ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত উলিপুরে ফুল শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ৪৯ শিক্ষার্থী পেল সনদ ও নগদ অর্থ রাজশাহীতে ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ বাঘায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গলায় ওড়না পেঁ/চিয়ে শিক্ষার্থীর আ/ত্মহ/ত্যা সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান অবাঞ্ছিত ঘোষণা উলিপুরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার উলিপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান সরকারের দাফন সম্পন্ন বাঘায় ৭ম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী নিখোঁজ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ রাজশাহীতে ২ রেস্তোরাঁয় হামলা ককটেল বিস্ফোরণ পুলিশ আহত প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

মহিপুর ও আলিপুর বাজারে অবৈধ দখলদারদের হীরক ব্যবসা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও খাস জমি বিক্রি ও বহুতল ভবন নির্মাণ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:০২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ২৮৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
307

পটুয়াখালীজেলার মহিপুর ও আলিপুর বাজারে আইনকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি ও খাস খতিনের জমি দখল করে বিপুল ব্যবসা চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই জমিগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতের মুঠোয় চলে যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, দখলদাররা আইনকে ফাঁকি দিয়ে খাস জমি দখল করে ভাড়াভিত্তিক দোকান ও বসত ঘর তৈরির পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করছে।

এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মহিপুর বাজারের অনেক দোকানদার নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক বলেন, আমরা অনেকবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু এখনও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। অবৈধ দখলদাররা খাস জমি বেচে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, এই জমিগুলো সরকারি এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ।

তবে স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার কারণে দখলদারদের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু দোকান নয়, বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অঞ্চলকে অবৈধভাবে দখল করে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কয়েকজন দখলদার সরকারি জমির কাগজ জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রয়ও করছে।

একজন মহিপুরের বাসিন্দা বলেন, আইন থাকলেও এখানে তা কার্যকর হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, তারা বিষয়টি নজরে রেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষ মনে করছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

BD NEWS 24 13

এই অবৈধ দখল ও বিক্রি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে না, বরং এলাকায় সামাজিক অশান্তিও তৈরি করছে। স্থানীয়রা বলছেন, যারা খাস জমি দখল করছে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে আইনকে উপেক্ষা করছে। স্থানীয় ছাত্র সমাজ ও সুশীল সমাজ এই বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার।

তারা জানিয়েছে, এমন দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, বহুতল ভবনের নির্মাণের ফলে স্থানীয় নদী-নালা ও পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদী ভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে গেছে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

একজন পরিবেশবিদ বলেন, খাস জমি দখল করে যেভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণভাবে পরিবেশ-বিরোধী। এটি সমগ্র এলাকার বাস্তুসংস্থানকে হুমকির মুখে ফেলেছে। স্থানীয়রা আবারো দাবি করছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি ও খাস খতিনের জমির অবৈধ দখল রোধ করতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অবিলম্বে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে জনগণ প্রতিবাদে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মহিপুর ও আলিপুর বাজারে অবৈধ দখলদারদের হীরক ব্যবসা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও খাস জমি বিক্রি ও বহুতল ভবন নির্মাণ

আপডেট সময় : ০২:০২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
307

পটুয়াখালীজেলার মহিপুর ও আলিপুর বাজারে আইনকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি ও খাস খতিনের জমি দখল করে বিপুল ব্যবসা চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই জমিগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতের মুঠোয় চলে যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, দখলদাররা আইনকে ফাঁকি দিয়ে খাস জমি দখল করে ভাড়াভিত্তিক দোকান ও বসত ঘর তৈরির পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করছে।

এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মহিপুর বাজারের অনেক দোকানদার নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক বলেন, আমরা অনেকবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু এখনও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। অবৈধ দখলদাররা খাস জমি বেচে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, এই জমিগুলো সরকারি এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ।

তবে স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার কারণে দখলদারদের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু দোকান নয়, বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অঞ্চলকে অবৈধভাবে দখল করে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কয়েকজন দখলদার সরকারি জমির কাগজ জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রয়ও করছে।

একজন মহিপুরের বাসিন্দা বলেন, আইন থাকলেও এখানে তা কার্যকর হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, তারা বিষয়টি নজরে রেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষ মনে করছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

BD NEWS 24 13

এই অবৈধ দখল ও বিক্রি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে না, বরং এলাকায় সামাজিক অশান্তিও তৈরি করছে। স্থানীয়রা বলছেন, যারা খাস জমি দখল করছে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে আইনকে উপেক্ষা করছে। স্থানীয় ছাত্র সমাজ ও সুশীল সমাজ এই বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার।

তারা জানিয়েছে, এমন দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, বহুতল ভবনের নির্মাণের ফলে স্থানীয় নদী-নালা ও পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদী ভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে গেছে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

একজন পরিবেশবিদ বলেন, খাস জমি দখল করে যেভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণভাবে পরিবেশ-বিরোধী। এটি সমগ্র এলাকার বাস্তুসংস্থানকে হুমকির মুখে ফেলেছে। স্থানীয়রা আবারো দাবি করছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি ও খাস খতিনের জমির অবৈধ দখল রোধ করতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অবিলম্বে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে জনগণ প্রতিবাদে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।