ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভার পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হতে চান খোরশেদ আলম, মানবিক ও মাদকমুক্ত পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ সাভার মডেল থানা ওসি সাইফুল সাভার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে সড়ক দুর্ঘটনার শঙ্কা দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর প্রেমের সম্পর্কের পর ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তরুণীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জমকালো আয়োজনে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত বাঘায় পাকুড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সিরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত রাসুল (সা.) এর আদর্শে সমাজ গড়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সুমন সরকার রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট প্রধানমন্ত্রী গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত আহত ১ কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন

লতাচাপলিতে ২ কোটি ৯২ লাখ টাকার ব্রিজ—রাস্তা নেই, ৭ বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ।

বিশেষ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ৩৩৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন লতাচাপলি ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে খালের উপর নির্মিত একটি বহুল আলোচিত ব্রিজ এখন উন্নয়নের প্রতীক নয়, বরং চরম দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ব্রিজটি নির্মাণের ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে।

মূল কারণ—এটির সঙ্গে কোনো সংযোগ সড়কই নির্মাণ করা হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিডি) বাস্তবায়িত এ প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ করা। কিন্তু পরিকল্পনার সুস্পষ্ট ঘাটতি, তদারকির দুর্বলতা এবং বাস্তবায়নে অব্যবস্থাপনার কারণে সেই লক্ষ্য পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি আজ এলাকাবাসীর কাছে এক নির্মম বিদ্রূপে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি নির্মাণের পর থেকেই এটি কার্যত ‘অচল’ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ কাঁচা পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়—কাদা ও পানিতে ডুবে যায় পথঘাট, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী এবং বয়স্ক মানুষজন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীরা বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণ করেছে, কিন্তু বাস্তবে এর কোনো সুফল আমরা পাচ্ছি না। এটি আমাদের সঙ্গে এক ধরনের প্রহসন।

এদিকে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, পটুয়াখালীর গিয়াস উদ্দিন নামের এক ঠিকাদার কাজটির লাইসেন্স পেলেও পরে তা অন্যের কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করে দেন। ফলে কাজের মান, তদারকি এবং জবাবদিহিতায় বড় ধরনের ঘাটতি সৃষ্টি হয় এবং প্রকল্পটি বাস্তবিক অর্থে অপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে।

সচেতন মহলের মতে, এটি কেবল একটি অব্যবহৃত ব্রিজ নয়, বরং এটি উন্নয়ন পরিকল্পনার দুর্বলতা, সমন্বয়হীনতা এবং জবাবদিহিতার অভাবের একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। তারা অবিলম্বে ব্রিজটির সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ, প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের জোর দাবি—উন্নয়নের নামে অর্থ অপচয় নয়, বরং কার্যকর পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। এখন দেখার বিষয়—কর্তৃপক্ষ কবে এই জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

লতাচাপলিতে ২ কোটি ৯২ লাখ টাকার ব্রিজ—রাস্তা নেই, ৭ বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ।

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন লতাচাপলি ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে খালের উপর নির্মিত একটি বহুল আলোচিত ব্রিজ এখন উন্নয়নের প্রতীক নয়, বরং চরম দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ব্রিজটি নির্মাণের ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে।

মূল কারণ—এটির সঙ্গে কোনো সংযোগ সড়কই নির্মাণ করা হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিডি) বাস্তবায়িত এ প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ করা। কিন্তু পরিকল্পনার সুস্পষ্ট ঘাটতি, তদারকির দুর্বলতা এবং বাস্তবায়নে অব্যবস্থাপনার কারণে সেই লক্ষ্য পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি আজ এলাকাবাসীর কাছে এক নির্মম বিদ্রূপে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি নির্মাণের পর থেকেই এটি কার্যত ‘অচল’ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ কাঁচা পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়—কাদা ও পানিতে ডুবে যায় পথঘাট, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী এবং বয়স্ক মানুষজন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীরা বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণ করেছে, কিন্তু বাস্তবে এর কোনো সুফল আমরা পাচ্ছি না। এটি আমাদের সঙ্গে এক ধরনের প্রহসন।

এদিকে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, পটুয়াখালীর গিয়াস উদ্দিন নামের এক ঠিকাদার কাজটির লাইসেন্স পেলেও পরে তা অন্যের কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করে দেন। ফলে কাজের মান, তদারকি এবং জবাবদিহিতায় বড় ধরনের ঘাটতি সৃষ্টি হয় এবং প্রকল্পটি বাস্তবিক অর্থে অপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে।

সচেতন মহলের মতে, এটি কেবল একটি অব্যবহৃত ব্রিজ নয়, বরং এটি উন্নয়ন পরিকল্পনার দুর্বলতা, সমন্বয়হীনতা এবং জবাবদিহিতার অভাবের একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। তারা অবিলম্বে ব্রিজটির সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ, প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের জোর দাবি—উন্নয়নের নামে অর্থ অপচয় নয়, বরং কার্যকর পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। এখন দেখার বিষয়—কর্তৃপক্ষ কবে এই জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।