সাভারে নারী মাদক সিন্ডিকেটে আঘাত: ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ও ফেনসিডিলসহ দুই নারী কারবারি গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০১:০৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে নারীকে ব্যবহার করে মাদক পরিবহন ও বিক্রির প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, পুলিশের নজর এড়াতে সংঘবদ্ধ মাদকচক্রগুলো এখন নারী সদস্যদের মাধ্যমে ট্যাপেন্টাডল, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সরবরাহ ও বিপণনের কৌশল গ্রহণ করছে। এমন বাস্তবতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার (৪ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটে সাভার মডেল থানার ভরারী দক্ষিণপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশ। অভিযানে ফাতেমা বেগম (৪৫) ও আসমা আক্তার (২৪) নামে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা উভয়েই ভরারী দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৪ বোতল ফেনসিডিল এবং মাদক বিক্রির নগদ ৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ট্যাপেন্টাডলের আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা এবং চার বোতল ফেনসিডিলের মূল্য প্রায় ১২ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় ডিবি উত্তর-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই শেখ মফিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য যাচাইয়ের পর অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই নারী একটি সংঘবদ্ধ মাদকচক্রের সদস্য হিসেবে কাজ করার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা নিজেরা খুচরা পর্যায়ে মাদক বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের কাজও করতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে চক্রটির অন্যান্য সদস্য, মাদকের উৎস এবং সরবরাহ নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিল্পাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের ঘনবসতিপূর্ণ কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদকের বেচাকেনা চললেও নারী সদস্যদের ব্যবহার করায় অনেক ক্ষেত্রেই মূল কারবারিদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে মাদকচক্রগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি নারী হোক বা পুরুষ- কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। শিল্পাঞ্চলে মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং নিয়মিত বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও জানান, আটক দুই নারীর বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।











