ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শরীয়তপুর থেকে কুয়াকাটা ঘুরতে এসে বাইক দুর্ঘটনায় কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু পবিত্র ঈদুল আজহার চতুর্থ দিনেও কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক, গাজীপুরে গ্রেপ্তার ৫ উলিপুরে রক্তাক্ত সংঘর্ষ: ছুরিকাঘাতে ৫ জন আহত, দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ময়মনসিংহে পিকআপ-অটোরিকশা সংঘর্ষে বাবা ছেলের মৃত্যু হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ উলিপুরে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের উদ্যোগে মাংস বিতরণ উলিপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে আনসারী দম্পতির সহায়তায় ফিরল ঈদের আনন্দ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদ উদযাপনে পাশে আছে আরএমপি পুলিশ কমিশনার চকরাজাপুরে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ আইনশৃঙ্খলা জোরদারের আশায় এলাকাবাসী

উলিপুরে রক্তাক্ত সংঘর্ষ: ছুরিকাঘাতে ৫ জন আহত, দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
40

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াইপিয়ার এলাকায় গাঁজা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে হত্যা চেষ্টা মামলায় চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৯ মে) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে থেতরাই ইউনিয়নের সুইচগেট বাজারের পশ্চিম পাশে একটি বাঁশঝাড় এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি গাঁজা সেবন করছেন বলে সন্দেহ হলে স্থানীয় যুবক মিজানুর রহমান ও আলমগীর হোসেন তাদের বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার জের ধরে রাত ১০টার দিকে সুইচগেট ব্রিজ এলাকায় নামীয় আসামিসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হয়ে মিজানুর রহমান ও আলমগীর হোসেনকে খুঁজতে থাকে। স্থানীয়রা তাদের বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত লোকজনের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় ইয়াছিন আরাফাত (২০)-এর পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়। আঘাতের ফলে তার পেট ফেটে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নাজমুল ইসলাম (১৮)-এর মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হয়। একই ঘটনায় স্বাধীন ইসলাম (১৬)-কে লক্ষ্য করে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তার দুই হাতের একাধিক আঙুলে গুরুতর কাটা জখম হয়। পরে তার পিঠেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মুকুল মিয়া (৪২) ও শাহ আলমকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে আহত করা হয়। স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াছিন আরাফাত ও স্বাধীন ইসলামের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নাজমুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অপর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় আহত ইয়াছিন আরাফাতের চাচা লিটন সরকার বাদী হয়ে উলিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোসাব্বির হোসেন (মুসা), মোখছেদ আলী, শাহ আলম ও রানা ইসলামকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্যতম আসামি মোখছেদ আলী দলদলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং অপর আসামি মোসাব্বির হোসেন (মুসা) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত। উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, “ঘটনার বিষয়ে মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “উলিপুর থানার এফআইআর নং-২৭, তারিখ ৩০ মে ২০২৬ অনুযায়ী দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩০৭, ৩২৬, ৫০৬, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তভার এসআই পুতুল কুমার মহন্তের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, সংঘর্ষের পর গোড়াইপিয়ার ও সুইচগেট বাজার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

উলিপুরে রক্তাক্ত সংঘর্ষ: ছুরিকাঘাতে ৫ জন আহত, দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
40

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াইপিয়ার এলাকায় গাঁজা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে হত্যা চেষ্টা মামলায় চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৯ মে) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে থেতরাই ইউনিয়নের সুইচগেট বাজারের পশ্চিম পাশে একটি বাঁশঝাড় এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি গাঁজা সেবন করছেন বলে সন্দেহ হলে স্থানীয় যুবক মিজানুর রহমান ও আলমগীর হোসেন তাদের বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার জের ধরে রাত ১০টার দিকে সুইচগেট ব্রিজ এলাকায় নামীয় আসামিসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হয়ে মিজানুর রহমান ও আলমগীর হোসেনকে খুঁজতে থাকে। স্থানীয়রা তাদের বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত লোকজনের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় ইয়াছিন আরাফাত (২০)-এর পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়। আঘাতের ফলে তার পেট ফেটে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নাজমুল ইসলাম (১৮)-এর মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হয়। একই ঘটনায় স্বাধীন ইসলাম (১৬)-কে লক্ষ্য করে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তার দুই হাতের একাধিক আঙুলে গুরুতর কাটা জখম হয়। পরে তার পিঠেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মুকুল মিয়া (৪২) ও শাহ আলমকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে আহত করা হয়। স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াছিন আরাফাত ও স্বাধীন ইসলামের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নাজমুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অপর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় আহত ইয়াছিন আরাফাতের চাচা লিটন সরকার বাদী হয়ে উলিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোসাব্বির হোসেন (মুসা), মোখছেদ আলী, শাহ আলম ও রানা ইসলামকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্যতম আসামি মোখছেদ আলী দলদলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং অপর আসামি মোসাব্বির হোসেন (মুসা) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত। উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, “ঘটনার বিষয়ে মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “উলিপুর থানার এফআইআর নং-২৭, তারিখ ৩০ মে ২০২৬ অনুযায়ী দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩০৭, ৩২৬, ৫০৬, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তভার এসআই পুতুল কুমার মহন্তের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, সংঘর্ষের পর গোড়াইপিয়ার ও সুইচগেট বাজার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।