অসুস্থ পিতার ঋণ পরিশোধ ও সুস্থতা কামনায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, প্রশংসায় ভাসছেন যুবক
- আপডেট সময় : ১২:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
বর্তমান সময়ে যেখানে অনেকেই বৃদ্ধ পিতা-মাতার দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করেন, সেখানে অসুস্থ বাবার ঋণ পরিশোধ ও সুস্থতা কামনায় ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এলাকায় প্রশংসায় ভাসছেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার এক যুবক। বাবার কাছে কারো কোনো পাওনা থাকলে তা পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে উপজেলার পৌর শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশাযোগে মাইকিং করছেন তিনি। তার এমন উদ্যোগ স্থানীয়দের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
জানা গেছে, উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের মধুপুর আকন্দপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও কাপড় ব্যবসায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন (৯০) দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী রয়েছেন। প্রায় সাত মাস ধরে তিনি বাড়িতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। বয়সের ভার ও অসুস্থতার কারণে তার ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে পড়ায় কিছু দেনা-পাওনাও থেকে যায়।
এ অবস্থায় বাবার জীবদ্দশাতেই তার সব ঋণ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেন ছেলে মারুফ হোসেন (৩৮)। শনিবার (১৬ মে) সকাল থেকে দিনব্যাপী উলিপুর পৌর শহর, বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশায় মাইকিং করে তিনি ঘোষণা দেন,
“আমার বাবা আবুল হোসেনের কাছে যদি কারো কোনো পাওনা টাকা থাকে, তাহলে দয়া করে যোগাযোগ করুন। আমরা সেই পাওনা পরিশোধ করতে চাই। বাবার ওপর কারো হক যেন বাকি না থাকে, সেটাই আমাদের চাওয়া।”
মারুফ হোসেন জানান, তার বাবা সারা জীবন সততা ও পরিশ্রমের সঙ্গে ব্যবসা করেছেন। বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় তিনি যেন কোনো দুশ্চিন্তা ছাড়া বাকি জীবন কাটাতে পারেন, সেজন্যই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বাবা আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। এখন তার দায়িত্ব নেওয়া আমাদের কর্তব্য। যদি কারো কাছে কোনো পাওনা থাকে, আমরা তা পরিশোধ করতে প্রস্তুত।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমান সমাজে এমন দৃষ্টান্ত খুব কমই দেখা যায়। একজন সন্তানের পক্ষ থেকে বাবার ঋণ পরিশোধে প্রকাশ্যে এভাবে উদ্যোগ নেওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়। অনেকে এটিকে মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও পারিবারিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মারুফ হোসেনের এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন, এমন মানবিক দৃষ্টান্ত সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে এবং সন্তানদের পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ববোধ আরও জাগ্রত করবে।

















