ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভারের দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ভ্যানগার্ডের মতো থাকবে বিএনপি বললেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সাভারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে রোগীর চাপ ইয়ারপুর ইউপি কর্মকর্তা আফজালের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ে নতুন নির্দেশনা সাভার পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হতে চান খোরশেদ আলম, মানবিক ও মাদকমুক্ত পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ সাভার মডেল থানা ওসি সাইফুল সাভার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে সড়ক দুর্ঘটনার শঙ্কা দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর প্রেমের সম্পর্কের পর ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তরুণীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জমকালো আয়োজনে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত বাঘায় পাকুড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সিরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত রাসুল (সা.) এর আদর্শে সমাজ গড়ার আহ্বান

ছাতক নৌপথে চাঁদাবাজি, নৌ শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ

ছাতক প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৩৯৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিল্পনগরী ছাতকের নৌপথে টোল আদায়ের নামে অবাধে চলছে চাঁদাবাজি। সুরমা নদীর ছাতক-দোয়ারাবাজার নৌপথ থেকে প্রতিদিনই ৪-৫ স্থান থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র নামে পাথর-বালু ও চুনাপাথরবাহী বার্জ-কার্গো ও নৌকা থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একাধিক সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র।

এদিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে একটি মহলকে বার বার অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী বালু,পাথর ও চুনাপাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা জানান, ছাতক ও দোয়ারাবাজার নৌপথে চলন্ত কার্গো জাহাজ বাল্কহেড নৌকা মালবাহী থেকে বেনামি চাঁদা রশিদের মাধ্যমে দীর্ঘ ৪-৫ মাস ধরে নৌ শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ছাতকের ৩টি এবং দোয়ারাবাজার অংশে ২টি স্থান থেকে চলন্ত অবস্থায় ছোট ছোট নৌকার সাহায্যে চাঁদা উত্তোলন করে আসছে সংঘবদ্ধ চক্র।

চাঁদাবাজ চক্রের কথা মতো চাঁদা না দিলে মারধর ও লুটপাটের শিকার হতে হয় নৌযানে থাকা মাঝিদের। রবিবার সরেজমিনে ছাতকের নৌপথে সংবাদ সংগ্রহকালে এ প্রতিবেদকের ক্যামেরায় ধরা পড়ে চাঁদাবাজির দৃশ্য। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন (বিআইডব্লিউটিএ) নামে ‘মালিকানাহীন’ রশিদে একাধিক নৌযান থেকে চাঁদা তুলতে দেখা যায় অন্তত ৩টি স্থানে। সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে নদী থেকে পালিয়ে যায় চাঁদাবাজ চক্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নৌযান শ্রমিক বলেন, নদীতে ৩ থেকে ৪টি স্থানে চাঁদা দিতে হয়। ছাতকে বিআইডব্লিউটিএ’র নামে একটি রশিদ দিয়ে নৌকা প্রতি ৮-৯ হাজার আদায় করা হয়। টাকা না দিলে মারধরের পাশাপাশি নৌকায় লুটপাট করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র নির্দিষ্ট ঘাটে পণ্য লোড-আনলোড হলে টোল আদায় হওয়ার কথা। নির্ধারিত ঘাট ছাড়া অবৈধভাবে চলন্ত অবস্থায় মোট অঙ্কের টাকা নিচ্ছে একটা চক্র।

এদিকে নৌপথে চাঁদাবাজির নেপথ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ঘাটে বালু পাথর লোড-আনলোড হলে টোল আদায় করার কথা থাকলেও ‘স্পট কোটেশনের’ নামে একটি মহলকে চলন্ত নৌযান থেকে অনৈতিক সুযোগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে কোন সাড়া পাওয়া যায় নি।

ছাতক নৌ পুলিশের দায়িত্বপালন নিয়েও নানান সন্দেহ রয়েছে, কেউ কেউ বলছেন নৌ পুলিশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, নদী বন্দর নিরাপত্তার জন্য সরকার আলাদা ভাবে নৌ পুলিশ গঠন করেছে কিন্তু ছাতক নৌ পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্হানীয় ব্যবসায়ী ও নৌ শ্রমিকরা। ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন বলেন, যদি কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন তা তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ছাতক নৌপথে চাঁদাবাজি, নৌ শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

শিল্পনগরী ছাতকের নৌপথে টোল আদায়ের নামে অবাধে চলছে চাঁদাবাজি। সুরমা নদীর ছাতক-দোয়ারাবাজার নৌপথ থেকে প্রতিদিনই ৪-৫ স্থান থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র নামে পাথর-বালু ও চুনাপাথরবাহী বার্জ-কার্গো ও নৌকা থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একাধিক সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র।

এদিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে একটি মহলকে বার বার অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী বালু,পাথর ও চুনাপাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা জানান, ছাতক ও দোয়ারাবাজার নৌপথে চলন্ত কার্গো জাহাজ বাল্কহেড নৌকা মালবাহী থেকে বেনামি চাঁদা রশিদের মাধ্যমে দীর্ঘ ৪-৫ মাস ধরে নৌ শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ছাতকের ৩টি এবং দোয়ারাবাজার অংশে ২টি স্থান থেকে চলন্ত অবস্থায় ছোট ছোট নৌকার সাহায্যে চাঁদা উত্তোলন করে আসছে সংঘবদ্ধ চক্র।

চাঁদাবাজ চক্রের কথা মতো চাঁদা না দিলে মারধর ও লুটপাটের শিকার হতে হয় নৌযানে থাকা মাঝিদের। রবিবার সরেজমিনে ছাতকের নৌপথে সংবাদ সংগ্রহকালে এ প্রতিবেদকের ক্যামেরায় ধরা পড়ে চাঁদাবাজির দৃশ্য। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন (বিআইডব্লিউটিএ) নামে ‘মালিকানাহীন’ রশিদে একাধিক নৌযান থেকে চাঁদা তুলতে দেখা যায় অন্তত ৩টি স্থানে। সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে নদী থেকে পালিয়ে যায় চাঁদাবাজ চক্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নৌযান শ্রমিক বলেন, নদীতে ৩ থেকে ৪টি স্থানে চাঁদা দিতে হয়। ছাতকে বিআইডব্লিউটিএ’র নামে একটি রশিদ দিয়ে নৌকা প্রতি ৮-৯ হাজার আদায় করা হয়। টাকা না দিলে মারধরের পাশাপাশি নৌকায় লুটপাট করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র নির্দিষ্ট ঘাটে পণ্য লোড-আনলোড হলে টোল আদায় হওয়ার কথা। নির্ধারিত ঘাট ছাড়া অবৈধভাবে চলন্ত অবস্থায় মোট অঙ্কের টাকা নিচ্ছে একটা চক্র।

এদিকে নৌপথে চাঁদাবাজির নেপথ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ঘাটে বালু পাথর লোড-আনলোড হলে টোল আদায় করার কথা থাকলেও ‘স্পট কোটেশনের’ নামে একটি মহলকে চলন্ত নৌযান থেকে অনৈতিক সুযোগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে কোন সাড়া পাওয়া যায় নি।

ছাতক নৌ পুলিশের দায়িত্বপালন নিয়েও নানান সন্দেহ রয়েছে, কেউ কেউ বলছেন নৌ পুলিশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, নদী বন্দর নিরাপত্তার জন্য সরকার আলাদা ভাবে নৌ পুলিশ গঠন করেছে কিন্তু ছাতক নৌ পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্হানীয় ব্যবসায়ী ও নৌ শ্রমিকরা। ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন বলেন, যদি কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন তা তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।