ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ-ভারত ভিসা কার্যক্রম আবারও পুরোপুরি সচল হচ্ছে বাঘায় অষ্টপ্রহর মহানাম যজ্ঞ ও ১৬ প্রহর রাধা-গোবিন্দ লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত উলিপুরে এনসিপিতে যোগ দিলেন বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ জনহয়রানি ও চাঁদামুক্ত দলিল রেজিস্ট্রি’র প্রত্যয় পবার নবগঠিত কমিটি বাঘা থানার এসআই সিফাত রেজা পেলেন বাংলাদেশ পুলিশ পদক রাজশাহী রেঞ্জে একমাত্র সাভারের মহান মে দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় বাঘায় মে দিবসের শ্রমিক সমাবেশ শ্রমিকরাই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি উলিপুরে মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিত ঢাকা জেলার নতুন পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন ধামরাইয়ে ওজনে তেল কম দিয়ে প্রতারণা করিম ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়

আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সংকট কুয়াকাটার পর্যটন ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ১৮১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
19 / 100 SEO Score
211

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে জর্জরিত। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নদী ভরাট, অবৈধ দখল ও নানামুখী সমস্যার কারণে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবতরণ কেন্দ্র এখন কার্যত হুমকির মুখে।

স্থানীয় জেলে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সরকার হারাতে পারে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রকে ঘিরে সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাচ্ছে। প্রভাবশালী কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করছে।

ফলে সরকারের মূল্যবান সম্পদ বেহাত হওয়ার পাশাপাশি মৎস্য ব্যবসা ও পর্যটন শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যবসায়ী ও জেলে সম্প্রদায়ের দাবি, এই দুই অবতরণ কেন্দ্র শুধু স্থানীয় অর্থনীতির নয়, বরং পুরো দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য খাতের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

প্রতিদিন শত শত ট্রলার এখানে মাছ নিয়ে আসে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু নদী ভরাট, নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং অবৈধ দখলের কারণে কার্যক্রম দিন দিন সীমিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিববাড়িয়া নদীটি দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না।

এতে করে জেলেদের যেমন বাড়তি ঝুঁকি ও খরচ বাড়ছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীরা বলেন, শিববাড়িয়া নদীটি তিন নদীর মোহনা থেকে কাউয়ারচর মোহনা পর্যন্ত দ্রুত খনন করা হলে নৌযান চলাচল সহজ হবে এবং মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।

এতে করে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা নিরাপদ হবে। তারা আরও অভিযোগ করেন, সরকারি খাস জমি রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এসব জমি সম্পূর্ণভাবে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাবে।

তাই প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে আলিপুর ও মহিপুর এলাকার সর্বস্তরের জনগণ, জেলে ও ব্যবসায়ীরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন-এর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, তিনি যেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

তাদের দাবি, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার, শিববাড়িয়া নদীর পূর্ণাঙ্গ খনন এবং আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আধুনিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হলে শুধু মৎস্য খাতই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে।

স্থানীয়রা মনে করেন, সময়মতো সঠিক উদ্যোগ নেওয়া গেলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব অর্জন করতে পারবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো আবারও দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সংকট কুয়াকাটার পর্যটন ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
19 / 100 SEO Score
211

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে জর্জরিত। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নদী ভরাট, অবৈধ দখল ও নানামুখী সমস্যার কারণে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবতরণ কেন্দ্র এখন কার্যত হুমকির মুখে।

স্থানীয় জেলে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সরকার হারাতে পারে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রকে ঘিরে সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাচ্ছে। প্রভাবশালী কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করছে।

ফলে সরকারের মূল্যবান সম্পদ বেহাত হওয়ার পাশাপাশি মৎস্য ব্যবসা ও পর্যটন শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যবসায়ী ও জেলে সম্প্রদায়ের দাবি, এই দুই অবতরণ কেন্দ্র শুধু স্থানীয় অর্থনীতির নয়, বরং পুরো দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য খাতের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

প্রতিদিন শত শত ট্রলার এখানে মাছ নিয়ে আসে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু নদী ভরাট, নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং অবৈধ দখলের কারণে কার্যক্রম দিন দিন সীমিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিববাড়িয়া নদীটি দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না।

এতে করে জেলেদের যেমন বাড়তি ঝুঁকি ও খরচ বাড়ছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীরা বলেন, শিববাড়িয়া নদীটি তিন নদীর মোহনা থেকে কাউয়ারচর মোহনা পর্যন্ত দ্রুত খনন করা হলে নৌযান চলাচল সহজ হবে এবং মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।

এতে করে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা নিরাপদ হবে। তারা আরও অভিযোগ করেন, সরকারি খাস জমি রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এসব জমি সম্পূর্ণভাবে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাবে।

তাই প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে আলিপুর ও মহিপুর এলাকার সর্বস্তরের জনগণ, জেলে ও ব্যবসায়ীরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন-এর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, তিনি যেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

তাদের দাবি, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার, শিববাড়িয়া নদীর পূর্ণাঙ্গ খনন এবং আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আধুনিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হলে শুধু মৎস্য খাতই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে।

স্থানীয়রা মনে করেন, সময়মতো সঠিক উদ্যোগ নেওয়া গেলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব অর্জন করতে পারবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো আবারও দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।