ঢাকা ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংগ্রামী মায়ের পাশে জেলা প্রশাসন, গণশুনানিতে মানবিক দৃষ্টান্ত সাভারের লিঙ্গ বৈচিত্র্য জনগোষ্ঠীর উদ্যোক্তা ও চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয় বাঘায় একই বিছানায় স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ নান্দাইলের গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে ডিজিটাল পরিকল্পনার উদ্যোগ সেবা সহজ করতে অনলাইনে গণশুনানির আয়োজন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনে’র প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার পরদিনই গোদাগাড়ীর শীর্ষ ব্যবসায়ী আজাদ আটক শাপলার হাসি বাঘায় পদ্মার শাখা নদীতে ডুবে যুবকের মৃত্যু মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশনের বিবৃতি বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আবেগঘন বার্তা, শৈশবের ছবি শেয়ার করলেন লামিনে ইয়ামাল

পুঠিয়ায় আম বাগান কেটে হচ্ছে পুকুর সংস্কারের নামে যাচ্ছে মাটি ইটভাটায়

আবুল হাশেম রাজশাহী ব্যুরোঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ১৩০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
148

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ‘পুকুর সংস্কারের’ আড়ালে অবৈধভাবে আম বাগান সহ ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। প্রভাবশালী মাটি খেকো চক্র ও অসাধু ব্যবসায়ীরা ভেকু (স্কেভেটর) বা খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে তা ইটভাটায়, অন্যত্র বিক্রি করে দিচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন আবাদযোগ্য জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে অনুমোদনহীন ভারী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এ যেন দেখার কেউ নেই।

জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন ২০২৬) শীলমাড়িয়া ইউনিয়নের সাঁতার পাড়া এলাকার (দিয়াড় পাড়া) নামক স্থানে অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর হাবিবুর রহমানের নিজস্ব একটি পুকুর সংস্কারের নামে প্রকাশ্যে দিবালোকে আমের বাগান কেটে সমতল জমি কে বানানো হচ্ছে পুকুর, মাটি যাচ্ছে একই ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া দোয়েল ইটভাটায়।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পুকুর মালিকের ছেলে শিশির বলেন এটি খননের জন্য সরকারিভাবে অনুমোদন নেওয়া আছে, অনুমোদন পত্রটি ইটভাটা মালিক নয়নের কাছে আছে আপনারা চাইলে তার কাছ থেকে দেখতে পারেন। তার সাথে আমাদের চুক্তি হয়েছে পুকুর খননের বিনিময়ে মাটি তার ইটভাটায় নিয়ে যাবে।

এর আগেও দায়িত্ব নিয়ে সে আমাদের আরো পুকুর খনন করে দিয়েছে। এ বিষয়ে ইটভাটা মালিক নয়ন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন আমি ব্যবসা করি সরকারকে ট্যাক্স ভ্যাট দিয়েই, আমি একজন কলেজের শিক্ষক আমি জানি কিভাবে কি করতে হয়, আমার এইটার পারমিশন পুঠিয়া ইউএনও অফিস থেকে নেওয়া আছে।

তবে অনুবাদনের কাগজ চাওয়া হলে তিনি বলেন ইউএনও অফিস থেকেই সংগ্রহ করে নিতে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে। অন্যদিকে উপজেলায় যত্রতত্র পাল্লা দিয়ে চলছে পুকুর কেটে মাটি বিক্রির মহোৎসব। বাদ পড়ছে না কৃষিজমিও।

ড্রাম ট্রাকের পাশাপাশি রাস্তায় চলাচল নিষিদ্ধ অবৈধ ট্রাক্টরে মাত্রাতিরিক্ত মাটি বহনের কারণে গ্রামের সড়কগুলোর বেহাল দশা হয়েছে। বর্তমানে পুঠিয়ায় প্রায় ১৮টি পুকুর খননের কাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, গত ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও থামেনি পুকুর খননের হিড়িক।

