ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই বিরুলিয়ার ইউনিয়ন ফাঁড়ি ইনচার্জ আল আমীন উলিপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নিজেকে আধুনিক ও আপডেটেড রেখে জনগণের সেবা করতে হবে: আইজিপি উৎসবের আমেজে বাঘায় পহেলা বৈশাখ উদযাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত আদালতে ২০ মিনিট অবস্থান শেষে সিঁড়ি থেকে পড়ে যান শিরীন শারমিন রাজশাহীতে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় মিথ্যা অপবাদের অভিযোগ উলিপুর হাসপাতালে ছাদের পলেস্তারা খসে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেন বাবা-মেয়ে বাঘায় মাদকসহ একজন আটক, ৪০ পিস ইয়াবা উদ্ধার মনিগ্রামে পুকুরে চা বিক্রেতার লাশ উদ্ধার, রহস্য ঘিরে চাঞ্চল্য ২০ বছর পলাতক থাকার পর রাজশাহীতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

আশুলিয়ায় এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আনোয়ার হোসেন আন্নু বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:০৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
42

আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচট এলাকায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাইভেট শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মা আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ গাজীরচট এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ সাহিদা আক্তার (৪০)-এর মেয়ে মোছাঃ তাইবা আক্তার স্বর্ণা (১৪) স্থানীয় গাজীরচট মডেল হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। একই স্কুলের শিক্ষক পরিচয়ে অভিযুক্ত মোঃ আতিকুর রহমানের কাছে সে প্রাইভেট পড়ত।

গত ৩০ মার্চ দুপুর আনুমানিক আড়াইটা দিকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় স্বর্ণা। এরপর থেকে সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে স্কুলে গিয়ে খোঁজ নিলে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বিভিন্ন অজুহাত দিতে থাকেন, যা পরিবারের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, নিখোঁজ হওয়ার সময় স্বর্ণা পরিবারের অজান্তে ঘরে থাকা নগদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার সঙ্গে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। পরিবারের দাবি, পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং অভিযুক্তরা কৌশলে তাকে প্রলুব্ধ করে এসব অর্থ ও স্বর্ণ হাতিয়ে নিয়েছে।

ঘটনার দিন সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান ভুক্তভোগীর বাসায় এসে উল্টো মেয়েকে খুঁজে দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি অসংলগ্ন ও এড়ানো ধরনের কথা বলতে থাকেন, যা তার সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো করে।

ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত আতিকুর রহমান, মোজাম্মেল ও মাসুদ মিলে পরিকল্পিতভাবে স্বর্ণাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গেছে। এরপর থেকে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যদি এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তাহলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়?

আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আশুলিয়ায় এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আপডেট সময় : ০৬:০৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
42

আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচট এলাকায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাইভেট শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মা আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ গাজীরচট এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ সাহিদা আক্তার (৪০)-এর মেয়ে মোছাঃ তাইবা আক্তার স্বর্ণা (১৪) স্থানীয় গাজীরচট মডেল হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। একই স্কুলের শিক্ষক পরিচয়ে অভিযুক্ত মোঃ আতিকুর রহমানের কাছে সে প্রাইভেট পড়ত।

গত ৩০ মার্চ দুপুর আনুমানিক আড়াইটা দিকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় স্বর্ণা। এরপর থেকে সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে স্কুলে গিয়ে খোঁজ নিলে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বিভিন্ন অজুহাত দিতে থাকেন, যা পরিবারের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, নিখোঁজ হওয়ার সময় স্বর্ণা পরিবারের অজান্তে ঘরে থাকা নগদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার সঙ্গে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। পরিবারের দাবি, পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং অভিযুক্তরা কৌশলে তাকে প্রলুব্ধ করে এসব অর্থ ও স্বর্ণ হাতিয়ে নিয়েছে।

ঘটনার দিন সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান ভুক্তভোগীর বাসায় এসে উল্টো মেয়েকে খুঁজে দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি অসংলগ্ন ও এড়ানো ধরনের কথা বলতে থাকেন, যা তার সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো করে।

ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত আতিকুর রহমান, মোজাম্মেল ও মাসুদ মিলে পরিকল্পিতভাবে স্বর্ণাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গেছে। এরপর থেকে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যদি এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তাহলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়?

আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।