকট যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে পরিবহন খাত বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই সংকটের প্রভাব অনুভব করছেন। ধামরাইয়ের এক ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বলেন, পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে যাচ্ছে। এতে দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন, পরিবহন সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছি। কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তারা চান, যেন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে না হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতেও এমন সংকট দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এই খাতকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের বর্তমান জ্বালানি সংকট সাধারণ মানুষের জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।