ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংগ্রামী মায়ের পাশে জেলা প্রশাসন, গণশুনানিতে মানবিক দৃষ্টান্ত সাভারের লিঙ্গ বৈচিত্র্য জনগোষ্ঠীর উদ্যোক্তা ও চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয় বাঘায় একই বিছানায় স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ নান্দাইলের গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে ডিজিটাল পরিকল্পনার উদ্যোগ সেবা সহজ করতে অনলাইনে গণশুনানির আয়োজন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনে’র প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার পরদিনই গোদাগাড়ীর শীর্ষ ব্যবসায়ী আজাদ আটক শাপলার হাসি বাঘায় পদ্মার শাখা নদীতে ডুবে যুবকের মৃত্যু মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশনের বিবৃতি বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আবেগঘন বার্তা, শৈশবের ছবি শেয়ার করলেন লামিনে ইয়ামাল

গণিত সত্যের চর্চা শেখায়, সত্যের ভিত্তিতে দাঁড়াতে সাহায্য করে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৪৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
252

মাঘের শীতে বাঘে কাঁপে এমন প্রবাদ থাকলেও মাঘের শেষ সময়ে সেই শীতের দেখা নেই। রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে ঘড়ির কাঁটা তখন আটটা পেরিয়েছে। ময়মনসিংহ নগরের গাঙ্গিনারপাড় এলাকায় দেখা যায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ভিড়। ময়মনসিংহ আঞ্চলিক গণিত উৎসব ঘিরেই ছিল এই জমায়েত। আজ শুক্রবার ময়মনসিংহ নগরের গাঙ্গিনারপাড় এলাকার বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’ স্লোগান নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব-২০২৬’-এর ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পর্ব। গণিত উৎসবের ২৪তম আয়োজনে ময়মনসিংহ বিভাগের ৪টি জেলাসহ কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ খুদে গণিতবিদ উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে অংশ নেয়। সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান। গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার এবং আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ময়মনসিংহ প্রধান শাখার ডেপুটি ম্যানেজার নূরুল আমিন। পরে রঙিন বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলো ময়মনসিংহের নিজস্ব প্রতিবেদক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে গণিতচর্চায় দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

পরীক্ষায় মনোযোগী শিক্ষার্থীরা
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, প্রতিযোগিতায় জয় ও পরাজয়—দুটি ফলই থাকে। যারা নির্বাচিত হবে, তাদের অভিনন্দন। আর যারা নির্বাচিত হবে না, তাদের জন্য দ্বিগুণ শুভেচ্ছা। কারণ, তারা নিজেদের দুর্বলতা বোঝার সুযোগ পাবে। গণিত সত্য শেখায়, চিন্তার শৃঙ্খলা শেখায় এবং সমস্যা সমাধানের পথ দেখায়। অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, শিশুদের এমন আয়োজনে অংশ নিতে উৎসাহিত করার জন্য অভিভাবকদের ধন্যবাদ। প্রতিটি মেধাবী শিশুর মধ্যেই অপার সম্ভাবনা আছে। সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানো সবার দায়িত্ব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ময়মনসিংহ বন্ধু সভার সভাপতি মেহেদী হাসান ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. উজ্জ্বল। পরে শিক্ষক নাছিমা আক্তার বলেন, যারা গণিত ভালোবাসে, তারা যুক্তিনির্ভর ও সত্যবাদী হয়। প্রত্যেক মানুষই সম্ভাবনা নিয়ে জন্মায়। নিজের স্বপ্নকে বড় করতে পারলে সেই স্বপ্নের সমান বড় হওয়া সম্ভব। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপক নূরুল আমিন বলেন, ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে গণিত উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। ময়মনসিংহ কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ এখলাছ উদ্দিন খান বলেন, গণিত উৎসব শিক্ষার্থীদের গণিতভীতি দূর করে যুক্তিনির্ভর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, ‘গণিত সত্যের চর্চা শেখায় এবং সত্যের ভিত্তিতে দাঁড়াতে সাহায্য করে। আমরা সবাই গণিত শিখব এবং সত্যবাদী হব।  গণিত উৎসবে অংশ নিতে আসা ময়মনসিংহ আইডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন মোর্শেদ জানায়, ‘গণিত দক্ষতা বাড়াতে উৎসবে অংশ নিয়েছি। গণিতের সমস্যা সমাধান করতে ভালো লাগে।
ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পর্বে যোগ দেওয়া শিক্ষার্থীদের একাংশ
নেত্রকোনার দত্ত উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রেয়সী তালুকদার বলে, ‘গণিত করতে ভালো লাগে। কঠিন সমস্যায় পড়লে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা নিই। টাঙ্গাইলের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবীর জানায়, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে গণিত ভালো লাগা শুরু। পাশাপাশি প্রোগ্রামিংও ভালো লাগে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি এই উৎসবের আয়োজন করেছে। ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পর্বে প্রাইমারি, জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি—এই ৪ ক্যাটাগরিতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। অনলাইন বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী আঞ্চলিক পর্বে অংশ নেয়। এখান থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। আজকের পরীক্ষার ফলাফল পরে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গণিত সত্যের চর্চা শেখায়, সত্যের ভিত্তিতে দাঁড়াতে সাহায্য করে

