ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভারের দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ভ্যানগার্ডের মতো থাকবে বিএনপি বললেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সাভারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে রোগীর চাপ ইয়ারপুর ইউপি কর্মকর্তা আফজালের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ে নতুন নির্দেশনা সাভার পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হতে চান খোরশেদ আলম, মানবিক ও মাদকমুক্ত পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ সাভার মডেল থানা ওসি সাইফুল সাভার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে সড়ক দুর্ঘটনার শঙ্কা দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর প্রেমের সম্পর্কের পর ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তরুণীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জমকালো আয়োজনে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত বাঘায় পাকুড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সিরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত রাসুল (সা.) এর আদর্শে সমাজ গড়ার আহ্বান

আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সংকট কুয়াকাটার পর্যটন ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ৩৯৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে জর্জরিত। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নদী ভরাট, অবৈধ দখল ও নানামুখী সমস্যার কারণে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবতরণ কেন্দ্র এখন কার্যত হুমকির মুখে।

স্থানীয় জেলে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সরকার হারাতে পারে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

BD NEWS 24 info 28

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রকে ঘিরে সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাচ্ছে। প্রভাবশালী কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করছে।

ফলে সরকারের মূল্যবান সম্পদ বেহাত হওয়ার পাশাপাশি মৎস্য ব্যবসা ও পর্যটন শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যবসায়ী ও জেলে সম্প্রদায়ের দাবি, এই দুই অবতরণ কেন্দ্র শুধু স্থানীয় অর্থনীতির নয়, বরং পুরো দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য খাতের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

BD NEWS 24 info 27

প্রতিদিন শত শত ট্রলার এখানে মাছ নিয়ে আসে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু নদী ভরাট, নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং অবৈধ দখলের কারণে কার্যক্রম দিন দিন সীমিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিববাড়িয়া নদীটি দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না।

এতে করে জেলেদের যেমন বাড়তি ঝুঁকি ও খরচ বাড়ছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীরা বলেন, শিববাড়িয়া নদীটি তিন নদীর মোহনা থেকে কাউয়ারচর মোহনা পর্যন্ত দ্রুত খনন করা হলে নৌযান চলাচল সহজ হবে এবং মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।

এতে করে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা নিরাপদ হবে। তারা আরও অভিযোগ করেন, সরকারি খাস জমি রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এসব জমি সম্পূর্ণভাবে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাবে।

তাই প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে আলিপুর ও মহিপুর এলাকার সর্বস্তরের জনগণ, জেলে ও ব্যবসায়ীরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন-এর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, তিনি যেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

তাদের দাবি, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার, শিববাড়িয়া নদীর পূর্ণাঙ্গ খনন এবং আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আধুনিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হলে শুধু মৎস্য খাতই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে।

BD NEWS 24 info 26

স্থানীয়রা মনে করেন, সময়মতো সঠিক উদ্যোগ নেওয়া গেলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব অর্জন করতে পারবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো আবারও দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সংকট কুয়াকাটার পর্যটন ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে জর্জরিত। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নদী ভরাট, অবৈধ দখল ও নানামুখী সমস্যার কারণে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবতরণ কেন্দ্র এখন কার্যত হুমকির মুখে।

স্থানীয় জেলে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সরকার হারাতে পারে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

BD NEWS 24 info 28

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রকে ঘিরে সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাচ্ছে। প্রভাবশালী কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করছে।

ফলে সরকারের মূল্যবান সম্পদ বেহাত হওয়ার পাশাপাশি মৎস্য ব্যবসা ও পর্যটন শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যবসায়ী ও জেলে সম্প্রদায়ের দাবি, এই দুই অবতরণ কেন্দ্র শুধু স্থানীয় অর্থনীতির নয়, বরং পুরো দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য খাতের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

BD NEWS 24 info 27

প্রতিদিন শত শত ট্রলার এখানে মাছ নিয়ে আসে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু নদী ভরাট, নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং অবৈধ দখলের কারণে কার্যক্রম দিন দিন সীমিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিববাড়িয়া নদীটি দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না।

এতে করে জেলেদের যেমন বাড়তি ঝুঁকি ও খরচ বাড়ছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীরা বলেন, শিববাড়িয়া নদীটি তিন নদীর মোহনা থেকে কাউয়ারচর মোহনা পর্যন্ত দ্রুত খনন করা হলে নৌযান চলাচল সহজ হবে এবং মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।

এতে করে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা নিরাপদ হবে। তারা আরও অভিযোগ করেন, সরকারি খাস জমি রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এসব জমি সম্পূর্ণভাবে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাবে।

তাই প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে আলিপুর ও মহিপুর এলাকার সর্বস্তরের জনগণ, জেলে ও ব্যবসায়ীরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন-এর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, তিনি যেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

তাদের দাবি, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার, শিববাড়িয়া নদীর পূর্ণাঙ্গ খনন এবং আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আধুনিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হলে শুধু মৎস্য খাতই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে।

BD NEWS 24 info 26

স্থানীয়রা মনে করেন, সময়মতো সঠিক উদ্যোগ নেওয়া গেলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব অর্জন করতে পারবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো আবারও দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।