ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভারের মোফাজ্জল মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত বাঘার চকরাজাপুরে ২০০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ সাভারে নারী মাদক সিন্ডিকেটে আঘাত: ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ও ফেনসিডিলসহ দুই নারী কারবারি গ্রেপ্তার নান্দাইলে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন সভাপতির দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী আসন্ন বাঘা পৌর নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী মো কামাল হোসেন বাঘায় ফ্রি ফায়ার গেম ঘিরে সংঘর্ষে কুপিয়ে জখম ১ গ্রেপ্তার ফরিদ রাজশাহীতে দুই সাংবাদিকের ওপর নৃশংস হামলা সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি সাভার পৌরসভা ২ নং ওয়ার্ডে ঢাকা জেলা যুবদলের উদ্যোগে বংশী নদীতে মৎস্য অবমুক্তকরণ করে নান্দাইলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রথমবার এক টেবিলে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা জুলাই শহীদ জুবাইদের পরিবারের পাশে ছাত্রদল, পৌঁছে দিল তারেক রহমানের উপহার

আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সংকট কুয়াকাটার পর্যটন ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ৩১৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
366

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে জর্জরিত। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নদী ভরাট, অবৈধ দখল ও নানামুখী সমস্যার কারণে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবতরণ কেন্দ্র এখন কার্যত হুমকির মুখে।

স্থানীয় জেলে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সরকার হারাতে পারে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

BD NEWS 24 info 28

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রকে ঘিরে সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাচ্ছে। প্রভাবশালী কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করছে।

ফলে সরকারের মূল্যবান সম্পদ বেহাত হওয়ার পাশাপাশি মৎস্য ব্যবসা ও পর্যটন শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যবসায়ী ও জেলে সম্প্রদায়ের দাবি, এই দুই অবতরণ কেন্দ্র শুধু স্থানীয় অর্থনীতির নয়, বরং পুরো দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য খাতের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

BD NEWS 24 info 27

প্রতিদিন শত শত ট্রলার এখানে মাছ নিয়ে আসে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু নদী ভরাট, নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং অবৈধ দখলের কারণে কার্যক্রম দিন দিন সীমিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিববাড়িয়া নদীটি দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না।

এতে করে জেলেদের যেমন বাড়তি ঝুঁকি ও খরচ বাড়ছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীরা বলেন, শিববাড়িয়া নদীটি তিন নদীর মোহনা থেকে কাউয়ারচর মোহনা পর্যন্ত দ্রুত খনন করা হলে নৌযান চলাচল সহজ হবে এবং মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।

এতে করে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা নিরাপদ হবে। তারা আরও অভিযোগ করেন, সরকারি খাস জমি রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এসব জমি সম্পূর্ণভাবে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাবে।

তাই প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে আলিপুর ও মহিপুর এলাকার সর্বস্তরের জনগণ, জেলে ও ব্যবসায়ীরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন-এর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, তিনি যেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

তাদের দাবি, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার, শিববাড়িয়া নদীর পূর্ণাঙ্গ খনন এবং আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আধুনিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হলে শুধু মৎস্য খাতই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে।

BD NEWS 24 info 26

স্থানীয়রা মনে করেন, সময়মতো সঠিক উদ্যোগ নেওয়া গেলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব অর্জন করতে পারবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো আবারও দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সংকট কুয়াকাটার পর্যটন ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
366

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে জর্জরিত। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নদী ভরাট, অবৈধ দখল ও নানামুখী সমস্যার কারণে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবতরণ কেন্দ্র এখন কার্যত হুমকির মুখে।

স্থানীয় জেলে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সরকার হারাতে পারে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

BD NEWS 24 info 28

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রকে ঘিরে সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাচ্ছে। প্রভাবশালী কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করছে।

ফলে সরকারের মূল্যবান সম্পদ বেহাত হওয়ার পাশাপাশি মৎস্য ব্যবসা ও পর্যটন শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যবসায়ী ও জেলে সম্প্রদায়ের দাবি, এই দুই অবতরণ কেন্দ্র শুধু স্থানীয় অর্থনীতির নয়, বরং পুরো দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য খাতের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

BD NEWS 24 info 27

প্রতিদিন শত শত ট্রলার এখানে মাছ নিয়ে আসে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু নদী ভরাট, নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং অবৈধ দখলের কারণে কার্যক্রম দিন দিন সীমিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিববাড়িয়া নদীটি দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না।

এতে করে জেলেদের যেমন বাড়তি ঝুঁকি ও খরচ বাড়ছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীরা বলেন, শিববাড়িয়া নদীটি তিন নদীর মোহনা থেকে কাউয়ারচর মোহনা পর্যন্ত দ্রুত খনন করা হলে নৌযান চলাচল সহজ হবে এবং মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।

এতে করে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা নিরাপদ হবে। তারা আরও অভিযোগ করেন, সরকারি খাস জমি রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এসব জমি সম্পূর্ণভাবে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাবে।

তাই প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে আলিপুর ও মহিপুর এলাকার সর্বস্তরের জনগণ, জেলে ও ব্যবসায়ীরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন-এর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, তিনি যেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

তাদের দাবি, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার, শিববাড়িয়া নদীর পূর্ণাঙ্গ খনন এবং আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আধুনিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হলে শুধু মৎস্য খাতই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে।

BD NEWS 24 info 26

স্থানীয়রা মনে করেন, সময়মতো সঠিক উদ্যোগ নেওয়া গেলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব অর্জন করতে পারবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো আবারও দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।