আপডেট সময় : ১০:৫৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
252

মাঘের শীতে বাঘে কাঁপে এমন প্রবাদ থাকলেও মাঘের শেষ সময়ে সেই শীতের দেখা নেই। রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে ঘড়ির কাঁটা তখন আটটা পেরিয়েছে। ময়মনসিংহ নগরের গাঙ্গিনারপাড় এলাকায় দেখা যায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ভিড়। ময়মনসিংহ আঞ্চলিক গণিত উৎসব ঘিরেই ছিল এই জমায়েত। আজ শুক্রবার ময়মনসিংহ নগরের গাঙ্গিনারপাড় এলাকার বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’ স্লোগান নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব-২০২৬’-এর ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পর্ব। গণিত উৎসবের ২৪তম আয়োজনে ময়মনসিংহ বিভাগের ৪টি জেলাসহ কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ খুদে গণিতবিদ উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে অংশ নেয়। সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান। গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার এবং আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ময়মনসিংহ প্রধান শাখার ডেপুটি ম্যানেজার নূরুল আমিন। পরে রঙিন বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলো ময়মনসিংহের নিজস্ব প্রতিবেদক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে গণিতচর্চায় দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

পরীক্ষায় মনোযোগী শিক্ষার্থীরা
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, প্রতিযোগিতায় জয় ও পরাজয়—দুটি ফলই থাকে। যারা নির্বাচিত হবে, তাদের অভিনন্দন। আর যারা নির্বাচিত হবে না, তাদের জন্য দ্বিগুণ শুভেচ্ছা। কারণ, তারা নিজেদের দুর্বলতা বোঝার সুযোগ পাবে। গণিত সত্য শেখায়, চিন্তার শৃঙ্খলা শেখায় এবং সমস্যা সমাধানের পথ দেখায়। অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, শিশুদের এমন আয়োজনে অংশ নিতে উৎসাহিত করার জন্য অভিভাবকদের ধন্যবাদ। প্রতিটি মেধাবী শিশুর মধ্যেই অপার সম্ভাবনা আছে। সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানো সবার দায়িত্ব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ময়মনসিংহ বন্ধু সভার সভাপতি মেহেদী হাসান ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. উজ্জ্বল। পরে শিক্ষক নাছিমা আক্তার বলেন, যারা গণিত ভালোবাসে, তারা যুক্তিনির্ভর ও সত্যবাদী হয়। প্রত্যেক মানুষই সম্ভাবনা নিয়ে জন্মায়। নিজের স্বপ্নকে বড় করতে পারলে সেই স্বপ্নের সমান বড় হওয়া সম্ভব। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপক নূরুল আমিন বলেন, ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে গণিত উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। ময়মনসিংহ কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ এখলাছ উদ্দিন খান বলেন, গণিত উৎসব শিক্ষার্থীদের গণিতভীতি দূর করে যুক্তিনির্ভর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, ‘গণিত সত্যের চর্চা শেখায় এবং সত্যের ভিত্তিতে দাঁড়াতে সাহায্য করে। আমরা সবাই গণিত শিখব এবং সত্যবাদী হব।  গণিত উৎসবে অংশ নিতে আসা ময়মনসিংহ আইডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন মোর্শেদ জানায়, ‘গণিত দক্ষতা বাড়াতে উৎসবে অংশ নিয়েছি। গণিতের সমস্যা সমাধান করতে ভালো লাগে।
ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পর্বে যোগ দেওয়া শিক্ষার্থীদের একাংশ
নেত্রকোনার দত্ত উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রেয়সী তালুকদার বলে, ‘গণিত করতে ভালো লাগে। কঠিন সমস্যায় পড়লে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা নিই। টাঙ্গাইলের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবীর জানায়, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে গণিত ভালো লাগা শুরু। পাশাপাশি প্রোগ্রামিংও ভালো লাগে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি এই উৎসবের আয়োজন করেছে। ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পর্বে প্রাইমারি, জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি—এই ৪ ক্যাটাগরিতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। অনলাইন বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী আঞ্চলিক পর্বে অংশ নেয়। এখান থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। আজকের পরীক্ষার ফলাফল পরে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।