ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভারের মোফাজ্জল মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত বাঘার চকরাজাপুরে ২০০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ সাভারে নারী মাদক সিন্ডিকেটে আঘাত: ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ও ফেনসিডিলসহ দুই নারী কারবারি গ্রেপ্তার নান্দাইলে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন সভাপতির দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী আসন্ন বাঘা পৌর নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী মো কামাল হোসেন বাঘায় ফ্রি ফায়ার গেম ঘিরে সংঘর্ষে কুপিয়ে জখম ১ গ্রেপ্তার ফরিদ রাজশাহীতে দুই সাংবাদিকের ওপর নৃশংস হামলা সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি সাভার পৌরসভা ২ নং ওয়ার্ডে ঢাকা জেলা যুবদলের উদ্যোগে বংশী নদীতে মৎস্য অবমুক্তকরণ করে নান্দাইলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রথমবার এক টেবিলে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা জুলাই শহীদ জুবাইদের পরিবারের পাশে ছাত্রদল, পৌঁছে দিল তারেক রহমানের উপহার

নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৪

মুজাহিদ হোসেন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ২৮৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
314

নওগাঁ সদর উপজেলার চাঞ্চল্যকর মিতু বানু হত্যা ও সেপটিক ট্যাংকে লাশ গোপন করার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জানুয়ারি সকালে আসামি জাহান আলী মনতাসুর নামে এক ব্যক্তিকে ফোন করে জানায় যে, তার বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে একটি লাশ রয়েছে। বিষয়টি জানার পরদিন সকালে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের ট্যাংকির ভেতর থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। পরে এ ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা (নং-৪৭) দায়ের করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মামলাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চারজন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানায়, গত ৭ মার্চ প্রথমে জাহান আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯ মার্চ সামিদুল ও সুজ্জাতকে এবং ১০ মার্চ রেন্টু ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা মিস মিতু বানুকে ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে নওগাঁ শহর থেকে বিল ভবানীপুর গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে গ্রামের মালা নামের এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত বাড়িতে জাহান আলী, রেন্টু, সুজ্জাত, সামিদুলসহ আরও ১-২ জন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল।

এ সময় টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে ভিকটিম মিতু বানু চিৎকার শুরু করেন। এতে মানসম্মানের ভয়ে আসামি রেন্টু তার মুখ ও গলা চেপে ধরে এবং অন্যরা হাত-পা ধরে রাখে। কিছুক্ষণ পর মিতু মারা গেলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে রেন্টুর পরামর্শে সবাই মিলে বিল ভবানীপুর গ্রামের মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে লাশ ফেলে গোপন করে রাখে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি সামিদুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ যেকোনো ধরনের অপরাধের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে সর্বদা তৎপর রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৪

আপডেট সময় : ১০:৫৫:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
314

নওগাঁ সদর উপজেলার চাঞ্চল্যকর মিতু বানু হত্যা ও সেপটিক ট্যাংকে লাশ গোপন করার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জানুয়ারি সকালে আসামি জাহান আলী মনতাসুর নামে এক ব্যক্তিকে ফোন করে জানায় যে, তার বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে একটি লাশ রয়েছে। বিষয়টি জানার পরদিন সকালে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের ট্যাংকির ভেতর থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। পরে এ ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা (নং-৪৭) দায়ের করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মামলাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চারজন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানায়, গত ৭ মার্চ প্রথমে জাহান আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯ মার্চ সামিদুল ও সুজ্জাতকে এবং ১০ মার্চ রেন্টু ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা মিস মিতু বানুকে ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে নওগাঁ শহর থেকে বিল ভবানীপুর গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে গ্রামের মালা নামের এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত বাড়িতে জাহান আলী, রেন্টু, সুজ্জাত, সামিদুলসহ আরও ১-২ জন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল।

এ সময় টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে ভিকটিম মিতু বানু চিৎকার শুরু করেন। এতে মানসম্মানের ভয়ে আসামি রেন্টু তার মুখ ও গলা চেপে ধরে এবং অন্যরা হাত-পা ধরে রাখে। কিছুক্ষণ পর মিতু মারা গেলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে রেন্টুর পরামর্শে সবাই মিলে বিল ভবানীপুর গ্রামের মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে লাশ ফেলে গোপন করে রাখে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি সামিদুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ যেকোনো ধরনের অপরাধের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে সর্বদা তৎপর রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে।