সাভারে শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষে ওসি ও সাংবাদিকসহ আহত ৪০ পুলিশের গাড়িতে আগুন

- আপডেট সময় : ১০:১৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে সাভারের হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকায় আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। এতে সাভার মডেল থানার ওসিসহ অন্তত সাত পুলিশ সদস্য, তিন সাংবাদিক ও শ্রমিকসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ওসির ব্যবহৃত পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত না করা এবং আটক সহকর্মীদের মুক্তির দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধ করেন তাঁরা।

সকাল থেকেই হেমায়েতপুর ও উলাইলের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা দলে দলে মহাসড়কে জড়ো হন। এতে মহাসড়কের উভয় লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। পরিস্থিতির কারণে ওই এলাকার ১১টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
সকাল ১০টার দিকে হেমায়েতপুরে স্ট্যান্ডার গ্রুপের সামনে অবস্থান নেওয়া শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে প্রথম দফায় সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এ সময় পদ্মার মোড় এলাকায় সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলমের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আগুন দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা পুলিশের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
এদিকে উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের সামনেও শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সংঘর্ষের কারণে ওই এলাকায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন জানান, শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে ওসি সাইফুল আলমসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন একাত্তর টেলিভিশনের রাইয়ান বিন আমিন ও ক্যামেরাম্যান উজ্জ্বল এবং স্টার নিউজের সোহান সিরাজি। ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের সময় শ্রমিকরা তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রাখা হয়েছে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে আবার যান চলাচল শুরু হয়। তবে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে।














