ঢাকা ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাংবাদিকদের ঐক্য ও সম্প্রীতিতে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল যানবাহনে প্রয়োজনে জ্বালানি তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দিলো সরকার কিশোরগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন মহিপুর ও আলিপুর বাজারে অবৈধ দখলদারদের হীরক ব্যবসা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও খাস জমি বিক্রি ও বহুতল ভবন নির্মাণ উলিপুরবাসী আমাকে ভোট দিয়েছেন এমপি আমি একা নই আমরা সবাই সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী উলিপুরে গাঁজা সেবনের দায়ে যুবকের ৪ মাসের কারাদণ্ড উলিপুরকে সবফুলের মিশ্রণে ফুটন্ত বাগান হিসেবে দেখতে চাই এমপি ব্যারিস্টার সালেহী নওগাঁয় পরিবেশ আইনে মোবাইল কোর্ট, অবৈধ ইটভাটায় জরিমানা বাঘায় পৃথক অভিযানে দুই মামলার আসামি গ্রেপ্তার শিক্ষকরা শুধু শিক্ষক নন নতুন উলিপুর বিনির্মাণে আপনারাই কারিগর মাহবুবুল আলম সালেহী

মহিপুর ও আলিপুর বাজারে অবৈধ দখলদারদের হীরক ব্যবসা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও খাস জমি বিক্রি ও বহুতল ভবন নির্মাণ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:০২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
27

পটুয়াখালীজেলার মহিপুর ও আলিপুর বাজারে আইনকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি ও খাস খতিনের জমি দখল করে বিপুল ব্যবসা চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই জমিগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতের মুঠোয় চলে যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, দখলদাররা আইনকে ফাঁকি দিয়ে খাস জমি দখল করে ভাড়াভিত্তিক দোকান ও বসত ঘর তৈরির পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করছে।

এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মহিপুর বাজারের অনেক দোকানদার নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক বলেন, আমরা অনেকবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু এখনও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। অবৈধ দখলদাররা খাস জমি বেচে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, এই জমিগুলো সরকারি এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ।

তবে স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার কারণে দখলদারদের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু দোকান নয়, বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অঞ্চলকে অবৈধভাবে দখল করে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কয়েকজন দখলদার সরকারি জমির কাগজ জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রয়ও করছে।

একজন মহিপুরের বাসিন্দা বলেন, আইন থাকলেও এখানে তা কার্যকর হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, তারা বিষয়টি নজরে রেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষ মনে করছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

এই অবৈধ দখল ও বিক্রি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে না, বরং এলাকায় সামাজিক অশান্তিও তৈরি করছে। স্থানীয়রা বলছেন, যারা খাস জমি দখল করছে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে আইনকে উপেক্ষা করছে। স্থানীয় ছাত্র সমাজ ও সুশীল সমাজ এই বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার।

তারা জানিয়েছে, এমন দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, বহুতল ভবনের নির্মাণের ফলে স্থানীয় নদী-নালা ও পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদী ভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে গেছে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

একজন পরিবেশবিদ বলেন, খাস জমি দখল করে যেভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণভাবে পরিবেশ-বিরোধী। এটি সমগ্র এলাকার বাস্তুসংস্থানকে হুমকির মুখে ফেলেছে। স্থানীয়রা আবারো দাবি করছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি ও খাস খতিনের জমির অবৈধ দখল রোধ করতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অবিলম্বে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে জনগণ প্রতিবাদে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মহিপুর ও আলিপুর বাজারে অবৈধ দখলদারদের হীরক ব্যবসা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও খাস জমি বিক্রি ও বহুতল ভবন নির্মাণ

আপডেট সময় : ০২:০২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
27

পটুয়াখালীজেলার মহিপুর ও আলিপুর বাজারে আইনকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি ও খাস খতিনের জমি দখল করে বিপুল ব্যবসা চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই জমিগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতের মুঠোয় চলে যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, দখলদাররা আইনকে ফাঁকি দিয়ে খাস জমি দখল করে ভাড়াভিত্তিক দোকান ও বসত ঘর তৈরির পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করছে।

এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মহিপুর বাজারের অনেক দোকানদার নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক বলেন, আমরা অনেকবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু এখনও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। অবৈধ দখলদাররা খাস জমি বেচে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, এই জমিগুলো সরকারি এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ।

তবে স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার কারণে দখলদারদের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু দোকান নয়, বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অঞ্চলকে অবৈধভাবে দখল করে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কয়েকজন দখলদার সরকারি জমির কাগজ জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রয়ও করছে।

একজন মহিপুরের বাসিন্দা বলেন, আইন থাকলেও এখানে তা কার্যকর হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, তারা বিষয়টি নজরে রেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষ মনে করছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

এই অবৈধ দখল ও বিক্রি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে না, বরং এলাকায় সামাজিক অশান্তিও তৈরি করছে। স্থানীয়রা বলছেন, যারা খাস জমি দখল করছে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে আইনকে উপেক্ষা করছে। স্থানীয় ছাত্র সমাজ ও সুশীল সমাজ এই বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার।

তারা জানিয়েছে, এমন দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, বহুতল ভবনের নির্মাণের ফলে স্থানীয় নদী-নালা ও পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদী ভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে গেছে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

একজন পরিবেশবিদ বলেন, খাস জমি দখল করে যেভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণভাবে পরিবেশ-বিরোধী। এটি সমগ্র এলাকার বাস্তুসংস্থানকে হুমকির মুখে ফেলেছে। স্থানীয়রা আবারো দাবি করছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি ও খাস খতিনের জমির অবৈধ দখল রোধ করতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অবিলম্বে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে জনগণ প্রতিবাদে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।