ঢাকা ০৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুয়াকাটায় ফিস ফ্রাই রাস্তা নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ সরকারি বালু ব্যবহারে চাঞ্চল্য ঠিকাদারের মালমা দেয়ার হুমকিতে আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। অনিশ্চয়তা কাটিয়ে হাসিমুখে পরীক্ষার টেবিলে ৩৩ শিক্ষার্থী রাজশাহী চেম্বার নির্বাচনে ইমাম মেহেদীর বিশাল জয় ব্যবসায়ীদের আস্থার প্রতিফলন রাজশাহীর পদ্মা পাড়ে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য আতঙ্কে স্থানীয়রা আমিনবাজারে গ্যাস সংযোগ চালুর দাবিতে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে ভোগান্তিতে যাত্রীরা সাভার ও আশুলিয়ায় ডিবির বিশেষ অভিযানে বিপুল ইয়াবা ও হেরোইনসহ সাতজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার করে মানিকগঞ্জে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ শেষে হত্যা অভিযুক্ত পলাতক গণপিটুনিতে বাবা-চাচা নিহত হয়েছে আমিনবাজারে গ্যাস সংযোগ চালুর দাবিতে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে ভোগান্তিতে যাত্রীরা চট্টগ্রামে মামলার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রাইভেট কার উদ্ধার, চাকরিচ্যুত চালক গ্রেপ্তার মতিহারে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রূপা-১৬ পরিবারের মিলনমেলা

বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মই নিয়ম: সরকারি ঔষধ গায়েব, চিকিৎসায় ভরসা ড্রেসার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা (রাজশাহী):
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
14 / 100 SEO Score
62

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের একক নিয়ন্ত্রণে চলছে অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম। সরকারি বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব নিয়মে দপ্তর পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সময়মতো অফিসে না আসা, সরকারি ঔষধ ও ভ্যাকসিন গোপনে বিক্রি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে ড্রেসার দিয়ে পশুর চিকিৎসা করানোর মতো গুরুতর অনিয়মে অতিষ্ঠ স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস শুরুর কথা থাকলেও ভেটেরিনারি সার্জন শরিফুল ইসলাম অফিসে আসেন বেলা ১১টার পর।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রশ্রয়েই তিনি এই স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তার পাওয়া যায় না। অথচ অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ফিল্ড ভিজিটের অজুহাত দিয়ে দায় সারেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভ্যাকসিন ও ঔষধ গোপনে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।

এই চক্রের মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন রাকিব হাসান নামে এক পল্লী চিকিৎসক (পি-আই লাইসেন্সধারী)। সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে সরকারি ওষুধসহ তাকে হাতেনাতে ধরা হলেও তিনি মালামাল ফেলে পালিয়ে যান।

অভিযোগ রয়েছে, ডা. আমিনুল ইসলামের সরাসরি যোগসাজশেই এই কালোবাজারি চলছে। হাসপাতালে আসা রোগীরা জানান, তাদের শুধু প্রেসক্রিপশন লিখে দেওয়া হয় এবং বাইরে থেকে চড়া দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হয়।

ভেটেরিনারি সার্জনের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের ত্রাতা হয়ে ওঠেন ড্রেসার রনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না হয়েও তিনি অবৈধভাবে গবাদিপশুকে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকসহ ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা প্রদান করছেন। ড্রেসারের লেখা প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার প্রমাণ এখন সংবাদকর্মীদের হাতে।

একজন ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, “একজন ড্রেসার যদি ডাক্তারের কাজ করেন, তবে আমাদের পশুর জীবন তো ঝুঁকিতে থাকবেই। আমরা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।” দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে ১১ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন।

এই জনবল সংকটকে পুঁজি করে অনিয়ম আরও জেঁকে বসেছে। এসব বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বাঘার প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে এবং খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় এই দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মই নিয়ম: সরকারি ঔষধ গায়েব, চিকিৎসায় ভরসা ড্রেসার

আপডেট সময় : ০৬:১৯:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
14 / 100 SEO Score
62

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের একক নিয়ন্ত্রণে চলছে অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম। সরকারি বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব নিয়মে দপ্তর পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সময়মতো অফিসে না আসা, সরকারি ঔষধ ও ভ্যাকসিন গোপনে বিক্রি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে ড্রেসার দিয়ে পশুর চিকিৎসা করানোর মতো গুরুতর অনিয়মে অতিষ্ঠ স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস শুরুর কথা থাকলেও ভেটেরিনারি সার্জন শরিফুল ইসলাম অফিসে আসেন বেলা ১১টার পর।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রশ্রয়েই তিনি এই স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তার পাওয়া যায় না। অথচ অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ফিল্ড ভিজিটের অজুহাত দিয়ে দায় সারেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভ্যাকসিন ও ঔষধ গোপনে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।

এই চক্রের মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন রাকিব হাসান নামে এক পল্লী চিকিৎসক (পি-আই লাইসেন্সধারী)। সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে সরকারি ওষুধসহ তাকে হাতেনাতে ধরা হলেও তিনি মালামাল ফেলে পালিয়ে যান।

অভিযোগ রয়েছে, ডা. আমিনুল ইসলামের সরাসরি যোগসাজশেই এই কালোবাজারি চলছে। হাসপাতালে আসা রোগীরা জানান, তাদের শুধু প্রেসক্রিপশন লিখে দেওয়া হয় এবং বাইরে থেকে চড়া দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হয়।

ভেটেরিনারি সার্জনের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের ত্রাতা হয়ে ওঠেন ড্রেসার রনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না হয়েও তিনি অবৈধভাবে গবাদিপশুকে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকসহ ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা প্রদান করছেন। ড্রেসারের লেখা প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার প্রমাণ এখন সংবাদকর্মীদের হাতে।

একজন ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, “একজন ড্রেসার যদি ডাক্তারের কাজ করেন, তবে আমাদের পশুর জীবন তো ঝুঁকিতে থাকবেই। আমরা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।” দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে ১১ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন।

এই জনবল সংকটকে পুঁজি করে অনিয়ম আরও জেঁকে বসেছে। এসব বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বাঘার প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে এবং খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় এই দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।