জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নির্ধারণে আলোচনার জন্য সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে
- আপডেট সময় : ০৬:২০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নির্ধারণ নিয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদে মুলতবি প্রস্তাব এনেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। আজ সোমবার বিকেলে তিনি প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। তবে এটি গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্পিকারের আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদে জানান, প্রস্তাবটি নিয়ে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর সিদ্ধান্ত জানানো হবে। কিন্তু পরে এ বিষয়ে আর কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। রাত সোয়া আটটার পর সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংবিধান–সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের একটি ধাপ ছিল গণভোট। সেখানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে বর্তমান সংসদকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করার কথা। তবে এখনো এ পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি। বিএনপির সংসদ সদস্যরাও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
এর আগে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান নিয়ে আলোচনার জন্য গত রোববার বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটি নিয়ে মঙ্গলবার সংসদে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে আজ কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ নিয়ে আলোচনার জন্য নতুন করে মুলতবি প্রস্তাব তোলেন।
পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, গত ২৯ মার্চ বিরোধীদলীয় নেতার একটি নোটিশ গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেটি আলোচনার জন্য নির্ধারিত। বিধি অনুযায়ী, একই বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা করা যায় না। তাই শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের প্রস্তাবটি মুলতবি প্রস্তাব হিসেবে গ্রহণ করা যাচ্ছে না।
তবে স্পিকারের এ বক্তব্যের পর আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, দুটি প্রস্তাব এক নয়। বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের প্রস্তাব আলাদা বিষয়। তিনি বলেন, আগের প্রস্তাবটি ছিল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে, আর আজকের প্রস্তাবটি সরাসরি জুলাই সনদ নিয়ে—যা আলাদাভাবে আলোচনার দাবি রাখে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বলেন, তিনি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের নোটিশ পাননি। তবে আইনমন্ত্রী যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে—এটি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নির্ধারণ নিয়ে একটি আলাদা প্রস্তাব।
তিনি আরও বলেন, স্পিকার যদি এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন, তাহলে তা নিয়ে আলাদা দিন নির্ধারণ করে আলোচনা করা উচিত।
সবশেষে সভাপতি কায়সার কামাল জানান, নোটিশটি পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।



















