ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত উলিপুরে ফুল শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ৪৯ শিক্ষার্থী পেল সনদ ও নগদ অর্থ রাজশাহীতে ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ বাঘায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গলায় ওড়না পেঁ/চিয়ে শিক্ষার্থীর আ/ত্মহ/ত্যা সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান অবাঞ্ছিত ঘোষণা উলিপুরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার উলিপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান সরকারের দাফন সম্পন্ন বাঘায় ৭ম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী নিখোঁজ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ রাজশাহীতে ২ রেস্তোরাঁয় হামলা ককটেল বিস্ফোরণ পুলিশ আহত প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সংকট কুয়াকাটার পর্যটন ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ২৫৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
298

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে জর্জরিত। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নদী ভরাট, অবৈধ দখল ও নানামুখী সমস্যার কারণে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবতরণ কেন্দ্র এখন কার্যত হুমকির মুখে।

স্থানীয় জেলে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সরকার হারাতে পারে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

BD NEWS 24 info 28

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রকে ঘিরে সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাচ্ছে। প্রভাবশালী কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করছে।

ফলে সরকারের মূল্যবান সম্পদ বেহাত হওয়ার পাশাপাশি মৎস্য ব্যবসা ও পর্যটন শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যবসায়ী ও জেলে সম্প্রদায়ের দাবি, এই দুই অবতরণ কেন্দ্র শুধু স্থানীয় অর্থনীতির নয়, বরং পুরো দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য খাতের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

BD NEWS 24 info 27

প্রতিদিন শত শত ট্রলার এখানে মাছ নিয়ে আসে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু নদী ভরাট, নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং অবৈধ দখলের কারণে কার্যক্রম দিন দিন সীমিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিববাড়িয়া নদীটি দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না।

এতে করে জেলেদের যেমন বাড়তি ঝুঁকি ও খরচ বাড়ছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীরা বলেন, শিববাড়িয়া নদীটি তিন নদীর মোহনা থেকে কাউয়ারচর মোহনা পর্যন্ত দ্রুত খনন করা হলে নৌযান চলাচল সহজ হবে এবং মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।

এতে করে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা নিরাপদ হবে। তারা আরও অভিযোগ করেন, সরকারি খাস জমি রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এসব জমি সম্পূর্ণভাবে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাবে।

তাই প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে আলিপুর ও মহিপুর এলাকার সর্বস্তরের জনগণ, জেলে ও ব্যবসায়ীরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন-এর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, তিনি যেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

তাদের দাবি, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার, শিববাড়িয়া নদীর পূর্ণাঙ্গ খনন এবং আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আধুনিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হলে শুধু মৎস্য খাতই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে।

BD NEWS 24 info 26

স্থানীয়রা মনে করেন, সময়মতো সঠিক উদ্যোগ নেওয়া গেলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব অর্জন করতে পারবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো আবারও দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সংকট কুয়াকাটার পর্যটন ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
298

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে জর্জরিত। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নদী ভরাট, অবৈধ দখল ও নানামুখী সমস্যার কারণে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবতরণ কেন্দ্র এখন কার্যত হুমকির মুখে।

স্থানীয় জেলে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সরকার হারাতে পারে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

BD NEWS 24 info 28

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রকে ঘিরে সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাচ্ছে। প্রভাবশালী কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করছে।

ফলে সরকারের মূল্যবান সম্পদ বেহাত হওয়ার পাশাপাশি মৎস্য ব্যবসা ও পর্যটন শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যবসায়ী ও জেলে সম্প্রদায়ের দাবি, এই দুই অবতরণ কেন্দ্র শুধু স্থানীয় অর্থনীতির নয়, বরং পুরো দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য খাতের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

BD NEWS 24 info 27

প্রতিদিন শত শত ট্রলার এখানে মাছ নিয়ে আসে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু নদী ভরাট, নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং অবৈধ দখলের কারণে কার্যক্রম দিন দিন সীমিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিববাড়িয়া নদীটি দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না।

এতে করে জেলেদের যেমন বাড়তি ঝুঁকি ও খরচ বাড়ছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীরা বলেন, শিববাড়িয়া নদীটি তিন নদীর মোহনা থেকে কাউয়ারচর মোহনা পর্যন্ত দ্রুত খনন করা হলে নৌযান চলাচল সহজ হবে এবং মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।

এতে করে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা নিরাপদ হবে। তারা আরও অভিযোগ করেন, সরকারি খাস জমি রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এসব জমি সম্পূর্ণভাবে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাবে।

তাই প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে আলিপুর ও মহিপুর এলাকার সর্বস্তরের জনগণ, জেলে ও ব্যবসায়ীরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন-এর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, তিনি যেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

তাদের দাবি, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার, শিববাড়িয়া নদীর পূর্ণাঙ্গ খনন এবং আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আধুনিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হলে শুধু মৎস্য খাতই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে।

BD NEWS 24 info 26

স্থানীয়রা মনে করেন, সময়মতো সঠিক উদ্যোগ নেওয়া গেলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব অর্জন করতে পারবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো আবারও দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।