শুধু বদলেছে হুকুমদাতা। বর্তমানে পুকুর খনন যাদের নির্দেশনায় হচ্ছে তারা আগে করত আওয়ামী লীগ। আর এখন ভোল পাল্টে হয়ে গেছে বিএনপি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন ঘটলেও আওয়ামী দোসরদের অসমাপ্ত পুকুর খননের কাজ শেষ করার দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির কয়েকজন নেতা ও পাতি নেতা। মূলত পুকুর খনন করে কিছু অসাধু ভূমিদস্যু।

তারা এলাকার পাতি নেতা। তবে তাদের শেল্টার দিচ্ছে হেভিওয়েট নেতারা। এ কারণে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। পুঠিয়ায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুকুর খনন ব্যবসা করে কোটিপতি হয়েছেন অনেক নেতাকর্মী।

তখন সবচেয়ে বেশি পুকুর খনন হয় বেলপুকুর, শিলমাড়িয়া, জিউপাড়া ও ভাল্লুকগাছী ইউনিয়নে। এতে ব্যাপকহারে কমেছে দুই ও তিন ফসলি জমির পরিমাণ। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পরও অবৈধ পুকুর খনন থামেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় পুকুর খনন কখনোই বন্ধ হয় না। বরং ক্রমেই তা বেড়ে চলেছে। আবাদী জমি পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা কান্তার বিল ৩শ বিঘা, গোটিয়া ২শ বিঘা আবার কোনো কোনো স্থানে খাল-বিল নদী-নালার প্রবেশ মুখে পুকুর খনন করায় পানি পারাপার হতে পারছে না।

ভালুকগাছি কান্দার বিলের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, পুকুর করে কিছু মানুষের উপকার হয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। শিলমাড়িয়া সড়গাছি বিলে কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, সরকারিভাবে সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে কঠোর হস্তে জলাবদ্ধতা দূর করতে হবে।

তাও আবার দ্রুত না করতে পারলে, এলাকার কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে উপজেলাজুড়ে যেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), শিবু দাশ বলেন আমার এখান থেকে এ ধরনের কোন অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করতে হলে ডিসি অফিসে আবেদনের মাধ্যমে অনুমোদন করতে হয়। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বলেন গণমাধ্যমের সামনে ইউএনও স্যারের নাম ভাঙ্গানোর বিষয়টি স্যারের সঙ্গে পরামর্শ করেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমানকে বিষয়টি ফোনের মাধ্যমে অবগত করা হলে বক্তব্য নেওয়ার আগেই ফোনটি কেটে যায় পুনরায় ফোনে তিনার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পুঠিয়ায় আম বাগান কেটে হচ্ছে পুকুর সংস্কারের নামে যাচ্ছে মাটি ইটভাটায়

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
148

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ‘পুকুর সংস্কারের’ আড়ালে অবৈধভাবে আম বাগান সহ ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। প্রভাবশালী মাটি খেকো চক্র ও অসাধু ব্যবসায়ীরা ভেকু (স্কেভেটর) বা খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে তা ইটভাটায়, অন্যত্র বিক্রি করে দিচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন আবাদযোগ্য জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে অনুমোদনহীন ভারী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এ যেন দেখার কেউ নেই।

জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন ২০২৬) শীলমাড়িয়া ইউনিয়নের সাঁতার পাড়া এলাকার (দিয়াড় পাড়া) নামক স্থানে অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর হাবিবুর রহমানের নিজস্ব একটি পুকুর সংস্কারের নামে প্রকাশ্যে দিবালোকে আমের বাগান কেটে সমতল জমি কে বানানো হচ্ছে পুকুর, মাটি যাচ্ছে একই ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া দোয়েল ইটভাটায়।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পুকুর মালিকের ছেলে শিশির বলেন এটি খননের জন্য সরকারিভাবে অনুমোদন নেওয়া আছে, অনুমোদন পত্রটি ইটভাটা মালিক নয়নের কাছে আছে আপনারা চাইলে তার কাছ থেকে দেখতে পারেন। তার সাথে আমাদের চুক্তি হয়েছে পুকুর খননের বিনিময়ে মাটি তার ইটভাটায় নিয়ে যাবে।

