ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভার পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হতে চান খোরশেদ আলম, মানবিক ও মাদকমুক্ত পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ সাভার মডেল থানা ওসি সাইফুল সাভার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে সড়ক দুর্ঘটনার শঙ্কা দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর প্রেমের সম্পর্কের পর ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তরুণীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জমকালো আয়োজনে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত বাঘায় পাকুড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সিরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত রাসুল (সা.) এর আদর্শে সমাজ গড়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সুমন সরকার রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট প্রধানমন্ত্রী গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত আহত ১ কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন

উলিপুরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন আতঙ্কে জনপদ: স্কুল বাঁচাতে মানববন্ধনে শিশু শিক্ষার্থীদের কান্না

শাহজাহান খন্দকার উলিপুর কুড়িগ্রাম, প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:০১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ২০৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ও বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের মিলনস্থলে ব্রহ্মপুত্র নদ-এর তীব্র ভাঙন জনপদের মানুষের জীবনে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জলঙ্গার কুটি ও বাবুর চর এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে নদীভাঙন রোধের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেন। তাদের সঙ্গে ছিল শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী যাদের চোখে-মুখে ভয়, অনিশ্চয়তা এবং প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হারানোর আশঙ্কা স্পষ্ট।

নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে অসহায় কণ্ঠে বৃদ্ধা আছিয়া বেগম বলেন, “এই ভিটাটুকুই আমাদের সব। নদী যদি নিয়ে যায়, আমরা কোথায় যাব?” একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন আকলিমা, কবিজন নেছা ও বৃদ্ধ শাহাবুর। স্থানীয় বাসিন্দা নওশের আলী জানান, “প্রতি বছরই ভাঙন দেখি, কিন্তু এবার মনে হচ্ছে সব শেষ হয়ে যাবে।”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিশুদের আকুতি ছিল আরও হৃদয়বিদারক। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিমা আক্তার বলে, “আমাদের স্কুলটা যদি নদীতে চলে যায়, আমরা কোথায় পড়ব? আমার বন্ধুরা কি সবাই আলাদা হয়ে যাবে?” তার সহপাঠী রাব্বি যোগ করে, “আমরা শুধু স্কুলটা বাঁচাতে চাই।”

এ মানববন্ধনে স্থানীয়দের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ। সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ রিন্টু, হাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির এবং সাংবাদিক ফজলুল করিম ফারাজি।

 

সমাবেশে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “পৃথিবীর অনেক দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ক্ষতিপূরণ পায়। কিন্তু আমাদের দেশে তারা গৃহহীন হয়ে বারবার ঠিকানা বদলায়। যেন তারা এই দেশেরই মানুষ নয়।” তিনি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

 

এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, “দ্রুত এক লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগের টেন্ডার আহ্বান করা হবে এবং জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করা হবে।”

তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এই উদ্যোগ কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে? কারণ তাদের কাছে সময় খুবই সীমিত। প্রতিদিন একটু একটু করে নদী এগিয়ে আসছে জনপদের দিকে। আর সেই সঙ্গে বাড়ছে মানুষের আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা এবং টিকে থাকার সংগ্রাম।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শুধু বসতভিটাই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পুরো জনপদই বিলীন হয়ে যেতে পারে নদীগর্ভে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

উলিপুরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন আতঙ্কে জনপদ: স্কুল বাঁচাতে মানববন্ধনে শিশু শিক্ষার্থীদের কান্না

আপডেট সময় : ০৩:০১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ও বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের মিলনস্থলে ব্রহ্মপুত্র নদ-এর তীব্র ভাঙন জনপদের মানুষের জীবনে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জলঙ্গার কুটি ও বাবুর চর এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে নদীভাঙন রোধের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেন। তাদের সঙ্গে ছিল শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী যাদের চোখে-মুখে ভয়, অনিশ্চয়তা এবং প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হারানোর আশঙ্কা স্পষ্ট।

নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে অসহায় কণ্ঠে বৃদ্ধা আছিয়া বেগম বলেন, “এই ভিটাটুকুই আমাদের সব। নদী যদি নিয়ে যায়, আমরা কোথায় যাব?” একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন আকলিমা, কবিজন নেছা ও বৃদ্ধ শাহাবুর। স্থানীয় বাসিন্দা নওশের আলী জানান, “প্রতি বছরই ভাঙন দেখি, কিন্তু এবার মনে হচ্ছে সব শেষ হয়ে যাবে।”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিশুদের আকুতি ছিল আরও হৃদয়বিদারক। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিমা আক্তার বলে, “আমাদের স্কুলটা যদি নদীতে চলে যায়, আমরা কোথায় পড়ব? আমার বন্ধুরা কি সবাই আলাদা হয়ে যাবে?” তার সহপাঠী রাব্বি যোগ করে, “আমরা শুধু স্কুলটা বাঁচাতে চাই।”

এ মানববন্ধনে স্থানীয়দের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ। সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ রিন্টু, হাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির এবং সাংবাদিক ফজলুল করিম ফারাজি।

 

সমাবেশে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “পৃথিবীর অনেক দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ক্ষতিপূরণ পায়। কিন্তু আমাদের দেশে তারা গৃহহীন হয়ে বারবার ঠিকানা বদলায়। যেন তারা এই দেশেরই মানুষ নয়।” তিনি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

 

এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, “দ্রুত এক লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগের টেন্ডার আহ্বান করা হবে এবং জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করা হবে।”

তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এই উদ্যোগ কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে? কারণ তাদের কাছে সময় খুবই সীমিত। প্রতিদিন একটু একটু করে নদী এগিয়ে আসছে জনপদের দিকে। আর সেই সঙ্গে বাড়ছে মানুষের আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা এবং টিকে থাকার সংগ্রাম।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শুধু বসতভিটাই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পুরো জনপদই বিলীন হয়ে যেতে পারে নদীগর্ভে।