ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভারের মোফাজ্জল মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত বাঘার চকরাজাপুরে ২০০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ সাভারে নারী মাদক সিন্ডিকেটে আঘাত: ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ও ফেনসিডিলসহ দুই নারী কারবারি গ্রেপ্তার নান্দাইলে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন সভাপতির দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী আসন্ন বাঘা পৌর নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী মো কামাল হোসেন বাঘায় ফ্রি ফায়ার গেম ঘিরে সংঘর্ষে কুপিয়ে জখম ১ গ্রেপ্তার ফরিদ রাজশাহীতে দুই সাংবাদিকের ওপর নৃশংস হামলা সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি সাভার পৌরসভা ২ নং ওয়ার্ডে ঢাকা জেলা যুবদলের উদ্যোগে বংশী নদীতে মৎস্য অবমুক্তকরণ করে নান্দাইলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রথমবার এক টেবিলে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা জুলাই শহীদ জুবাইদের পরিবারের পাশে ছাত্রদল, পৌঁছে দিল তারেক রহমানের উপহার

বিদ্যুৎহীন বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে ৩ বছর ধরে ঝুলছে তালা সেবা নিতে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৮:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ২৪৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
287

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক ভবনটি তিন বছর ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্মিত ভবনটিতে এখন ঝুলছে তালা। নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, নেই নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম। ফলে জন্মনিবন্ধন, প্রত্যয়নপত্র, ভিজিএফ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ নানা সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম এখন আর পরিষদ ভবনে পরিচালিত হয় না। চেয়ারম্যানের বাড়ি ও হাটের চায়ের দোকানে বসেই চলছে বিভিন্ন কার্যক্রম। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা। দূর-দূরান্ত থেকে এসে পরিষদ ভবনে তালা ঝুলতে দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককেই। সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের চারপাশে জন্মেছে আগাছা। ভবনের ভেতরে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। নির্ধারিত কক্ষে বসতে পারেন না ইউপি সদস্যরাও। স্থানীয় মোল্লারহাট বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসেই অনেক সময় জনপ্রতিনিধিরা মানুষের কাজ সারছেন। অন্যদিকে তথ্যসেবা কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে বাজারের একটি বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের দোকানে। এমনকি ইউপি সদস্যদের মাসিক সভাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে চায়ের দোকানে। ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, পরিষদের মাঠ ভরাট ও বিদ্যুৎ বিলের জন্য একাধিকবার সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হলেও তা যথাযথভাবে ব্যয় হয়নি। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ বিভাগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর আর সংযোগ চালু হয়নি। তিনি বলেন, “চেয়ারম্যানের টালবাহানায় তিন বছর কেটে গেল। কবে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হবে জানি না।” ইউপি সদস্য মো. শফি ও আব্দুল হামিদ শেখ বলেন, “বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর জন্য আমরা টাকা তুলে চেয়ারম্যানকে দিয়েছি। কিন্তু তিন বছরেও সংযোগ চালু হয়নি। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। দ্রুত পরিষদ সচল করার দাবি জানাই।” স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, “এত বড় ভবন করে কোনো লাভ হয়নি। মানুষ সেবা পায় না। পরিষদে গেলে তালা ঝুলতে দেখা যায়।” রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জন্মনিবন্ধন কিংবা অন্যান্য জরুরি কাজে মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে আসে। কিন্তু পরিষদ বন্ধ দেখে ফিরে যেতে হয়। চেয়ারম্যানের বাড়িই এখন ইউনিয়ন পরিষদে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলে না।” অভিযোগের বিষয়ে বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাবলু মিয়া বলেন, “এলাকার পরিবেশ ভালো না হওয়ায় নিয়মিত পরিষদে বসা হয় না। হাট-বাজার ও বাড়িতে বসেই কাজ করি। বিশেষ প্রয়োজন হলে পরিষদ খোলা হয়। ইউনিয়ন সচিবও নিয়মিত আসে না।” বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বকেয়া পরিশোধ করে এক মাসের মধ্যে সংযোগ চালু করা হবে।” এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিদ্যুৎহীন বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে ৩ বছর ধরে ঝুলছে তালা সেবা নিতে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
287

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক ভবনটি তিন বছর ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্মিত ভবনটিতে এখন ঝুলছে তালা। নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, নেই নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম। ফলে জন্মনিবন্ধন, প্রত্যয়নপত্র, ভিজিএফ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ নানা সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম এখন আর পরিষদ ভবনে পরিচালিত হয় না। চেয়ারম্যানের বাড়ি ও হাটের চায়ের দোকানে বসেই চলছে বিভিন্ন কার্যক্রম। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা। দূর-দূরান্ত থেকে এসে পরিষদ ভবনে তালা ঝুলতে দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককেই। সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের চারপাশে জন্মেছে আগাছা। ভবনের ভেতরে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। নির্ধারিত কক্ষে বসতে পারেন না ইউপি সদস্যরাও। স্থানীয় মোল্লারহাট বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসেই অনেক সময় জনপ্রতিনিধিরা মানুষের কাজ সারছেন। অন্যদিকে তথ্যসেবা কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে বাজারের একটি বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের দোকানে। এমনকি ইউপি সদস্যদের মাসিক সভাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে চায়ের দোকানে। ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, পরিষদের মাঠ ভরাট ও বিদ্যুৎ বিলের জন্য একাধিকবার সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হলেও তা যথাযথভাবে ব্যয় হয়নি। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ বিভাগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর আর সংযোগ চালু হয়নি। তিনি বলেন, “চেয়ারম্যানের টালবাহানায় তিন বছর কেটে গেল। কবে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হবে জানি না।” ইউপি সদস্য মো. শফি ও আব্দুল হামিদ শেখ বলেন, “বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর জন্য আমরা টাকা তুলে চেয়ারম্যানকে দিয়েছি। কিন্তু তিন বছরেও সংযোগ চালু হয়নি। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। দ্রুত পরিষদ সচল করার দাবি জানাই।” স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, “এত বড় ভবন করে কোনো লাভ হয়নি। মানুষ সেবা পায় না। পরিষদে গেলে তালা ঝুলতে দেখা যায়।” রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জন্মনিবন্ধন কিংবা অন্যান্য জরুরি কাজে মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে আসে। কিন্তু পরিষদ বন্ধ দেখে ফিরে যেতে হয়। চেয়ারম্যানের বাড়িই এখন ইউনিয়ন পরিষদে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলে না।” অভিযোগের বিষয়ে বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাবলু মিয়া বলেন, “এলাকার পরিবেশ ভালো না হওয়ায় নিয়মিত পরিষদে বসা হয় না। হাট-বাজার ও বাড়িতে বসেই কাজ করি। বিশেষ প্রয়োজন হলে পরিষদ খোলা হয়। ইউনিয়ন সচিবও নিয়মিত আসে না।” বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বকেয়া পরিশোধ করে এক মাসের মধ্যে সংযোগ চালু করা হবে।” এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।