এর আগেও দায়িত্ব নিয়ে সে আমাদের আরো পুকুর খনন করে দিয়েছে। এ বিষয়ে ইটভাটা মালিক নয়ন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন আমি ব্যবসা করি সরকারকে ট্যাক্স ভ্যাট দিয়েই, আমি একজন কলেজের শিক্ষক আমি জানি কিভাবে কি করতে হয়, আমার এইটার পারমিশন পুঠিয়া ইউএনও অফিস থেকে নেওয়া আছে।

তবে অনুবাদনের কাগজ চাওয়া হলে তিনি বলেন ইউএনও অফিস থেকেই সংগ্রহ করে নিতে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে। অন্যদিকে উপজেলায় যত্রতত্র পাল্লা দিয়ে চলছে পুকুর কেটে মাটি বিক্রির মহোৎসব। বাদ পড়ছে না কৃষিজমিও।

ড্রাম ট্রাকের পাশাপাশি রাস্তায় চলাচল নিষিদ্ধ অবৈধ ট্রাক্টরে মাত্রাতিরিক্ত মাটি বহনের কারণে গ্রামের সড়কগুলোর বেহাল দশা হয়েছে। বর্তমানে পুঠিয়ায় প্রায় ১৮টি পুকুর খননের কাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, গত ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও থামেনি পুকুর খননের হিড়িক।

শুধু বদলেছে হুকুমদাতা। বর্তমানে পুকুর খনন যাদের নির্দেশনায় হচ্ছে তারা আগে করত আওয়ামী লীগ। আর এখন ভোল পাল্টে হয়ে গেছে বিএনপি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন ঘটলেও আওয়ামী দোসরদের অসমাপ্ত পুকুর খননের কাজ শেষ করার দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির কয়েকজন নেতা ও পাতি নেতা। মূলত পুকুর খনন করে কিছু অসাধু ভূমিদস্যু।

তারা এলাকার পাতি নেতা। তবে তাদের শেল্টার দিচ্ছে হেভিওয়েট নেতারা। এ কারণে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। পুঠিয়ায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুকুর খনন ব্যবসা করে কোটিপতি হয়েছেন অনেক নেতাকর্মী।

তখন সবচেয়ে বেশি পুকুর খনন হয় বেলপুকুর, শিলমাড়িয়া, জিউপাড়া ও ভাল্লুকগাছী ইউনিয়নে। এতে ব্যাপকহারে কমেছে দুই ও তিন ফসলি জমির পরিমাণ। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পরও অবৈধ পুকুর খনন থামেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় পুকুর খনন কখনোই বন্ধ হয় না। বরং ক্রমেই তা বেড়ে চলেছে। আবাদী জমি পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা কান্তার বিল ৩শ বিঘা, গোটিয়া ২শ বিঘা আবার কোনো কোনো স্থানে খাল-বিল নদী-নালার প্রবেশ মুখে পুকুর খনন করায় পানি পারাপার হতে পারছে না।

ভালুকগাছি কান্দার বিলের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, পুকুর করে কিছু মানুষের উপকার হয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। শিলমাড়িয়া সড়গাছি বিলে কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, সরকারিভাবে সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে কঠোর হস্তে জলাবদ্ধতা দূর করতে হবে।

তাও আবার দ্রুত না করতে পারলে, এলাকার কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে উপজেলাজুড়ে যেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), শিবু দাশ বলেন আমার এখান থেকে এ ধরনের কোন অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করতে হলে ডিসি অফিসে আবেদনের মাধ্যমে অনুমোদন করতে হয়। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বলেন গণমাধ্যমের সামনে ইউএনও স্যারের নাম ভাঙ্গানোর বিষয়টি স্যারের সঙ্গে পরামর্শ করেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমানকে বিষয়টি ফোনের মাধ্যমে অবগত করা হলে বক্তব্য নেওয়ার আগেই ফোনটি কেটে যায় পুনরায় ফোনে তিনার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।